জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

শিশুর জন্মকালে মায়ের বয়স ৩০ বা তার বেশি হলে সন্তানদের মধ্যে ডাউনস সিন্ড্রোম নামে এক ধরনের মারাত্মক জেনিটিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাবারা এতদিন অধিক বয়সের সেই দায় থেকে মুক্ত ছিলেন; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় বাবার বয়স বেশি হলে সন্তানের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি বহু গুণে বেড়ে যায়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে এসব শিশুর আইকিউ বা মানসাঙ্ক গড়ে তিন থেকে ছয় পয়েন্ট কম থাকে। শুধু তাই নয়, শিশুদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে অটিজম এবং স্ক্রিজোকেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. ম্যাকগ্রা ব্রেনের মিউটেশন বা জিনগত বিভ্রান্তি এবং কিছু সামাজিক সমস্যা বিশেষ করে পারিবারিক আর্থিক অনটনের বিষয়টিকে এ জন্য দায়ী করেছেন। ম্যাকগ্রা ও তার সহকর্মীরা প্রায় ৩৩ হাজার শিশুর জীবনাচরণের ওপর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পর এমন সিদ্ধান্তে পেঁৗছলেন। গবেষকদের মতে, অধিক বয়সের কারণে ছেলেদের শুক্রাণুর জেনিটিক পরিবর্তনই হয়তোবা এ ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। মেয়েদের ডিম্বাণু জন্মের আগেই ডিম্বাশয়ে মজুদ থাকে। ফলে ডিএনএর গঠন অনেকটা স্থিতিশীল ও অপরিবর্তনশীল থাকে। কিন্তু ছেলেদের শুক্রাণু জীবনভর তৈরি হওয়ায় তার মধ্যে ব্যাপক জেনিটিক মিউটেশনজনিত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে। বিজ্ঞানীরা বেশি বয়সী বাবার সন্তানদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সে তুলনামূলক মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষা চালিয়ে এ ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এসব শিশুর মধ্যে মানসিক বৈকল্য অধিক দেখা গেলেও কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে কিন্তু তারা কেউ পিছিয়ে ছিল না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: