জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

sexlifeসম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষ ব্যস্ত এবং সফল স্ত্রীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে সম্পর্কে যোজন যোজন দুরত্ব সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি পরিচালিত এই জরিপে সফল স্ত্রীদের সম্পর্কে স্বামীদের ভাবনা, স্ত্রী এবং মা হিসেবে তাদের আচরণ ও দায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়ও উঠে এসেছে।

সম্পর্ক বিশ্লেষক সীমা হিঙ্গোরানি বলেন, ‘যখন নারীরা তাদের স্বামীদের চেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি পুরুষদের ইগোতে আঘাত করে। এর ফলে তাদের দাম্পত্য জীবন প্রভাবিত হয়। পুরুষরা কখনোই তার চেয়ে বেশি সফল নারীকে জীবনসঙ্গী করে একসঙ্গে থাকতে চায় না।’

এমন পরিস্থিতি অনেক স্বামী তাদের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।

বিজ্ঞাপনে কর্মরত মিনতি পান্ডে বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স পাঁচ বছর। ওর দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়ে স্বামীর সঙ্গে আমার প্রায় তর্ক হয়। আমি ওকে (স্বামী) বোঝানোর চেষ্টা করি আমাদের সন্তানের বয়স এখন পাঁচ। হোমওয়ার্ক করা এবং নিজের খেয়াল রাখার মতো বয়স ওর হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী তার সিদ্ধান্তে অনড় যে আমি যেনো সন্তানকে রেখে কোনো কাজে না যাই।’

অনেক ক্ষেত্রে স্বামীদের চেয়ে স্ত্রী বেশি উপার্জন করবে এতে পুরুষরা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। এজন্যে তারা চায় স্ত্রীরা যেনো বাড়িতেই থাকে। পুরুষরা সাধারনত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নারী বাইরে কাজ করবে এটি পচ্ছন্দ করে।

পুরুষদের পচ্ছন্দ নারীরা বাড়িতে থাকবে এবং সন্তানের দেখাশুনা করবে। এছাড়া যদি চাকরি করে তবে নিরাপদ কিছু পেশা যেমন শিক্ষকতা, লাইব্রেরিয়ান ইত্যাদি অথবা এমন কোনো চাকরি যেখানে কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট।

বেশিরভাগ মনোবিদ মনে করেন, স্ত্রীর সফলতা থেকে সৃষ্ট দুরত্বে পুরুষের ‘ইগো’ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। অনেক পুরুষ আবার নারীদের এমন সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়।

তবে স্ত্রীর সফলতায় খুশি হয় এমন স্বামীর সংখ্যাও কম নয়। অনেকেই আছেন যারা স্ত্রীর সফলতা খুশি হন এবং তাকে সহায়তাও করেন।

তবে একটি বিষয় সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে, শ্রদ্ধাবোধ থেকেই আসে পারস্পরিক বোঝাপড়া। সকলকে অবশ্যই বুঝতে হবে আপনার স্ত্রী একজন স্বাধীন মানুষ এবং তার একটি স্বাধীন মন রয়েছে। সুতরাং তার অবশ্যই নিজের ক্যারিয়ার এবং জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহনের অধিকার রয়েছে।

স্ত্রীর সম্পর্কে আপনি কী ভাবছেন, সেটি তার সঙ্গে শেয়ার করুন। যদি এমনটি হয় সম্পর্ক নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাহলে সেটিও তাকে জানান। এভাবেই আপনাদের দাম্পত্য জীবন আরও সুন্দর হবে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: