জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে অনেক সভ্যতা কিন্তু তাদের অস্তিত্ব আজো আছে ইতিহাসের পাতায়। আর কোন সভ্যতার নিদর্শন আজো পৃথিবীর বুকে টিকে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধতম ও বিখ্যাত সভ্যতাগুলোর একটি হচ্ছে ইনকা সভ্যতা । আর এই ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া একটি আধুনিক শহর হচ্ছে মাচুপিচু। এটিকে সূর্যনগরী নামেও ডাকা হয়। ইতিহাসবিদদের গবেষণায় এ শহর সম্পর্কে অজানা সব তথ্য ওঠে এলেও অনেক রহস্যেরই এখনো পর্যন্ত কূলকিনারা করতে পারেননি তারা। অনেকের ধারণা পেরুর মাচুপিচু হচ্ছে ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শন, যাকে ‘ইনকাদের হারানো শহর’ বলা হয় ।
আন্দিজ পর্বতমালা পেরুর অংশের দিকে একটি পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত ইনকাদের সেই হারানো শহর মাচুপিচু । এখন অবশ্য গোটা পাহাড়টির নাম হয়ে গেছে মাচুপিচু । সেখানে শহরটির অবস্থান ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত। অন্যদের পক্ষে এই শহর খুঁজে পাওয়া যেমন দুষ্কর ছিল, তেমনি খুঁজে পাওয়ার পর শহরটিতে আক্রমণ করতে গেলেও কেউ সুবিধা করতে পারবে না । পাহাড়ের এক পাশ চূড়া থেকে একেবারে খাড়াভাবে ৬০০ মিটার নিচে উরুবাম্বা নদীর পাদদেশে গিয়ে মিশেছে । অন্যদিকে হুয়ানা পিচু নামের আরেকটি পর্বত খাড়া ওঠে গেছে আরও কয়েক হাজার ফুট উঁচুতে। সুতরাং দুই দিক দিয়েই শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই বেশ নিরাপদ ছিল। এ কারণে শহরটিকে ইনকাদের প্রাচীন দুর্গনগরী নামেও ডাকা হয় ।
মাচুপিচু শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪০০ মিটার (৭,৮৭৫ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত । অর্থাৎ আমাদের দেশের সর্বোচ্চ চূড়া তাজিন ডং (১২৩১ মিটার) এর প্রায় দ্বিগুণ উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরটি! এত উঁচুতে কীভাবে তারা একটা আস্ত শহর তৈরি করে ফেলল সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য। তাও আবার অনেক বছর আগে। মাচুপিচু নির্মিত হয়েছিল প্রায় ৫৫০ বছর আগে, ১৪৫০ সালের দিকে । এর ১০০ বছর পরেই স্প্যানিশরা ইনকা সভ্যতা আক্রমণ করে। ধ্বংস করে ফেলে তাদের বেশির ভাগ শহরই। কিন্তু কী আশ্চর্যের বিষয় হলো ওরা মাচুপিচু শহরটি খুঁজেই পায়নি ! এদিকে মানুষজন না থাকার কারণে শহরটিও ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। কয়েকশ বছর ধরে তো মানুষ এই ঐতিহাসিক শহরটিকে খুঁজেই পায়নি । এরপর ১৯১১ সালে হাইরাম বিংহাম নামের এক মার্কিন ঐতিহাসিক মাচুপিচু শহরটি আবিষ্কার করেন ।
মাচু পিচুর এই বসতিতে শুধুমাত্র ২০০টি বাসভবন ছিল এবং সেখানে প্রায় ১০০০ এর মতো মানুষ বসবাস করতো । ধারণা করা হয়, মাচু পিচুতে আবাদযোগ্য অনেক জমি থাকায় ইনকারা এখানে বসতি স্থাপন করেছিল । কিছু প্রত্নতত্ত্ববিদগণের মতে, এখানে ইনকা জনবসতি গড়ে উঠেছিল শুধুমাত্র কোকো চাষের জন্য । কিন্তু মাচু পিচুর রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে একটু ভিন্ন তথ্য, আর সেটি হলো- বিশেষ করে ধর্ম সংক্রান্ত উৎসবাদি এবং অন্যান্য উৎসব পালন করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই শহর । এই শহরে রয়েছে অনেক ধর্মীয় উপাসনালয়, যেগুলো অতি শতর্কতার সাথে নির্মাণ করা হয়েছিল । যার মধ্যে একটি হলো- সূর্যদেবের মন্দির । যা খুব নিখুঁত পাথরের কারুকাজ দ্বারা নির্মিত একটি অর্ধবৃত্তাকার মিনার । যা মানমন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সময় কাছের ঝর্ণাতে গোসলের কাজটি সাড়া হতো । কন্ডোরের মন্দিরে ইনকার চিত্রকররা পাথরে একটি বিশালাকৃতির শকুনের ছবি খোদাই করে, যার কারণ আজও অজানা ।- তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: