জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

মাদকাসক্তি কিংবা নেশা যাই বলি না কেন, এ এক সর্বগ্রাসী ব্যাধিরই নাম মাত্র । এ এক এমনই জিনিস যা একবার ধরলে বা তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে চট করে ছাড়া মুশকিল । অতঃপর এমন এক সময় আসে যখন মানুষ নেশার জিনিস খায় না । নেশার জিনিসই মানুষকে খেতে থাকে । হরেক রকমের নেশার জিনিস আছে, আর তা সবই আজ সহজলভ্য ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া মাদকাসক্তির ব্যাখ্যাটি অনেকটা এমন:
একজন মাদকাসক্তের মন মাদক গ্রহনের ইচ্ছায় আচ্ছন্ন থাকে । মাদক গ্রহনের মাত্রা বাড়তে থাকে দিন দিন । ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক সম্পর্ক বিধ্বস্ত হয়ে যায় । বাড়তে থাকে সামাজিক সংকটও । মাদকের জন্য তীব্র একটি আকাঙ্ক্ষা মাদকসেবীর মস্তিষ্কে আসন গেড়ে বসে । মাদক গ্রহনের বিশেষ সময়ে, বিশেষ স্থানে গেলে, বিশেষ বন্ধুদের দেখলে এবং সিরিঞ্জ হাতে পেলে মাদক গ্রহনের ইচ্ছেটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ।
অধিকাংশ সময়ই বাবা-মা বুঝতে পারেন না তাদের সন্তান কখন কী অবস্থায় মাদকনির্ভর হয়ে যাচ্ছে ৷ একেবারে শেষ পর্যায়ে যখন তীব্র শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয় তখনই কেবল বুঝতে পারেন ৷ অথচ একটু সচেতনভাবে লক্ষ্য রাখলেই বাবা-মা বা পরিবারের লোকজন প্রাথমিক অবস্থায়ই বুঝে ফেলতে পারবেন তাদের সন্তান নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে কি না ? মাদকনির্ভরতার লক্ষণ এবং নমুনাগুলো যদি প্রাথমিকভাবে ধরে ফেলা যায় তাহলে খুব সহজেই সন্তানকে স্নেহ ভালোবাসা এবং প্রয়োজনীয় চিকিত্সা ও পরিচর্যা দিয়ে সুস্থ করে তোলা যায় ।
পরিবারের কোনো সদস্য মাদকদ্রব্য গ্রহণ শুরু করছে কি না তা বোঝার জন্য কতগুলো আচরণগত পরিবর্তন খেয়াল করলেই বোঝা যাবে, যেমন –
* হঠাত্ করেই স্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তন আসতে পারে৷ অন্যমনস্ক থাকা, একা থাকতে পছন্দ করা৷
* অস্থিরতা প্রকাশ, চিত্কার, চেঁচামেচি করা৷
* অসময়ে ঘুমানো, ঝিমানো কিংবা হঠাত্ চুপ হয়ে যাওয়া ৷
* কারণে-অকারণে মন খারাপ ব্যবহার করা এবং অসংলগ্ন ও অস্পষ্ট কথাবার্তা বলা ৷
* কোথায় যায়, কার সঙ্গে থাকে – এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিরক্ত হওয়া, গোপন করা কিংবা মিথ্যা বলা ৷
* ঘর অন্ধকার করে জোরে মিউজিক শোনা ৷
* নির্জন স্থানে বিশেষত বাথরুম বা টয়লেটে আগের চেয়ে বেশি সময় কাটানো৷
* রাত করে বাড়ি ফেরা, রাতজাগা, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা৷
* হঠাত্ নতুন অপরিচিত বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করা ৷
* বিভিন্ন অজুহাতে ঘন ঘন টাকা-পয়সা চাওয়া ৷
* স্বাভাবিক খাবার-দাওয়া কমিয়ে দেওয়া৷
* অভিভাবক এবং পরিচিতদের এড়িয়ে চলা ৷
* স্বাভাবিক বিনোদন মাধ্যমে ক্রমশ আগ্রহ হারিয়ে ফেলা ৷
* বাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রমাগত টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া ৷
* ঋণ করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া ৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: