জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

অনন্যা আক্তার: আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনি আপনার প্রেমিকাকে কতটা ভালবাসেন? আমি নিশ্চিত আপনি বলে উঠবেন, “সামর্থ্য থাকলে ওর জন্যে একটা তাজমহল বানাতাম।”
শুধু আপনি-ই নন। যখনি আমাদের প্রেমিকেরা তাদের প্রেমিকার প্রশ্নের জালে জর্জরিত হয়, কোনোভাবেই নিজের ভালবাসার দের্ঘ্য প্রস্থ প্রমান করতে পারেন না, ঠিক তখনি আশ্রয় নেন এই তাজমহলের। যেন ভালবাসার সর্বোচ্চ প্রকাশ এই মহলটি।
আমাদের কবিগুরু রবিঠাকুর, এই মহলকে “ইতিহাসের গালে অশ্রু” বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু কেন? এমন হাজার প্রশ্ন হয়ত আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে চলুন, জেনে নিই তাজমহল সম্পর্কে কিছু তথ্য।
তাজমহল সারাবিশ্বে প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি, এক স্বামীর ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির তরে গড়ে তুলেছেন এই সৌধ। তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের ৩য় স্ত্রী। জানা যায় যে, সম্রাজ্ঞী তার চতুর্দশ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নানা জটিলতায় মারা যান। তারপর প্রায় কয়েক সপ্তাহ সম্রাটকে রাজদরবারে দেখা যায়নি। তারপর তিনি এই মহলটি নির্মাণ শুরু করেন।
এই সৌধটির নকশা করা হয় মুসলিম স্থাপত্য পারস্য, তুর্কি এবং ভারতীয় স্থাপত্যকলার অনুকরণে। সাদা মার্বেল পাথরের উপর প্রায় ২৮ ধরনের মূল্যবান পাথর বসানো হয়। এই নকশা মহলটিকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। এতে করে মহলটি সকাল বেলা হালকা গোলাপী, সন্ধ্যায় দুধসাদা, এবং রাতে ধূসর দেখায়।
মহলটি তৈরী করতে প্রায় ২২,০০০ শ্রমিকের ১৭বছর লেগেছিল। আর ব্যবহৃত উপকরন বহনের জন্য ১০০০ হাতি ব্যবহৃত হয়েছিল। জানা যায়, সম্রাট নাকি নদীর অপারে আরেকটি মহল বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার পূর্বেই তিনি তার পুত্র কর্তৃক বন্দী হন।
সবচাইতে গুরুত্ত্বপুর্ণ তথ্য হল, শাহজাহান মহল নির্মান শেষে সকল শ্রমিকদের আঙ্গুল কেটে দেন যাতে মহলের কোনো নকল না বানাতে পারে।অনেকেই তার কাজের সমালোচনা করে থাকেন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সম্রাট শাহজাহান তার ভালোবাসার সাথে সাথে অসাধারন রুচিবোধেরও পরিচয় দিয়েছেন। তাইতো ১৯৮৩ সালে বিশ্বের ৭টি সেরা ঐতিহ্যের মাঝে স্থান করে নেয় মহলটি।
জানিনা সম্রাজ্ঞী তার তরে সম্রাটের এই ভালবাসার প্রকাশ দেখছেন কিনা, তবে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রেমের পূজারী সম্রাটের এই নিদর্শন দেখতে ভিড় জমান ভারতের আগ্রায়।-সূত্র: ইএন.এম, উইকিপিডিয়া ও আরজি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: