জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

স্বপন কুমার দাস
ঢাকা নগরীর আশপাশে দেখার মতো বহু কিছু আছে। কিন্তু যানজটের কথা ভাবলে কোথাও যেতে ইচ্ছে হয় না। যানজট-বিড়ম্বনার কারণে সময়মতো গনত্দব্যে পেঁৗছা যায় না। ঘরে ফেরাও হয় না সময়মতো। যানজট যেন আমাদের জীবনের অর্ধেকটা শুষে নিচ্ছে। তারপরও পথে বের হতে হয় পথের টানেই। পথের বিড়ম্বনার কথা মাথায় রেখে দুপুরের খাবার খেয়েই তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ি গাজীপুরের উদ্দেশে। গাজীপুরে রয়েছে ভাওয়াল রাজাদের অনন্য কীর্তি ভাওয়াল শ্মশান মঠ। এই শ্মশান মঠগুলো পুরাকীর্তিপ্রেমীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।

শাহবাগ থেকে টিকেট কেটে ঢাকা পরিবহনের কোস্টারে চেপে বসি। গাজীপুর ভাড়া জনপ্রতি ৩৫ টাকা। ঢাকা থেকে গাজীপুরের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু এ পথটুকু পাড়ি দিতে সময় লেগে যায় দু’ ঘণ্টার মতো। কোস্টার এসে থামে শিববাড়ী মোড়ে। শিববাড়ী মোড়ে নেমে রিকশা চেপে বসি। এখান থেকে শ্মশান মঠের ভাড়া ১৫ টাকা। রিকশা চলা শুরম্ন করে। গাজীপুরের এ রাসত্দায় অসংখ্য রিকশা চলাচল করে। যেদিকে তাকাই দেখি শুধু রিকশা আর রিকশা। গাজীপুরকে রিকশার নগরী বললে ভুল বলা হবে না। বড় বড় রেললাইন পেরিয়ে ছুটে চলি গনত্দব্যে।

রিকশা করে কিছুদূর চলার পরই চোখে পড়ে ভাওয়াল রাজাদের রাজবাড়ী। বাড়িটি যেমন বড় তেমনি সুন্দর। এই সুদৃশ্য ভবনটি এখন গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমার রিকশা উঁচু-নিচু আর অাঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে যায় শ্মশান মঠের দিকে। শিববাড়ী থেকে শ্মশান মঠের দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। এ পথের দু’ধারে গড়ে উঠেছে চমৎকার সব দালান। শুনেছি ঢাকায় চাকরি কিংবা ব্যবসা করেন এমন অনেক ব্যক্তি এখানে বাড়ি নির্মাণ করে থাকেন। এখান থেকেই তারা নিত্যদিন ঢাকা আসা-যাওয়া করেন। রিকশা ১৪/১৫ মি. চলার পর কয়েকটি দোকানের পাশে এসে থামে। রিকশা ভাড়া মিটিয়ে আমি পা রাখি ভাওয়াল শ্মশান মঠ প্রাঙ্গণে।

নানা প্রকার গাছ-গাছালির কারণে শ্মশান ভূমির প্রবেশ স্থল থেকে মঠগুলো দেখা যায় না। কয়েক গজ হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে বিস্ময়কর সব স্থাপত্য। সামনের তিনটি মঠের নির্মাণশৈলী সাধারণ এবং দেখতে একই রকম। কিন্তু বাকি পাঁচটি মঠের নির্মাণশৈলী চিত্তাকর্ষক। এদের মধ্যে একটি মঠ সবচেয়ে উঁচু। মঠগুলোর দরজা-জানালা ভাঙা। কোন কোনটির স্মৃতিচিহ্ন মুছে গেছে। মঠের সামনের খোলা জায়গায় কিশোর-তরম্নণরা ক্রিকেট খেলছে। বাকি জায়গায় খড় দিয়ে ভরে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক মঠ ঘুরে ঘুরে দেখি, ছবি তুলি। আমার মতোই বেশ কিছু দর্শনার্থী মঠ প্রাঙ্গণ ঘুরে ঘুরে দেখছেন। ভাওয়াল জমিদারদের এই রাজকীয় শ্মশান মঠের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি পুকুর। সংস্কারের অভাবে এর ঘাটটি ভেঙে গেছে। পুকুরের ডানপাশে রয়েছে চিতাখোলা। এখানে শবদাহ করা হয়। পুকুরের পূর্বদিকে রয়েছে বেশকিছু খোলা জায়গা। এক সময় এই জায়গা দিয়ে চিনাই নদী বয়ে যেত। এখন তার চিহ্ন মাত্র নেই। দূর-দূরানত্দ থেকে আসা দর্শনার্থীরা এখন ওখানে বসে বিশ্রাম নেয়। বাদাম চিবোয়। তরম্নণ-তরম্নণীরা চুটিয়ে আড্ডা দেয়। আমিও এক সময় এসে বসি মনোরম এই জায়গায়। পড়নত্দ বিকেলে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি মাথা উঁচু করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মঠগুলোর দিকে। ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে জানার চেষ্টা করি ভাওয়াল রাজাদের কীর্তির কথা।

ভাওয়াল জমিদারদের পূর্বপুরম্নষ ছিলেন বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার বজ্রযোগিনী গ্রামের বাসিন্দা। এই গ্রামের জনৈক বলরাম রায় আঠারো শতকের চলিস্নশ দশকে ভাওয়াল পরগনার জমিদার দৌলত গাজীর দিউয়ান হিসেবে কাজ করতেন। দৌলত গাজীর অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন খাজনা প্রদান বাকি পড়ে যাওয়ায় ভাওয়াল জমিদারি নিলামে ওঠে। মুর্শিদকুলী খানের সঙ্গে সখ্য থাকায় বলরাম রায় কৌশলে এই জমিদারি হসত্দগত করেন। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে মুর্শিদকুলী খান (শাসনকাল : ১৭৪০-৫৬) মুসলমান জমিদারদের স্থলে পূর্ববঙ্গে হিন্দু জমিদারদের নিযুক্ত করতেন। বলরাম রায়ের মৃত্যুর (১৭৪৩) পর তার সুযোগ্য পুত্র কৃষ্ণরায় জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব পান। তিনি ভাওয়াল জমিদারিকে স্থায়ীরূপ দেন। কৃষ্ণ রায়ের মৃত্যুর (১৭৫০) পর তার পুত্র জয়দেব রায় ভাওয়াল জমিদারির উত্তরাধিকার নির্বাচিত হন এবং দক্ষতার সঙ্গে জমিদারি পরিচালনা করেন। এ সময় তার নামানুসারে ভাওয়াল এলাকার নামকরণ হয় জয়দেবপুর।

জয়দেব রায়ের মৃত্যুর (১৭৫৬) পর তার ছেলে ইন্দ্রনারায়ণ রায় ভাওয়াল জমিদারি এস্টেট পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেন। ইন্দ্রনারায়ণ রায়ের মৃত্যুর পর ধারাবাহিকভাবে তাদের উত্তরাধিকারীরা ভাওয়াল জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যান। ১৮৫৬ সালে গোলক নারায়ণের মৃত্যুর পর তার পুত্র কালী নারায়ণ রায় জমিদারি পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। বস্তুত তার সময়ই ভাওয়াল জমিদারির ব্যাপক বিসত্দৃতি ঘটে। পরিধি ও আয়ের দিক থেকে তখন পূর্ববাংলার ঢাকার নবাবদের এস্টেটের পরই ভাওয়াল জমিদারির স্থান ছিল। ভাওয়াল জমিদারির ব্যবস্থাপনাও ছিল তখন বেশ দক্ষতাপূর্ণ। জমিদার নিজেই জমিদারি পরিচালনা করতেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কাচারিতে বসতেন। ঢাকায় বসে জমিদারি পরিচালনা জন্য বাড়িও ক্রয় করেন। কালী নারায়ণের সময়ই ভাওয়াল রাজবাড়ী এবং ভাওয়াল শ্মশান মঠ নির্মিত হয়। কৃতিত্বের সঙ্গে জমিদারি পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ সরকার কালী নারায়ণ রায়কে বংশানুক্রমে ব্যবহারের জন্য রায় চৌধুরী এবং রাজা উপাধি প্রদান করেন।

রাজা কালী নারায়ণ রায় চৌধুরীর মৃত্যুর (১৮৭৭) পর তার সুযোগ্য পুত্র রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ভাওয়াল জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ছিলেন ভাওয়াল এস্টেটের সর্বশেষ ক্ষমতাবান জমিদার। তার এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন সুসাহিত্যিক কালী প্রসন্ন ঘোষ। রাজস্ব কর্মচারী ছিলেন স্বভাবকবি গোবিন্দ দাস। পূর্ববঙ্গের জমিদারদের মধ্যে রাজেন্দ্র নারায়ণ রায়ই সর্বপ্রথম মহারাজা উপাধি লাভ করেন। তার স্ত্রী রানী বিলাস মনিও গুণবতী নারী ছিলেন। তিনি জয়দেবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। রমনা কালী মন্দিরের সামনের পুকুরটি খনন করিয়েছেন রানী বিলাস মনি। রাজা রাজেন্দ্র নারারয়ণ-রানী বিলাস মনির ৩ পুত্র সনত্দান ছিল। তারা হচ্ছেন যথাক্রমে রণেন্দ্র নারায়ণ, রমেন্দ্র নারায়ণ এবং রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী। রাজেন্দ্র নারায়ণের এই তিন পুত্রই ছিল পড়ালেখায় অমনোযোগী এবং ইন্দ্রিয় পরায়ণ। প্রজাদের মধ্যে তারা ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। রাজেন্দ্র নারায়ণের জীবদ্দশাই তার বড় ছেলে রণেন্দ্র নারায়ণ মারা যান। ১৯০১ সালে রাজেন্দ্র নারায়ণ দেহত্যাগ করেন। ওই বছর তার ছোট ছেলে রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীও মারা যান। মেঝো ছেলে রমেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ভাওয়াল জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেন।

রমেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর ১৯০২ সালে কোলকাতার বিষ্ণুপদ ব্যানার্জির রূপবতী মেয়ে বিভাবতী দেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক বছর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে হাওয়া বদলের জন্য তিনি স্ত্রীসহ ১৯০৯ সালে দার্জিলিং বেড়াতে যান। এ সময় রাণী বিভাবতী দেবী তাদের পারিবারিক চিকিৎসক আশুতোষ ডাক্তারের সঙ্গে যোগসাজশ করে রমেন্দ্রকে বিষ প্রয়োগে হত্যার প্রচেষ্টা চালান। বিষ ক্রিয়ায় জমিদারের দেহ নিথর হয়ে গেলে তাকে মৃত মনে করে স্থানীয় শ্মশানে দাহ করার জন্য নেয়া হয়। তাকে চিতাখোলায় শোয়ানোর পর হঠাৎ প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি শুরম্ন হয়। ঝড়ের কারণে শ্মশানের লোকজন এদিক-সেদিক দৌড়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে। বৃষ্টির জলে জমিদারের জ্ঞান ফিরে আসে। কিন্তু বিষের ক্রিয়ায় তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। রমেন্দ্র শ্মশান থেকে হেঁটে স্থানীয় নাগা সন্ন্যাসীদের আখড়ায় গিয়ে ওঠেন এবং সন্ন্যাসীদের মতো জীবনযাপন শুরম্ন করেন। এভাবে ১২ বছর থাকার পর হঠাৎ তার স্মৃতিশক্তি ফিরে আসে। এরপর তিনি নানাস্থান ঘুরে সন্ন্যাসী বেশে ভাওয়াল ফিরে আসেন এবং জমিদারি দাবি করেন।

এদিকে দার্জিলিং থেকে ফিরে এসে রানী বিভাবতী দেবী রাজার অকস্মাৎ মৃত্যুর কথা প্রচার করে নিজে জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব নেন। কিন্তু হঠাৎ করে এত বছর পর রমেন্দ্র নারায়ণ ফিরে এলে তিনি তাকে রাজা বলে মানতে অস্বীকার করেন। কিন্তু প্রতিবেশী, প্রজা ও আত্মীয়-স্বজন রাজাকে ঠিকই চিনতে পারে। রানীর কাছে অনেক দেন দরবার করে ব্যর্থ রাজা রমেন্দ্র শেষমেশ নিজ জমিদারি ফিরে পাওয়ার জন্য ঢাকা জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রানী বিভাবতী হেরে গেলে তিনি কোর্টে রায়ের বিরম্নদ্ধে কোলকাতা হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু কোলকাতা হাইকোর্ট ঢাকা জর্জ কোটের রায় বহাল রাখেন। ফলে রমেন্দ্র নারায়ণ জমিদারি লাভ করেন।

রাজা রমেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর এই মামলা ছিল বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ মামলা। ১৯৩০ সালে এই মামলা শুরম্ন হয়। শেষ হয় ১৯৪৬ সালে। এই মামলা নিয়ে তখন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মামলার খবর পত্রিকার পাতায় ভরে থাকত। পত্র-পত্রিকাও বিক্রি হতো ব্যাপক সংখ্যায়। দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা কোর্টে ভিড় করতেন। সাধারণ মানুষও দূর-দূরানত্দ থেকে ঢাকা জজ কোর্টে এসে প্রতিদিনকার আর্গুমেন্ট শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। তখন সব শ্রেণীর মানুষের একমাত্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল ভাওয়াল সন্ন্যাসীর মামলা। সাধারণ মানুষ চাচ্ছিল রাজা তার জমিদারি ফিরে পাক আর রানীর শাসত্দি হোক। মামলায় হেরে যাওয়ার পর রানী বিভাবতী কোলকাতা চলে যান এবং আমৃত্যু সেখানে বসবাস করেন। রমেন্দ্র নারায়ণ জমিদারি ফিরে পেয়ে আবার বিয়ে করেন। কিন্তু এর কিছুদিন পর তিনি ও তার স্ত্রী মারা যান। রমেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর জমিদারির উত্তরাধিকারের বিষয়টি অত্যনত্দ জটিল হয়ে পড়ে। অবশ্য এর মধ্যে ভারত ভেঙে পাকিসত্দান নামের রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ১৯৫১ সালে জমিদারি প্রথা বাতিল হয়ে গেলে যবনিকা ঘটে ভাওয়াল জমিদারদের আড়াই শ’ বছরের শাসনের ইতিহাস। কিন্তু ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা নিয়ে গল্প-উপন্যাস, যাত্রা-সিনেমা নির্মাণ চলে বহু বছর। ভাওয়াল সন্ন্যাসীর মামলা আজও এদেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের আলোড়িত করে। সেদিন পড়নত্দ বিকেলে মঠগুলো দেখে ভাওয়াল রাজাদের উত্থান-পতনের কথাই বারবার মনে পড়ছিল। মনে পড়ছিল তাদের কীর্তির কথা। এই মঠগুলোর কথা। উনিশ শতকের শেষের দিকে নির্মিত এই মঠগুলো কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে। সবচেয়ে বড় মঠটি নির্মিত হয়েছে ভাওয়াল জমিদারির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ নারায়ণ রায়ের উদ্দেশে। বাকিগুলো নির্মিত হয়েছে অন্য জমিদারদের স্মৃতির উদ্দেশে। রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর দুই ছেলে যথাক্রমে রণেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী এবং রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর স্মৃতির উদ্দেশে মঠ নির্মিত হলেও অপর ছেলে জমিদার রমেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর (ভাওয়াল সন্ন্যাসী) কোন স্মৃতিমঠ এই শ্মশান ভূমিতে নেই।

ভাওয়ালের এই রাজকীয় মঠের যে দিকটি আমাকে মুগ্ধ করে তা হলো এর নির্মাণশৈলী, গৌড়ীয় স্থাপত্য রীতি অনুসরণে নির্মিত এই মঠগুলোর প্রতিটি সত্দর অত্যনত্দ আকর্ষণীয়। এই মঠগুলোর অলঙ্করণও মনোমুগ্ধকর। বাংলার বিস্মৃতপ্রায় মন্দির শিল্পের এক অনন্য উদাহরণ এই মঠগুলো। এককালে এদেশে যে অত্যনত্দ উঁচু ও দক্ষ মন্দির নির্মাতা ছিল তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হচ্ছে এই মঠগুলো। কিন্তু সেদিন ভগ্নহৃদয় হয়ে ফিরে আসতে এই চিত্তাকর্ষক মঠগুলো করম্নণ অবস্থা দেখে। চরম অযত্ন অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে এই মঠগুলো আজ ধ্বংস হতে বসেছে। মঠের আশপাশের জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকায় গরম্ন, ছাগল ও কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। খড়ের গাঁদা রেখে মঠ প্রাঙ্গণ ভরে রাখা হয়েছে। অথচ এই মঠগুলো সংস্কার করে এই স্থানটিকে একটি চমৎকার ভ্রমণ কেন্দ্রে পরিণত করা যায়। দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরা যায় এদেশের দর্শনীয় পুরাকীর্তি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কি সচেষ্ট হবে ভাওয়াল রাজাদের এই মঠগুলোর সংস্কার করে এই স্থানটিকে একটি পর্যটন স্পটে পরিণত করতে?

Advertisements

Comments on: "ভাওয়াল রাজাদের কীর্তি" (1)

  1. আমার খুব ভাল লাগলো

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: