জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

sleeplessসম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত্যুর পরও তিন মিনিট পর্যন্ত মৃত ব্যাক্তির মস্তিষ্ক সচল থাকে! অর্থাৎ মানুষ মারা যাওয়ার পরও তিন মিনিট বেঁচে থাকে! দীর্ঘ গবেষণার পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বৈজ্ঞানিক তত্ব অনুযায়ী মারা যাওয়ার পরও জীবন সচল থাকে।

বর্তমানে গবেষকদের সাধারণত বিশ্বাস হচ্ছে, মারা যাওয়ার পর ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই মস্তিস্কের সকল কর্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তাই মৃত্যুর ৩০ সেকেন্ড পর কোন কিছু টের পাওয়া সম্ভব নয়।

কিন্তু নতুন গবেষণায় বের হয়ে এসেছে ভিন্ন বিষয়।মৃত ঘোষণা করার পরও বেঁচে যাওয়া ব্যাক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, মৃত ঘোষণার পর ৩ মিনিট পর্যন্ত বহির্জগতের ঘটনাবলী সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল ছিলেন। পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর সেই ঘটনাবলী ব্যাখ্যাও করেত পারেন সেই ব্যক্তি।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোফেসর এবং সাউদেম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রিসার্চ ফেলো চিকিত্সক স্যাম পারনিয়ার নেতৃত্বে এই গবেষণা হয়। তিনি জানিয়েছেন, যে সমস্ত রোগীরা মৃত্যুর কাছাকাছির অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করেছেন, সে সবই ঐন্দ্রজালিক ঘটনাপরম্পরার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

তবে এক ব্যক্তি এ ব্যাপারে ‘খুবই বিশ্বাসযোগ্য’ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চিকিত্সক এবং নার্সরা যখন তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন, তখন সবকিছুই তিনি বুঝতে পারছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সে সময় ওই ঘরের এক কোণা থেকে স্বচক্ষে পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া দেখছিলেন তিনি।

প্রমাণ হিসেবে ৫৭ বছরের ওই সোশ্যাল ওয়ার্কারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি হৃদযন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দিলে মস্তিষ্ক কাজ করতে পারে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিন মিনিট পর্যন্ত ওই ব্যক্তি সচেতন ছিলেন। ওই কক্ষে যা যা হয়েছিল, সে সবই তিনি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, ওই ব্যক্তি ২ বার একটি মেশিনের ব্লিপ শুনতে পারেন। প্রতি তিন মিনিটে ওই মেশিন থেকে এমন শব্দ হয়। এর সাহায্যে জানা গিয়েছে, ব্যক্তি কতক্ষণ পর্যন্ত সচেতন থাকতে পারেন। তাঁর বক্তব্য খুবই বিশ্বাসযোগ্য ছিল। এমনকি তিনি যা যা বলেছিলেন, সে সবই তাঁর সঙ্গে হয়েছিল।’

ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রিয়ার মোট ১৫টি হাসপাতালের ২,০৬০ জন রোগীর ওপর এই সমীক্ষা করেন পারনিয়া।

যাঁরা প্রাণ ফিরে পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ বিস্তৃত পরিসরে তাঁদের স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন, ৯ শতাংশ ব্যক্তি মৃত্যুর কাছের অভিজ্ঞতার সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রথাগত সংজ্ঞা দিতে পেরেছেন এবং ২ শতাংশ ব্যক্তি স্পষ্ট মনে করতে পেরেছেন যে, তাঁরা সেই সময়ের মধ্যে কী কী ‘দেখেছেন’ বা ‘শুনেছেন’।

চিকিৎসক পারনিয়া জানিয়েছেন, ‘এ ব্যাপারে কুসংস্কারমুক্ত প্রকৃত সমীক্ষা হওয়া উচিত।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: