জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

কোন প্রকাশ ছাড়াই নষ্ট হয়ে যেতে পারে অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ কিডনি (বৃক্ক)। ফলে নষ্ট না হলে আমাদের দেশে সাধারণত কেউ কিডনি-সংক্রান্ত কোনো চিকিৎসা বা পরীক্ষা করতে যায় না। কিডনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি এমন একটি অঙ্গ যা ৭০ শতাংশ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো লক্ষ্মণ প্রকাশ করে না। সে জন্য সবাই উচিত কিডনির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে জেনে নেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ এ অঙ্গটি কী অবস্থায় আছে।

১৫ কোটি মানুষের মধ্যে ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি জটিলতায় ভুগছে। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে ৭০ শতাংশই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। নষ্ট হয়ে গেলে ডায়ালাইসিস ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। বিকল্প হলো কিডনি প্রতিস্থাপন করা। ডায়ালাইসিস অথবা প্রতিস্থাপন দুটো চিকিৎসাই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিডনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে হলে বছরে কমপক্ষে একবার করে কিডনি পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) মতে, বাংলাদেশে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার কারণে মৃত্যু বরণ করে। ব্যয়বহুল হওয়ায় ৯০ শতাংশ কিডনি রোগী মৃত্যুবরণ করে চিকিৎসা করতে না পেরে। অথচ বছরে কমপক্ষে একবার করে কিডনি পরীক্ষা করে নিলে মৃত্যু যেমন এড়ানো সম্ভব তেমনি কিডনি চিকিৎসা করতে গিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয় না।
বিশিষ্ট কিডনি বিশেষজ্ঞ জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (নিকডু) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: ফিরোজ খান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কিডনি চিকিৎসায় রয়েছে নানা সমস্যা। এখানে অবকাঠামো সমস্যাও অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সরকারিভাবে শেরেবাংলা নগরের কিডনি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিডনির চিকিৎসা হয়। এ ছাড়া বিএসএমএমইউ ও বারডেমেও হয়ে থাকে তবে এটা ব্যয়বহুল।
কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য কিছু ফ্লুইড সরকারিভাবে মহাখালীর আইপিএইচ তৈরি করে। কিছু ফ্লুইড বিদেশ থেকে আনতে হয়। এ ফ্লুইড জীবনরক্ষাকারী হলেও এটা ভ্যাট ও ট্যাক্সমুক্ত নয়। কিডনি প্রতিস্থাপনে রয়েছে নানা প্রতিকূলতা ও বাধা। এ সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে পাঠানো হলেও গত দেড় বছরেও আইনটি করা হয়নি। ফলে মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশ চলে যাচ্ছে। ফলে চলে যাচ্ছে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা।
কিডনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিডনি শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণ করে। একই সাথে রক্তের পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে। কিডনি সমস্যা হলে তা চিকিৎসায় দূর করতে না পারলে মানুষের শরীরে উচ্চরক্তচাপ (হাই ব্লাডপ্রেশার), রক্তস্বল্পতা, নার্ভ সিস্টেমকে নষ্ট করে দিয়ে থাকে। হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়, ডায়াবেটিসও হয় কিডনিতে সমস্যা থাকলে।
কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন শরীরে পাঁচটি লক্ষ্মণ প্রকাশ পেলে কিডনি সমস্যা হতে পারে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে অথবা প্রস্রাবে বেশি করে ফেনা হলে অথবা প্রস্রাবের সাথে রক্ত বেরোলে কিডনিতে সমস্যা হতে পারে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: