জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

চকোলেট সম্বন্ধে গুঞ্জনের শেষ নেই। শিশুদের অতিরিক্ত আসক্তি, অনেক সময় বাড়তি ওজন থেকে শুরু করে আরও অনেক বিপদ ডেকে আনে। শুধু শিশুরাই নয়; সকল বয়সীদের চকোলেটে আসক্তি আছে। কিন্তু চকোলেট কি আসলেই বিপজ্জনক! আমরা জানি চকোলেটের মূল উপাদান কোকা। কোকাতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান আমাদের কী কী কাজে লাগে দেখা যাক-
রক্তচাপ কমায়
কোকাতে থাকা ফ্লাভানল রক্তচাপ কমায়। ফ্লাভানল শরীরকে উত্তেজিত করে। ফলে রক্তে নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি হয়, যা ধমনীতে রক্ত চলাচলের বাধা দূর করে। অস্ট্রেলিয়ান গবেষকদের মতে, নিয়মিত চকোলেট খাওয়া লোকদের সিস্টোলিক ব্লাডপ্রেশার (হৃৎপিণ্ড থেকে বের হয়ে যাওয়া রক্তের চাপ) এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাডপ্রেশার অনেক কম, যদিও অতিরিক্ত চকোলেট খাওয়ার কারণে শতকরা একভাগ লোকের মধ্যে হালকা পেটেব্যথা পাওয়া গেছে।
হৃৎপিণ্ডের নালী সংস্কার
নিয়মিত চকোলেট হৃৎপিণ্ডের নালীগুলোকে ক্রমাগত সংস্কার করতে থাকে। ফেডারেশন অব আমেরিকান সোসাইটি ফর এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি প্রকাশিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রতিদিন ৭০ গ্রাম করে চকোলেট খেলে রক্ত সঞ্চালনের নালীগুলো অনেক ভালো থাকে। কালো চকোলেট রক্তনালীকে অনেক নমনীয় রাখে এবং শ্বেত রক্তকণিকার আঠালো ভাব কমায়। এ দুটির ব্যতায় হলে বেশিরভাগ সময় রোগীদের হার্ট ব্লক হয়।
লিভার নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করে
চকোলেটে থাকা ফ্লাভানল এবং এর কারণে তৈরি হওয়া নাইট্রাস অক্সাইড ধমনীকে প্রশস্ত করে, ফলে রক্তচাপ কম থাকে। লিভারের সঙ্গে সংযুক্ত ধমনীতে উচ্চ রক্তচাপ লিভারের বিভিন্ন রোগ এবং এর নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। প্রাথমিক কিছু গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, কালো চকোলেট লিভারে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এই মুহূর্তে গবেষকদের লক্ষ্য- চকোলেট কি আদৌ লিভার নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে কি-না!
ভালো কোলেস্টরেল বাড়ায়
কোকাতে পলিফেনল নামে একটি রাসায়নিক উপাদান আছে। কালো চকোলেট যেগুলোতে উচ্চমাত্রায় পলিফেনল আছে, তা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টরেল বাড়ায়। কোকাতে প্রধানত স্টিয়ারিক এসিড ও অলিক এসিড বিদ্যমান। যদিও স্টিয়ারিক এসিড এক ধরনের স্যাচুরেটেড ফ্যাট; কিন্তু বেশিরভাগ স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের মতো এটি রক্তের কোলেস্টরেল বাড়ায় না। অলিক এসিড এক ধরনের মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা কোলেস্টরেল তো বাড়ায়ই না বরং কমায়।
হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে
বিএমজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, চকোলেটের কারণে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার পরিবর্তনগুলোর (যেমন রক্তচাপ কম থাকা, রক্তনালী বেশি পরিমাণে উম্মুক্ত থাকা, রক্তনালীতে প্রদাহের কারণে ফুলে না যাওয়া) কারণে আমাদের হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে এবং হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অসুখ কম হয়। ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষের ওপর চালানো এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা চকোলেট খায় না তাদের তুলনায় চকোলেট খাওয়া লোকদের স্ট্রোক ও হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ ৩৭ ভাগ কম হয়।
মন ভালো থাকে
জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলোজি পরিচালিত এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, দিনে কমপক্ষে ৪২ গ্রাম কালো চকোলেট খেলে শরীর-মন সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি চাঙ্গা থাকে। কারণ চকোলেট খেলে মানুষের মস্তিষ্ক সেরটোনিন ও অ্যান্ডোরফিন নামে মন ভালো রাখার এবং স্বতঃস্ফূর্ত থাকার জন্য খুব জরুরি দুটি রাসায়নিক উপাদান নিঃসরণ করে।
মস্তিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, চকোলেট আমাদের চারপাশের মানুষদের চেয়ে বেশি স্মার্ট হতে সাহায্য করে। জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত ৭০-৭৪ বছর বয়স্ক ২০৩১ জন নরওয়েজিয়ানের ওপর ‘চকোলেট খাওয়া এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার মধ্যের সম্পর্ক’ বিষয়ে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, চকোলেট না খাওয়া লোকেদের চেয়ে চকোলেট খাওয়া লোকেরা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে অনেক বেশি দক্ষ।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
আর্কাইভ অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত প্রায় এক হাজার ব্যক্তির ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যসব খাবারের সঙ্গে সপ্তাহে তিন থেকে চারবার চকোলেট খাওয়া লোকেরা কদাচিৎ চকোলেট খাওয়া লোকদের চেয়ে অনেক স্লিম।
ত্বক ভালো থাকে
চকোলেট সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হলো এটি ত্বক কালো করে ফেলে। কিন্তু গবেষকরা চকোলেটে এমন কিছু উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো বরং সূর্যের আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করে। জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে সব মানুষ কমপক্ষে ১২ সপ্তাহ প্রতিদিন ২০ গ্রাম কালো চকোলেট খেয়েছেন তারা আলট্রাভায়োলেট রশ্মির সামনে ত্বক লাল হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ সময় থাকতে পারেন। অর্থাৎ সাধারণের চেয়ে সূর্যের আলোতে তাদের ত্বকে ক্যান্সার ও অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেক।

লেখক : মাহবুব সুমন। পড়াশোনা- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বর্তমানে আরএমজি খাতে এনার্জি কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। নির্বাহী পরিচালক, এসইউএনইসি। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে তার লেখা একটি বই সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সিবিএস। এ ছাড়া ‘প্রতিবেশ আন্দোলন’ নামের পরিবেশবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: