জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কিংবা ত্বক ভালো রাখতে কম-বেশি সব নারীই বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। দৃশ্যত এগুলো ত্বক সুন্দর করে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে নারীর মেনোপজ পর্যায় নির্ধারিত সময়ের ৪ বছর আগেও শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই গবেষণা করেছেন।
প্রসঙ্গত, জন্মের সময় মেয়েদের ওভারিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম্বাণু থাকে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর প্রতি মাসে ডিম্বাণু নিঃসৃত হয়। বয়স ৫০ পার হলে ওভারিতে ডিম্বাণু শেষ হয়ে যায়। ফলে মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়। এটাই হলো মেনোপজ।
এ সময় শারীরিক নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় নারী। রাতে ঠিক মতো ঘুম না হওয়া, কাজে আগের মতো স্বতঃস্ফূর্ত ‌না থাকা আর অবসাদ তো আছেই। শরীরের এমন পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে হিমশিম খায় বেশিরভাগ নারী। মনে করেন ‘এইতো বুড়ি হয়ে গেলাম, জীবন এখানেই শেষ’।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষক জানিয়েছেন, তারা সুগন্ধি, লিপস্টিক, বডি ওয়াশ, চুলের যত্নে বিভিন্ন পণ্য, মুখের ক্রিম এবং নেইল পোলিশের উপর ৪ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। গবেষণায় তারা ৩১ হাজার ৫৭৫ জন নারীর উপর ১১১টি কেমিক্যালের প্রভাব পরীক্ষা করেছেন। এদের মধ্যে তারা ১৫টি কেমিক্যালকে ক্ষতিকর হিসেবে চিহিৃত করেন।
গবেষণায় তারা ওই নারীদের রক্ত এবং ইউরিনে ১১১ কেমিক্যালের মাত্রা বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন, সুনির্দিষ্টি কিছু কেমিক্যালের মাত্রা যেসব নারীর শরীরে বেশি পাওয়া গেছে তাদের ২ থেকে ৪ বছর আগেই মেনোপজ শুরু হয়েছে।
গবেষকরা বলেছেন, এসব ক্ষতিকারক কেমিক্যালসমৃদ্ধ প্রসাধনী শুধু নারীর সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাকেই প্রভাবিত করে না। এর ফলে হার্টের রোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায়ও আক্রান্ত হতে পারে নারী।
তারা জানান, এছাড়া এসব কেমিক্যাল নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় ও হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করে। এমনকি মেয়েদের বয়োঃসন্ধি কালকেও এগিয়ে আনতে পারে এসব কেমিক্যাল।
গবেষক দলের অন্যতম সদস্য অ্যাম্বার কুপার বলেন, আগাম মেনোপজের সঙ্গে সম্পর্কিত কেমিক্যালগুলো ওভারির কার্যক্রমকে আগেভাগে কমিয়ে দিতে পারে। আমাদের গবেষণা বলছে, এজন্য আমাদের সমাজের সবারই সচেতন হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, পিরিয়ড বন্ধের কয়েক বছর আগে থেকেই মেনোপজের লক্ষণ দেখা যায়। ৫০ বছর বয়সের পর মেনোপজ হলে একে বলা হয় ‘নরমাল মেনোপজ’। যদি ৪০ পেরোবার আগেই কোনো নারীর মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে বলে ‘প্রিম্যাচিওর মেনোপজ’। আবার যদি কোনো কারণে অপারেশন করে ওভারি বাদ দেওয়া হয় তাহলেও মেনোপজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একে বলা হয় ‘সার্জিকাল মেনোপজ’।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: