জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

mwcloseশত কর্মব্যস্ততার মাঝেও একটা সময় থাকে নারী- পুরুষের, যা তাকে খুব কাছে টানে। সব ক্লান্তি ভুলে গিয়ে সে সময়টা তাকে মধুর সাগরে ভাসিয়ে দেয়। হারিয়ে যায় দুজনে দুজনার হয়ে।

অবশ্য দুজনের সম্মতিতে সে মুহূর্তটা আরো বেশি আনন্দ দেয়। এক্ষেত্রে নারীর চাওয়াটাকে প্রাধান্য দিতে হয়। সাধারণত পুরুষরা রাতের বেলায় যৌনকর্মটা এড়িয়ে চলতে চায়। সকালের দিকটাকেই তারা বেছে নেয়।

অন্যদিকে নারীরা রাতের বেলায় এটি খুব পছন্দ করে। রাতের বেলায় নারীরা যখন যৌনকর্ম করার জন্য বেপরোয় হয়ে উঠে ঠিক তখন পুরুষরা নাক ডেকে ঘুমায়। আবার সকাল বেলা যখন পুরুষরা এতে সম্মতি জানায় তখন নারীদের এ নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ থাকে না।

হয়তো অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে, আসলে এমনটি কেন হয়। সম্প্রতি ভারতভিত্তিক গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের হরমোনের কারণে এমনটি দেখা যায়।

যখন একজন পুরুষ ঘুম থেকে ওঠে তখন তার টেসটোসটেরনের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এসময় এটির মাত্রা থাকে ২৫-৩০ শতাংশের মধ্যে। এটি দিনের অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। এছাড়া পুরুষের সেক্স হরমোন উৎপাদনের জন্যে যে পিটুইটারি গ্রন্থি কাজ করে সেটি রাতে চালু হয়। ভোরের দিকে এটি বাড়তে থাকে।

অন্যদিকে নারীদেরও প্রধান সেক্স হরমোন টেসটোসটেরন রাতের বেলায় কাজ করে। কিন্তু এটি অল্প পরিমাণে বাড়ে। এটি ওয়েস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরোনের মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখে।

ভালো ঘুম উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় গভীরভাবে একটি ঘুম দিলে টেসটোসটেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ ঘণ্টার বেশি ঘুম পুরুষের টেসটোসটের মাত্রা অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে। সকালে সেক্স হরমোনের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।

সকালে নারীদের সেক্স হরমোনের মাত্রাটা সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। ওয়েস্ট বার্মিংহাম হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল ডৌনি বলেছেন, দিনের অপরভাগে নারী ও পুরুষের টেসটোসটেরনের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। তবে ঋতুস্রাবের কারণে নারীদের সেক্স হরমোন ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে থাকে।

নারী ও পুরুষ উভয়ই দিনের কাজের জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের স্ট্রেস হরমোন করটিসলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এটি মানুষের সেক্স হরমোনের প্রভাবকে কমিয়ে আনে।

দিনে সুন্দরী রমণী হেঁটে বেড়ালেও কোনো ধরনের যৌন প্রণোদনা তৈরি হয় না। এসময় হয়ত কাউকে দেখলে মনের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। তবে সেক্স হরমোন বাড়তে অনেক সময় নেয়।

বেলা একটা: এসময় যদি কোনো নারী তার সঙ্গীকে নিয়ে চিন্তা করে তাহলে তার টেসটোসটেরনের মাত্রাটা দ্রুত বাড়ে। কিন্তু পুরুষদের এসময় সেক্স হরমোন অনেক ধীরে কাজ করে।

অবশ্য সন্ধ্যায় নারীদের টেসটোসটেরনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে পুরুষদের টেসটোসটের মাত্রা কমতে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জিম করার পর নারী ও পুরুষ উভয়েরই কামশক্তি বাড়ে।

জাপানের নারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর নারীদের সেক্স হরমোন বৃদ্ধি করে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না। টেলিভিশনে উত্তেজনাপূর্ণ কোনো খেলা দেখে তাহলে সেটি তার সেক্স হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

রাত দশটা থেকে পুরুষদের টেসটোসটেরনের মাত্রা কম থাকে, তারপরও তারা সঙ্গীনির সাথে সেক্স করতে চায়। এসময় নারীদেরও যৌন চাহিদা অনেক বেশি থাকে।

অবশ্য নারী-পুরুষের যৌন প্রণোদনা নিজেদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। হরমোনই এটির প্রধান চালিকা শক্তি।

এমটিনিউজ

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: