জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে এক কুমারী মা তার নবজাতককে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। হেমন্তের রাতে মৃদু কুয়াশার মধ্যে শিশুর কান্না শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

পরে তাকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুকন্যাটি। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে ওই শিশুর মাকে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু মা তার সন্তানকে কোলে তুলে নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।

গতকাল সোমবার সেই শিশুটি আইনগতভাবে এক নিঃসন্তান দম্পতির কোলে ঠাঁই পায়। শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলর মো. দুদু মিয়া বলেন, ‘গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় মরণ দাস নামের এক ব্যক্তি আমাকে ফোনে জানান, একটি শিশু ধানক্ষেতে পড়ে আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাই এবং শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে শিশুর মাকেও বের করা হয়। পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির সামনে কুমারী মা তার সন্তানকে আর গ্রহণ করবে না বলে জানায়। পরে অনেকে শিশুটিকে আইনগতভাবে দত্তক নেওয়ার জন্য রাজি হয়। পরে একটি সচ্ছল পরিবারের কাছে শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয়।’ 
 শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. বি এস এম এরশাদ বলেন, ‘অজ্ঞাতপরিচয় ওই শিশু গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ভর্তি হয়েছিল। রবিবার সকাল ৯টায় হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে সে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল।’ শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, ‘মা তার সন্তানকে লালন-পালন করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আইনগতভাবে দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
কালের কন্ঠ
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: