জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

একটি ব্যতিক্রম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক পত্রিকায়। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বাক- শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারার ভাষা ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধীরা খবর দেখতে পায় বটে, কিন্তু কিছু বুঝতে পারে না। তারা থেকে যাচ্ছেন তথ্যবঞ্চিত। টেরেস্ট্রিয়াল চ্যানেল বিটিভিতে আগে প্রতিদিন খবর অনুষ্ঠানে ইশারার ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও এখন পাক্ষিক একটি অনুষ্ঠানে তা ব্যবহার করা হয়। দেশে কমবেশি ২৪ লাখ মানুষ বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী। এই বিশাল সংখ্যক নাগরিককে তথ্য পেতে সাহায্য করতে সামান্য একটু ইশারার ভাষা ব্যবহার প্রয়োজন। সেদিকে কারো নজর না থাকাটা হতাশাজনকই বটে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাক-প্রতিবন্ধীদের কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে ইশারার ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ১৯৭৬ সালে জাপা প্রথম ইশারার ভাষা ব্যবহার শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে সব দেশ এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও ইশারার ভাষাকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে রাষ্ট্রকে নির্দেশনা দেয়া আছে। বাংলাদেশে এ ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদানের কথা বারবার বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইশারার ভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধীবিষয়ক শাখা থেকে গণমাধ্যমে ইশারার ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদানের জন্য বিটিভিসহ অন্যান্য চ্যানেলে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু সে ব্যাপারে কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। ইশারার ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি হলো প্রযুক্তির অভাব, অন্যটি দোভাষীর অভাব। দেশের কোনো চ্যানেলেই প্রযুক্তির কোনো সমস্যা নেই। তারা আধুনিকতম প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাচ্ছেন। দোভাষীরা সাধারণত ইনসেটের থেকে বাকপ্রতিবন্ধীদের ইশারার ভাষার মাধ্যমে সংবাদ বা অন্যান্য তথ্য বুঝিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে যে কোনো টিভি চ্যানেল একাধিক ইনসেট ব্যবহার করতে সক্ষম। দেশে বাকবিষয়ক দোভাষীর এখন আর অভাব নেই। টিভি চ্যানেলগুলো চাইলেই এ ব্যাপারে জনবল পেতে পারে। অথচ কেন তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সেটি একটি ভাবনার বিষয়। এই মানবিক বিষয়টির ব্যাপারে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। তা যখন কেউ নিচ্ছে না তখন সরকারের উচিত হবে বাকপ্রতিবন্ধীদের ইশারার ভাষা গ্রহণের ব্যাপারে চ্যানেলগুলোকে বাধ্য করা। প্রয়োজনে দিনে কতবার বাক-ভাষা প্রচার করতে হবে সে ব্যাপারেও নির্দেশ প্রদান করতে হবে। বাকপ্রতিবন্ধীরা এ দেশেরই নাগরিক। তাদের অধিকার আছে সংবাদ-তথ্য জানার। এটি তাদের মৌলিক অধিকারের অংশ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: