জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

রাতের পর রাত কণ্যাকে যৌনঅত্যাচার করত ডাক্তার পিতা মায়ের সামনেই ছোট মেয়েকে রাতের পর রাত শয্যাসঙ্গী করে নিত বাবা ৷ রেহাই পেত না বড় মেয়েও ৷ আপত্তি জানালেই চলত মারধর ৷ এমনকি, স্ত্রীকে সবক শেখাতে মানসিক হাসপাতালেও পাঠিয়েছিলেন চিকিতসক স্বামী৷ শেষমেশ মাকে নিয়ে পুলিশের কাছে এসে বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছেন মেডিক্যালের ছাত্রী৷ অভিযুক্ত নিউ আলিপুর ও হাওড়ায় দু’টি নার্সিংহোমের ইএনটি চিকিৎসক ৷ দক্ষিণ শহরতলির মহেশতলা থানার ডাকঘর এলাকার ঘটনা৷ অভিযুক্ত পলাতক৷
ডাক্তারির (কোন মেডিক্যাল কলেজ, তা গোপন রাখা হল) ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তাঁর উপর যৌন নির্যাতন শুরু করে বাবা৷ এমনকি, বাবার লালসা থেকে দিদিও রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ তাঁর৷ দিনের পর দিন দুই বোনের উপর বাবা অত্যাচার চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি ৷ 
প্রথম দিকে মা কিছু না-জানতে পারলেও, পরে স্বামীর কুকীর্তি ফাঁস হয় তাঁর কাছে ৷ প্রতিবাদ করলে স্ত্রীকে ওই চিকিতসক বেধড়ক মারধর করতেন ৷ চোখের সামনে মেয়েদের খোদ বাবার যৌন লালসার শিকার হতে দেখেও ভয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন ওই মহিলা ৷ ইচ্ছের বিরুদ্ধে গেলে দুই বোনকেও মারধর করতেন গুণধর ৷ স্বামীর হাত থেকে বাঁচাতে বড় মেয়েকে আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দেন মা ৷ এতে স্ত্রীর উপর খেপে যান ওই চিকিৎসক ৷
অভিযোগ, নিজের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করে কলকাতার একটি মানসিক হাসপাতালে রেখে আসেন তিনি ৷ পরে সেখান থেকে সোনারপুরের একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন স্ত্রীকে ৷ কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ ওই মহিলা সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে যান ৷ ততদিনে বাবার যৌন অত্যাচারে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন মেয়ে৷ এ বার মা-ই সাহস জোগান ৷ 
২০১২ সাল সেটা ৷ মেয়েকে পড়াশুনোর জন্য বিশাখাপত্তনম পাঠিয়ে দেন মা ৷ সেখান থেকে পাশ করে এ বছরের প্রথম দিকে ফিরে আসেন ওই ছাত্রী৷ জানতে পারেন, বাবার হাত থেকে বাঁচাতে দিদির বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন মা ৷ ইতিমধ্যে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ আসে৷ বাবা শুধরে গিয়েছেন মনে করে মাকে নিয়ে মহেশতলার বাড়িতে ফেরেন তিনি ৷
অভিযোগ, দিন কয়েক পরই আসল রূপ বেরিয়ে পড়ে বাবার ৷ ফের মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন শুরু করেন ওই চিকিৎসক ৷ প্রতিবাদ করলে ফের আগের মতো মারধর করেন স্ত্রীকে ৷ শেষমেশ ৩ ডিসেম্বর বাবার হাত থেকে বাঁচতে মাকে নিয়ে গোপনে বাড়ি ছাড়েন মেডিক্যালের ওই ছাত্রী ৷ কখনও কোন আত্মীয়, কখনও বা বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে আশ্রয় নেন ৷ আইনজীবীর সহায়তায় বৃহস্পতিবার মাকে নিয়ে মহেশতলা থানায় এসে বাবার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি ৷ 
নির্যাতিতা ছাত্রী ও তাঁর মায়ের কথায়, এ অন্যায়ের কোনও ক্ষমা নেই৷ বাবা হিসেবে স্বামী হিসেবে ভাবতে ঘেন্না লাগছে৷ ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই৷আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা বলেন, পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে ৷ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হোক ৷দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএসপি অজয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ধর্ষণের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে ৷অভিযুক্তের খোঁজ চলছে৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: