জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

প্রবাদে আছে, বংশ রক্ষার দায়িত্ব পুরুষের ওপর চাপিয়ে দিলে পৃথিবী নিশ্চিহ্ন হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কথাটা যে অযৌক্তিক নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন চীনের পুরুষরা। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়েদের কতটা কষ্ট হয়, তা বোঝাতেই হবু বাবাদের তলপেটে যন্ত্রের সাহায্যে ব্যথা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

প্রবাদে আছে, বংশ রক্ষার দায়িত্ব পুরুষের ওপর চাপিয়ে দিলে পৃথিবী নিশ্চিহ্ন হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কথাটা যে অযৌক্তিক নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন চীনের পুরুষরা। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়েদের কতটা কষ্ট হয়, তা বোঝাতেই হবু বাবাদের তলপেটে যন্ত্রের সাহায্যে ব্যথা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফলাফল, মিনিটখানেকও সহ্য করতে পারলেন না তারা। অসহ্য ব্যথার চোটে তো অনেকেকেঁদেও ফেলেন! পূর্ব চীনের শ্যানডং প্রদেশের জিনান শহরের একটি হাসপাতালে ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে এ ব্যথা অনুভূতির সৃষ্টি করা হয়। নারীদের বাচ্চা প্রসবের সময় যে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়, তা আন্দাজও করতে পারেন না পুরুষরা। তাদের মধ্যে এ বোধ সৃষ্টি করতেই আয়োজন করা হয় এমন অভিনব কিছুর। স্বেচ্ছাসেবামূলক এ কাজে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন গর্ভবতী নারীদের স্বামী কিংবা সঙ্গী।পুরুষের ‘প্রসব বেদনা’!
কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে পুরুষের চোখে নারীর কদর বাড়বে। হাসপাতালটির একজন মুখপাত্র জানান, গর্ভাবস্থায় পুরো নয় মাস নারীদের কী পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ।প্রসব বেদনার অনুরূপ ব্যথা সৃষ্টি করতে হাসপাতালের টেকনিশিয়ানরা প্রযুক্তির সাহায্যে তলপেটে বৈদ্যুতিক শক দেন। ব্যথার ভয়ে ভীত কিছু পুরুষকে তাদের সঙ্গীরা টেনেহিঁচড়ে মেশিনের কাছে আনতে দেখা গেলেও অনেকে উৎসাহীও ছিলেন। এমনই এক হবু বাবা ২৯ বছর বয়সী গুয়াং লিয়াও। তিনি বলেন, ‘আমার তিন মাসের গর্ভবতী স্ত্রীই এ প্রকল্প সম্পর্কে জানায়। অনেকটা কৌতূহলবশতই আমি এতে অংশ নিয়েছিলাম। তবে এখন নির্দি্বধায় স্বীকার করতে পারি, আজ যে ব্যথা পেলাম, তা সত্যিই অবর্ণনীয়। প্রসববিষয়ক ধ্যান-ধারণাই পাল্টে দিয়েছে এটি।’
চীনে এমন প্রকল্প যে এই প্রথম হাতে নেওয়া হয়েছে, তা কিন্তু নয়। এর আগে মা দিবসে দক্ষিণ চীনের জিয়াংজি প্রদেশের ন্যানশ্যাং শহরে এমন আয়োজন করা হয়েছিল। আর এক টিভি শোর মাধ্যমে প্রচারিত সে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন জনাবিশেক পুরুষ। সে সময় ৫০ থেকে ৫০০ মাত্রার ব্যথাকে ১০ ধাপে ভাগ করে তাদের চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। শক সহ্য করতে হয়েছিল সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড। হবু বাবারা তাতেই কাবু। অথচ নারীদের এ ব্যথা সহ্য করতে হয় সর্বনিম্ন এক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত! আয়োজকদের দাবি, মায়েদের মহত্ত্ব এ থেকেই বোঝা যায়।
সমকাল – ডেইলি মেইল অবলম্বনে।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: