জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

কোলেস্টরেলের ভয়ে অনেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন মাখনকে। কিন্তু নতুন গবেষণায় ভিন্ন কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা। তারা গবেষণায় ফল তুলে ধরেছেন যা মাখনকে আবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফিরিয়ে আনতে বলছে।

আবারো বিবেচনায় মাখন :
১৯২০ এবং ১৯৩০ এর দশকে নারী-শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। তখন নারী-শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য মাখনকে পছন্দ করেন বিজ্ঞানীরা।
১৯৬০ এর দশকে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন মাখনকে হুমকি বলে ঘোষণা দেন। কারণ একে থাকা সম্পৃক্ত ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ১৯৮০ এর দশকে ইউএসডিএ সুস্বাস্থ্যের জন্য সম্পৃক্ত ফ্যাট, সাধারণ ফ্যাট এবং কোলেস্টরেলকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে উৎসাহ জোগায়।
‘দ্য বিগ ফ্যাট সারপ্রাইজ :
হোয়াই বাটার, মিট অ্যান্ড চিজ বিলং ইন আ হেলদি ডায়েট’ বইয়ের লেখক নিনা টিকোলজ বলেন, বিগত অর্ধশতাব্দি ধরে এই ধারণাটিই গ্রহণ করেছেন সবাই।
কিন্তু সেই বিজ্ঞান আর বিপরীত দিকে মোড় নিয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যা সম্পৃক্ত ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণ করে। একই কথা বলেছে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এর ২০১০ সালের এক মেটা-অ্যানালাইসিস।
অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেকটিকস এর মুখপাত্র লিবি মিল বলেন, মাখনে যে ফ্যাট থাকে তা খাবারের ভিটামিন এবং অন্যান্য উপাদান সহজে গ্রহণ করতে দেহকে সহায়তা করে।
এ ছাড়া মাখনে কনজুগেটেড লিওলেনিক এসিড থাকে যা নারীদের অন্ত্র ও স্তন্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। মাখনে রয়েছে ভিটামিন এ, ই, ডি এবং কে। এগুলো সবই ফ্যাট-সল্যুবল ভিটামিন যা দেহে জমা থাকে। আবার সম্পৃক্ত ফ্যাট দেহে উপকারী কোলেস্টরেল তৈরি করে।
বাটার বনাম কার্ব :
উচ্চমাত্রার কোলেসটরেল, ক্লগড আর্টেরিস, আর্থেরোস্ক্লেরোসিস এবং ওবেসিটি দায় চাপানো হয় মাখনের ওপর। কিন্তু এগুলো কার্বোহাইড্রেট উৎপন্ন করে যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
কিন্তু সম্পৃক্ত ফ্যাট সরাসরি ধমনীতে যায় না। উচ্চমাত্রার ইনসুলিন এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নামের এক ধরনের ফ্যাট লিভার ও কিডনিতে সমস্যার মূল কারণ। কাজেই এর জন্য মাখন দায়ী নয়।
কতটুকু স্বাস্থ্যকর? :
ওলিভ ওয়েল, অ্যাভাকাডো, বাদাম এর মনোস্যাটুরেটেড ফ্যাট এবং সূর্যমুখী তেল এংব চর্বিযুক্ত মাছের তেলের
পলিস্যাটুরেটেড ফ্যাট দেহের জন্য উপকারী। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ফ্যাট থেকে ৫ শতাংশ পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করা হলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি ৯ শতাংশ কমে যায়। মাখনে যে সম্পৃক্ত ফ্যাট থাকে তার চেয়ে ভালো ফ্যাট আর হয় না।
টিকোলজ জানান, বিজ্ঞানীরা মাখন সম্পর্কে যে ধারণা এতদিন পোষণ করে আসছিলেন তার বিপরীত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই নিশ্চিন্তে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় এখন থেকে রাখতে পারেন মাখন।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: