জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

দুঃস্বপ্নের মতো শুনতে লাগলেও, এই ঘটনা এখন চরম বাস্তব ভারতের মধ্য প্রদেশের এক বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে। শুধু পুত্র সন্তান চাওয়ার প্রচীন সংস্কার এখনো জাঁকিয়ে বসে আছে রাজ্যটির বেশ কিছু জায়গায়। কন্যা সন্তানরা এখানে ব্রাত্য। বহুদিন ধরে ব্যাপক হারে কন্যাভ্রুণ হত্যার ফলে মধ্যপ্রদেশের বেশ কিছু জেলায় লিঙ্গ ভারসাম্য মারাক্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

আশোকনগর ও গুনার মতো জেলায় পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে। ফলে বিয়ের জন্য কনে পাওয়ার তাড়নায় নারী পাচারকারীদের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকই। চলছে মেয়ে বেচাকেনা। যাদের সামর্থ একটু কম,‘কনের বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে গরু গরু-মহিষ নিচ্ছেন নারী পাচারকারীরা।

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের অশোকনগরের সাদোরা গ্রাম থেকে এরকমই তিনজন মেয়েকে উদ্ধার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। প্রত্যেকের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তাদের মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলা থেকে আনা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, একটি মেয়েকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মহিষের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল। বাকি দুজনের দাম ধার্য হয়েছিল যথাক্রমে ৩৫ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা। সঙ্গে একটি করে মহিষ। প্রথম স্বামী ভাল ব্যবহার না করায় তৃতীয় মেয়েটি এজেন্টের কাছে পালিয়ে যায়। তাকে আবার ৩৫ হাজার টাকায় অন্যত্র বিক্রি করা হয়। উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন চন্দ্রপুরের রামনগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার যোগেশ পারদি। 
 তিনি জানান, ওই মেয়েদের যারা কিনেছিল, তাদের গ্রেফতার করা হবে। অন্য দুই জন বিক্রি হয়ে যাওয়া নাবালিকার সন্ধানে মধ্যপ্রদেশে এসেই ওই তিনজন মেয়ের সন্ধান পায় মহারাষ্ট্র পুলিশ। পারদি আরো বলেন, ‘সারদা গ্রামের আরো একজনের কাছে থেকে কনের দাম হিসাবে নারী পাচারকারীরা ৭৫ হাজার টাকা চায়। শেষে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মহিষের বিনিময়ে রফা হয়। পুলিশের ধারণা, কোনো আন্তঃরাজ্য নারী পাচার চক্র এর সঙ্গে জড়িত। 
পারদির মতে, এই চক্রের এজেন্টদের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিটি তহশিলে অন্তত দু’জন করে এজেন্ট রয়েছে,দাবি পারদির। এই ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, তা ভেবে পাচ্ছে না পুলিশ। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই মেয়েরা আসে অত্যন্ত গরিব পরিবার থেকে। টাকার বিনিময়ে তাদের পরিবারের মুখ বন্ধ রাখে পাচারকারীরা।
ফলে এ সন্ত্রান্ত অভিযোগও খুব একটা জমা পড়ে না। মেয়েগুলোকে কেনার পর অনেকেই তাদের স্ত্রীর মতো রাখে। সেটাকেই অনেকে নিয়তি মেনে নেয়,পুলিশকে জানায় না। তবে এই ধরনের নারীপাচার ও কেনাবেচার কথা অস্বীকার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। অশোকনগর জেলার পুলিশ সুপার কুমা সৌরভ জানান, তিনি এ রকম কোনো অভিযোগ পাননি। জেলার অন্য রাজ্য থেকে আসা মেয়েদের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও,তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে নারাজ নাইসরাই থানার ইনচার্জ আর কে পাচোলি। 
 তিনি বলেন,‘ইশাগড় গ্রামের দুইজন ওড়িশার মেয়ে বিয়ে করেছেন। কিন্তু মেয়ে দুটি আনন্দেই আছে। হিন্দিও শিখছে। পাচারের ঘটনা হলে এমনটা হতো কী? যদিও নারী পাচার বিরোধী আন্দোলনকারীরা পাচোলির কথা মোটেও বিশ্বাস করছেন না।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: