জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

স্বাভাবিকভাবে ভয় বা আতংক কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। কিন্তু যখন এই আতংক হবে আপনার বয়সের সাথে বেমানান তখনই তা মানসিক ব্যধি বলে ধরে নিতে হবে। ইংরেজীতে একে বলা হয় ফোবিয়া। এর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। মনোবিজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়া চিহ্নিত করেছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক এই অদ্ভুত আতংক গুলো।
যুওফোবিয়া: ভয়ানক প্রানীকে কে না ভয় পায়? কিন্তু খুব শান্ত,এবং মিষ্টি প্রানীতেও যদি ভয় কাজ করে,তবে তাই হল যুওফোবিয়া।এই রোগীরা বিড়াল আর খরগোশের মত প্রানীকেও ভয় পায়।
সমনিফোবিয়া: এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা ঘুমোতে ভয় পায়।রাতে খারাপ স্বপ্ন কম বেশী সবাই দেখে।কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে এটি আতংক হয়ে দঁাড়ায়।আবার স্বপ্ন দেখার ভয়ে ঘুমোতে চায় না।অনবরত জেগে থাকার ফলে রোগী ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
হেলিওফোবিয়া: এটি হল সুর্যের আলোতে ভয়।ফলে এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা সারাক্ষন ঘরে বসে থাকতে চায়।যার ফলে ভিটামন ডি এর ঘাটতি জনিত রোগ দেখা দেয়।
হেফিফোবিয়া: এই রোগীরা মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠতায় ভয় পায়।এক্ষেত্রে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়।অনেক সময় বইবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরে।পরিবারের সদস্যদের লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখ্বিন হতে হয়।
এক্রোফোবিয়া: এটি হল উচ্চতায় ভয়।এই সমস্ত রোগীরা উচুঁ স্থানে যেতে ভয় পায়।গুরুতর পর্যায়ে রোগীরা বিছানার সাধারন উচ্চতায় ভয় পেতে থাকে।ফলে নিচে শুতে চায়।এরা ভাবে উচুঁতে উঠলেই পড়ে যাবে।
আরগোফোবিয়া: বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়ার মাঝে এটি সবচেয়ে মারাত্তক।চিকিতসকরা বলেন,এটি অনেকগুলো আতংকের সম্মিলিত রূপ।যেমন:মানুষের সংস্পর্শে ভয়,কাজের ভয়, শব্দে ভীতি,ইত্যাদি।
এব্লুটোফোবিয়া: এটি এক ধরনের জলাতংক।এই রোগীরা পানি দেখলে ভয় পায়।তাই অনেক সময় গোসল করতে চায় না।
অটোফোবিয়া: একা হয়ে যাবার ভয়।পরপর প্রিয় কিছু মানুষের চলে যাওয়া বা মৃত্যু এই রোগের জন্ম দিতে পারে।তাই সব সময় একা হয়ে যাবার ভয়ে থাকে।কেউ তার সংস্পর্শে আসলে তাকে আর ছাড়তে চায় না,একেবারে হারিয়ে ফেলার ভয়ে।
এক্লুওফোবিয়া: ছোটো শিশুরা অন্ধকারে ভয় পাবে তাই স্বাভাবিক।কিন্তু একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ যদি অন্ধকারের ভয়ে রাতে বের না হয় তবে এটি এক্লুওফোবিয়ার লক্ষন।
টোকোফোবিয়া: গর্ভধারনজনিত ভয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি সন্তান জন্মদানের ভয়,আবার অনেক রোগির ডেলিভারী শব্দটিতেই ভীতি রয়েছে।এই রোগ নারীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ভয়াবহভাবে ব্যাহত করে।
মানুষের জীবনের জটিলতা যত বাড়ছে,মানসিক সমস্যাও বেড়ে চলেছে তার দ্বিগুণ হারে।তবে মনো চিকিতসকরাও বসে নেই।তারাও করে চলেছেন বিভিন্ন ধরনের কাওন্সিলিং।আমাদের দেশে অনেক মানুষই লজ্জা পান এই ধরনের রোগ নিয়ে ডাক্তারের সরণাপন্ন হতে।ফলে সাধারন একটি রোগ থেকে জন্ম নেয় ভয়াবহ রোগ।তাই এ সমস্ত রোগ নিয়ে লজ্জা না পেয়ে, সচেতন হওয়া উচিত।
সূত্র:উইকিপিডিয়া ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: