জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

rasসৈয়দ মুজতবা আলী একবার বলেছিলেন, ‘আমি জীবনে দুটো ভুল করেছি—প্রথমটা, বিয়ে করে! দ্বিতীয়টা, বেশি বয়সে বিয়ে করে!’ মুজতবা-পাঠক মাত্রই তাঁর এমন অনায়াস রসবোধের সঙ্গে পরিচিত ও মুগ্ধ। এমন মহারথীদের রসবোধের তুলনা তো কেবল তাঁরাই। তবে, সাধারণভাবে রসিক পুরুষেরা সবার নজরই কাড়েন, বিশেষত নারীদের। ফলে প্রেমে পড়াই হোক কিংবা মুজতবা আলীর মতো ‘ভুল’ করাই হোক, নারীরা কিন্তু একজন রসিক পুরুষকেই বেছে নিতে চান। রসবোধসম্পন্ন পুরুষে নারীদের মন মজার কিছু নেপথ্য কারণ তুলে ধরা হলো এখানে।

সঙ্গী হিসেবে অতুলনীয়
রসবোধসম্পন্ন পুরুষেরা একঘেয়ে হন না। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ততা সংক্রামক এবং এমন পুরুষের সংস্পর্শে তরুণী-যুবতীরাও স্কুল বালিকার মতো হেসে কুটি কুটি হয়ে লুটিয়ে পড়েন। এমন পুরুষের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া খুবই আনন্দের। নির্বিকার চিত্তে একটা গাছের পাতা পড়ায়ও হেসে উঠতে পারেন তাঁরা। এমন পুরুষের সঙ্গে অভিসার অবিরাম উত্তেজনাময়, কেননা আপন স্বভাবেই তাঁরা ক্লান্তিহীন এবং সঙ্গীকেও সারাক্ষণ ক্লান্তিহীন করে রাখেন।

তাঁরা সৃষ্টিশীল
যেকোনো লেখককে জিজ্ঞেস করে দেখুন, কোন বিষয়ে লেখা সবচেয়ে কঠিন বলে মনে করেন তাঁরা। বেশির ভাগই হয়তো বলবেন, সরল ভাষায় কৌতুকময় আখ্যান বর্ণনা করা। সাধারণ ঘটনাকে এমনভাবে লেখা, যা পড়তে গিয়ে হাসতে হাসতে পাঠকের পেটে খিল ধরে যাবে। ভালো রসবোধসম্পন্ন মানুষেরা আসলে অনেক বিষয়ে এতটাই জানেন যে, অনায়াসেই সৃজনশীল উপায়ে তাঁরা সেসব সরসভাবে তুলে ধরতে পারেন।

তাঁরা সামাজিক
রসিক লোকেরাই যেকোনো উত্সবে অনুষ্ঠানের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন। বিয়েশাদির ঝগড়া-বিবাদ থেকে শুরু করে যেকোনো গুমোট নীরবতায় হাসির ফোয়ারা বইয়ে দিতে যথাসময়ে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক করে ফেলতে পারেন তাঁরা। এমন লোককে কোনো আচার-অনুষ্ঠানে অচেনা লোকজনের মধ্যে ছেড়ে যেতেও কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না সঙ্গীদের। কাজ সেরে ফিরে এসে হয়তো দেখবেন যে, ওই আসরটা এখন তিনিই মাতাচ্ছেন।

ভালো পর্যবেক্ষক
চার্লি চ্যাপলিনের কথা ভাবুন একবার। কী অসাধারণ দক্ষতায় জটিল সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে কৌতুক করে গেলেন তিনি। হেসে গড়াগড়ি খেলেন ঠিকই কিন্তু ওই কৌতুক আপনাকে তাড়া করে ফিরবে, আপনাকে ভাবাবে। সত্যিকারের জানাশোনাওয়ালা মানুষেরা সমাজ-সংসারকে খুবই ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন বলেই তাঁরা সেসব নিয়ে রসিকতাও করতে পারেন। চারপাশে কী ঘটছে, তা বুঝতে না পারলে যেকোনো কিছু নিয়েই তাঁরা কৌতুক করবেন কী করে।

সাবলীলতার উত্সাহ
ভালো রসবোধসম্পন্ন মানুষের পাশে আপনি সব সময়ই সাবলীল থাকতে পারবেন। তাঁর উপস্থিতি আপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে না। নারীরা এমন মানুষের সঙ্গে থাকলে নিরাপদ ও সাবলীল বোধ করে। এমন মানুষের সঙ্গে থাকলে সারাক্ষণ ধরে রাখা ব্যক্তিদের দেয়াল মুহূর্তেই গলে পড়বে, নিজের ভেতরের মানুষটি কথা বলে উঠতে শুরু করবে।

বন্ধুদের বন্ধু
রসিক মানুষেরা মিশুক হন। তাই এমন পুরুষেরা সহজেই নারী সঙ্গীটির বন্ধুদের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন। আর এমন মানুষের সঙ্গ কার না ভালো লাগে, ফলে বন্ধুরাও তাঁকে গ্রহণ করে নেয়।

আত্মবিশ্বাসী ও আবেগী
একজন প্রকৃত রসিক মানুষই কেবল নিজেকে নিয়ে রসিকতা করেও চারপাশের মানুষকে আনন্দ দিতে পারেন। খুব আত্মবিশ্বাসী না হলে এমনটা করা সহজ নয়। তাঁকে দেখে হয়তো অতটা আত্মবিশ্বাসী মনে না-ও হতে পারে, কিন্তু তিনি অবশ্যই নিজেই নিজেকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। তবে, মনে রাখা দরকার, তাঁর রসবোধের মতোই আবেগটাও কিন্তু তীব্র, হয়তো তিনি তা প্রকাশ করেন না। তাই সাবধান, এমন মানুষকে জেনেশুনে কোনো কষ্ট দেবেন না যেন, তিনি আবেগী হয়ে উঠলে সামলানো মুশকিল হবে।

মুখে হাসি ফোটানো
এমন মানুষের সঙ্গে আপনি কখনোই রাগ করে থাকতে পারেন না। তিনি নিজে হাসুন বা না-ই হাসুন, সঙ্গীর মুখে হাসি ফোটাবেনই। তাঁর ছোট্ট একটা কথাতেই হয়তো আপনি ভুলেই যাবেন, কেন তাঁর সঙ্গে রাগ করেছিলেন। হাসাতে হাসাতে কাঁদিয়ে ফেলে আপনার ভেতরের রাগ অভিমান ঝরিয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখেন তিনি।

বিডিলাইভ

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: