জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

teechপাশের বন্ধু থেকে শুরু করে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, জ্যাকি অনাসিস ও ব্রিটনি স্পিয়ার্স অনেকেরই দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস আছে। জীবনে একবার হলেও কাজটি করতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু কেন? এটা গর্ব করার মতো কোনো বিষয় তো নয়ই বরং এ অভ্যাস বিরক্তিকর। এমনকি এটা হাতের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি নানা রোগ-ব্যাধির জন্ম দেয়। একই সঙ্গে এটা অস্বাস্থ্যকর এবং বাজে অভ্যাস। কেউ হয়তো এ অভ্যাস ত্যাগ করতে নিজেই অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশির ভাগই ব্যর্থ হন।

জার্মান বিশেষজ্ঞ ক্লাউস ফিশার বলেন, দাঁত দিয়ে নখ কাটার কমন অভ্যাসটা অনেকের মধ্যেই লক্ষ করা যায়। সাধারণত শিশু বয়সে কিংবা যে বয়সে শিশুরা স্কুলে যায়, সে বয়স থেকে শুরু হয় দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস। এ অভ্যাস দূর করার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মা-বাবার সহযোগিতা। বদ অভ্যাস হিসেবে প্রথমে এর শুরু হলেও ভবিষ্যতে এটি তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়, যা বিভিন্ন ধরনের মন্দ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। দাঁত দিয়ে নখ কাটাকে চিকিত্সা ভাষায় বলা হয় ‘ওনিকোফ্যাজিয়া’। শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ওনিকো’ এবং ‘ফ্যাজিয়া’ শব্দ দুটোর মিলনে তৈরি। আর ‘ওনিকো’ এসেছে ‘ওনিক্স’ থেকে, যার অর্থ আঙুল এবং ‘ফ্যাজিয়া’ অর্থ খাওয়া।
teech
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নখ কামড়ানো সাময়িক অভ্যাস এবং এটা এমনিতে দূর হয়ে যায়। এখানে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, শিশুকে নখ কামড়াতে দেখলে প্রথমে মা-বাবার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। শিশুর মধ্যে এ অভ্যাস দেখা দিলে এটা বন্ধ করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে মা-বাবার উচিত শিশুর আচার-আচরণ একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা। কখন, কতক্ষণ এবং কোন অবস্থায় বা পরিবেশে সে এ কাজটি করে? এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শিশুর মানসিক অস্থিরতার বহির্প্রকাশ ঘটতে পারে দাঁত দিয়ে নখ কাটার মধ্য দিয়ে। বুঝতে হবে কোথাও একটা সমস্যা রয়েছে। বাবা-মাকে সেই কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক শিশু রয়েছে, যাদের আত্মবিশ্বাসের অভাবই এ অভ্যাসের কারণ। তবে বদ অভ্যাসটি দূর করার জন্য মা-বাবার সমর্থন ও সাহায্য এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দাঁত দিয়ে যারা নখ কাটে তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের অবচেতন মন থেকে এ কাজটি করে। হয়তো টিভি দেখার সময় কিংবা গভীর চিন্তার সময় এ কাজটা মনের অজান্তেই করে ফেলে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রথমেই স্ট্রেস দূর করতে হবে। এছাড়া মেয়ে হলে পার্লারে গিয়ে সুন্দর করে নেইল ওয়ার্ক করিয়ে আসতে পারেন। আলগা নখও লাগাতে পারেন।

এতে নিজের সুন্দর নখ নষ্ট হয়ে যাবে এ বোধটা অনেক ক্ষেত্রে নখ কামড়ানো থেকে মুক্তি দেবে। তাছাড়া হাতে কিছু দিন তিতা করলার রস লাগিয়ে রাখতে পারেন। এতে হাত মুখে দেয়া মাত্র তিতা স্বাদের কারণে এর থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়া টিভি দেখা বা পড়াশোনার সময় যদি একটা স্কুইজ বল হাতে নিয়ে স্কুইজ করতে থাকেন তাহলে হাত আর মুখে যাবে না। এছাড়া চুইংগামও চিবুতে পারেন।

নখ কামড়ানোর স্বভাব অস্বাস্থ্যকর। রাগ, হতাশা, ক্ষোভ, দুশ্চিন্তা দূর করতেই মানুষ সাধারণত দাঁত দিয়ে নখ কামড়ে থাকে। এ বদ অভ্যাস দূর করার জন্য খুব বেশি কষ্টের দরকার নেই। শিশুদের বেলায় এ অভ্যাস দূর করতে চাইলে, তাদের ভালো মতো বোঝান। তাদের নখ সময় মতো ট্রিম করে দিন। আর বড়দের বেলায় এ অভ্যাস দূর করা তো আরো সহজ। মেয়েরা চাইলে তেতো স্বাদের নেইলপলিশ নখে লাগান, তাতে নখ যতবার মুখে যাবে, ততবার তেতো স্বাদ আপনাকে নখ কামড়ানোর অভ্যাস থেকে বিরত রাখবে। আর ছেলেরা হাতে সবসময় পরতে পারেন একটা রাবারব্যান্ড। যখনই নখ কামড়ানোর জন্য হাত চলে যাবে মুখে সঙ্গে সঙ্গে সেই রাবারব্যান্ড টেনে ছেড়ে দেবেন। এভাবেই একটু একটু করে লাগতে লাগতে নখ কামড়ানোর অভ্যাস দূর হয়ে যাবে।

এবিনিউজ

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: