জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

safa1সাখাওয়াত টিপু
আহমদ ছফার কবিপ্রতিভা শূন্যের কোঠায় এহেন কথা কেহ হলফ করিয়া বলিতে পারিবে না। আর কবি হিসাবে তাহার কুখ্যাতি রহিয়াছে এমন সাক্ষীসাবুদ নাই। তবুও ছফার কবিতা সমালোচনার আড়ালে থাকিল কেন? ছফার কোন এক রচনার কথা আমাদের ভাষ্যে, আমরা এমন এক সমাজে বাস করিতেছি যেইখানে মহিষের শিং হইতে দুধ দোয়াইতে হয়। ওলান এইখানে অকার্যকর। কবিতার বাজারে আহমদ ছফার বড় দোষ, হয়ত নিছক ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের বায়ুরোগে ভুগিতেন না তিনি! তাই নিজে নিজে দাবি তোলেন নাই তিনি কবিশ্রেষ্ঠ। মহাত্মা ছফা কবি বটেন।

ঘরে পরে তফাৎ আমার
কখন গেছে মুছে
তবু লোকে সকাল বিকাল
ঘরের খবর পুছে।
আসতে যেতে নানান মানুষ
ঘরের খবর লয়
আমার কখন ঘর ছিল কি
মনেতে সংশয়
হাল সাকিনের লজ্জা আমার
কেমনে জানি মুছে।
যদি বলি ঘরটি হবে
সাগর জলের নীচে
ঘাড় দুলিয়ে বলবে মানুষ
কখখনো নয় মিছে
নিত্যি নতুন ঘরের খবর
শ্রবণে না রুচে।
যদি বলি ঘরটি হবে
নীল আকাশের নীলে
মিটি মিটি চেরাগ জ্বলা
লক্ষ তারার বিলে
বলবে মানুষ সে সব খবর
সত্য হবার নয়
তবু লোকের সকাল বিকাল
ঘরের খবর পুছে।
আহিতাগ্নি ১২/আহমদ ছফা


জার্মান গুরুকবি জোহান ভলফ্গ্যাঙ ফন গ্যেটে (১৭৪৯-১৮৩২) ‘সত্য আর কল্পনা’ [উরপযঃঁহম ঁহফ ধিযৎযবরঃ] বহিতে তিন টুকরা আত্মহত্যার কাহিনী চাউর করিয়াছিলেন। ওয়ের্থার রচনার ভাগে তাহার বয়ান, ‘আমি এক ইংরাজ ভদ্রলোকের গল্প শুনিয়াছি। যিনি নিত্যদিন পোশাক বদলের বিড়ম্বনা হইতে বাঁচিবার বাসনায় গলায় রশি দিয়া আত্মহত্যা করিয়াছেন। অন্য একজন বিত্তবৈভবের প্রভু। একদিন বাগানে বেড়াইতে বেড়াইতে চিৎকার করিয়া বলিলেন, এই বিষ্টিভরা মেঘের পুব হইতে পশ্চিমে যাইবার দৃশ্যই কি আমাকে জীবনভর দেখিতে হইবে? অপরজন আমার দেশের নামজাদা লোক। বসন্তের সবুজ পত্রপল্লব দেখিয়া যারপরনাই ক্লান্ত হইয়া বলিলেন, এইবার না হয় তো পাতা লাল হইতে পারিত!’ কত না নানারকম ফেরে আত্মহত্যা করিতেছে মানবসন্তান।
গ্যেটে কারণ হিসাবে দেখাইতেছেন, জীবনের বড় দায় দেহ ও মনের কোঠা। তাহার বয়ানে তিন ব্যক্তির আত্মহত্যার কারণ কী না যৎসামান্য! ইংরাজদের গলায় রশি দিয়া মরিবার ঘটনা নাকি অস্বাভাবিক নহে। অতি স্বাভাবিক! ঝুলিয়া মরিবার বাসনাকে অগৌরব মনে করিতেন মহাত্মা গ্যেটে। তিনি ভাবিতেন যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর কথা। আত্মহত্যার সহজ উপায়? হৃদয়ে তীক্ষè ছোরা বিদ্ধ করিয়া সম্রাট অটোর আত্মহত্যার ভাব মেলাদিন তাড়াইয়া বেড়াইয়াছে তাহাকে! একদা ক্ষুরধার ছুরি ছিল গ্যেটের সঙ্গী। শিয়রে ছুরি লইয়া গ্যেটে নিদ্রাযাপন করিতেন। তবে হৃদয়ে ছুরি মারিয়া তিনি চিরনিদ্রায় যান নাই কখনো। বাজারে খবর, বাংলার মনীষী আহমদ ছফাও (১৯৪৩-২০০১) নাকি একদা পকেটে বিষের শিশি লইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেন। তাহার কণ্ঠ নীল হয় নাই তরল বিষে। দুই মহাত্মার মধ্যে অদ্ভুত এক মিল! দুইজনের কেহই শেষ নাগাদ আত্মহত্যা করেন নাই। হয়তো তাহাদের মনের জিজ্ঞাসা, এ জীবন অসার করিব কেন? দুজনেই জীবনের অর্থ খুঁজিয়াছেন সৃজনে মননে দর্শনে আর জীবনের প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসায়।


মনীষী আহমদ ছফার কবিপ্রতিভা শূন্যের কোঠায় এহেন কথা কেহ হলফ করিয়া বলিতে পারিবে না। আর কবি হিসাবে তাহার কুখ্যাতি রহিয়াছে এমন সাক্ষীসাবুদ নাই। তবুও ছফার কবিতা সমালোচনার আড়ালে থাকিল কেন? ছফার কোন এক রচনার কথা আমাদের ভাষ্যে, আমরা এমন এক সমাজে বাস করিতেছি যেইখানে মহিষের শিং হইতে দুধ দোয়াইতে হয়। ওলান এইখানে অকার্যকর। কবিতার বাজারে আহমদ ছফার বড় দোষ, হয়ত নিছক ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের বায়ুরোগে ভুগিতেন না তিনি! তাই নিজে নিজে দাবি তোলেন নাই তিনি কবিশ্রেষ্ঠ। মহাত্মা ছফা কবি বটেন।
তাহার রচিত ঢের কবিতায় ব্যক্তি-সমাজের ঘরের খবর রটিয়াছে। আর আমরা আলোচনার মাথায় রাখিয়াছি আহিতাগ্নির বার নম্বর কবিতা। কবিতার সরল তর্জমাÑ জগত সংসারে তাহার ঘর আর পরের তফাৎ ঘুচিয়া গিয়াছে। তবু লোকে পুছ করিতেছে ঘরের খবর। লোকের এহেন জিজ্ঞাসায় ছফার সংশয়Ñ আমার কখনো ঘর ছিল কি? কবি কহেন, সাগর জলের নীচে কিংবা নীল আকাশের নীলে আমার ঘর। না না বাদ সাধে লোকে, সে সব খবর সত্য নহে! তাহার পরও লোকে পুছে ঘরের খবর কী? মানব সংসারে লোকের এহেন জিজ্ঞাসা কলার কাঁদির মতন। আঁটি আঁটি ঝুলিয়া থাকে যেন।
তো ছফার কবিতায় আধুনিকতাবাদীদের মতো ভান-ভনিতা নাই। নাই কলাকৈবল্যবাদীদের মতো আঙ্গিকের বৈকল্য। তাহার কবিতা সাদামাটা নহে, ঢের কাদামাটা। আর অর্থও গুরুতর। গুরু অর্থের প্রশ্ন, ঘরে আর পরে তফাৎ ঘুচিলে কী ঘটে? তাহার কারণ বিস্তর। কারণের আস্তর তুলিতে নানা পাড়ার কথা খানিক পাড়ায় পাড়ায় রটাইব। আমাদের রটনার নাম সত্য। আস্তরের নাম মায়া। জনে জনে জিজ্ঞাসিতে পারেন, সত্যের জমিনে মায়া কোন ধরনের মাল? অর্থবিদ্যার জগতে মায়া বা মা স্ত্রীলিঙ্গ বিশেষ। আমরা মায়া শব্দখানির বাড়া অর্থ দেখিতে পাইতেছি। মায়া মানে মা ভাবের আয়া। তাহা লিঙ্গের অধিক কিছু বাড়া। এহেন ‘বাড়া’কে কি আমরা কায়া বলিতে পারি? না না তাহাতে এক হায়াপর্দা মাথাচাড়া দিয়া উঠিতেছে। তাহার নাম ছায়া বা ঘর। ভাবার্থ ধরিলে ঘর মালটা আস্তর অশেষ। আস্তরের পলেস্তরা খসিলে গোপন রহস্য আর গোপন থাকিতেছে না। গোপন হইতেছে আপনের আত্মীয়। আর তাহাতে ছায়াও ছায়াহীন হইয়া পড়িতেছে। ঘর পাইতেছে পরের অবয়ব। আর ঘরকে পরের হাতে তুলিয়া দিবার নামই ব্যক্তিগত সম্পদের উচ্ছেদ নয় কি? ছফাও কি তাহা করেন নাই?


ইংরাজ ধুরন্ধর কবি জন মিল্টনের মতে, ‘সহজ সরল, ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও আবেগের চেরাগ জ্বালানোই কবিতা।’ ধুরন্ধর কবির কবিতার সংজ্ঞা তো ইন্দ্রিয় আবেগের বায়ুধার। মিল্টন আবেগানুভূতির চেরাগ কোথায় জ্বালাইলেন? ব্যক্তি-মানসের একক বান্দার চেতনায়? বড় মুশকিল, একক বান্দার চেতনা তাহার অস্তিত্ব নির্ধারণ করিতেছে না। বান্দার অস্তিত্ব নির্ধারণ করিতেছে তো সামাজিক চেতনা। তাহার পরও কথা থাকিতেছে। ইন্দ্রিয়ানুভূতির আবেগের আধার কি সহজ-সরল? না, সেই রকম সরল শপথ কিংবা তওবা কবিতায় বিশেষ নাই। খোদ সহজ-সরল খুঁজিবার পথের সন্ধান মিলাইতে তো দিব্যজ্ঞানের দরকার। দার্শনিক লালন সাঁই সেই পথের কঠিন সাক্ষী।
তো মিল্টনের এহেন তত্ত্বকে খানিক আড়মোড়া মারিয়াছেন স্পেনের যুদ্ধে শহীদ ইংরাজ বুদ্ধিজীবী র‌্যালফ ফক্স (১৯০০-১৯৩৭)। ফক্স ‘কাহিনী ও মানুষ’ বহিতে বলিতেছেন, ‘সৃজনের মর্ম পরম। যাহা বাস্তব সম্পর্কের লড়াই।’ মিল্টনের সংজ্ঞায় ভাষার প্রশ্নখানিও অমীমাংসিত। আমরা বলিতেছি না, ভাষা মাত্র পরম। বলিতেছি ভাষার পরমের কথা। কহিতে শরম নাই, পশ্চিমের ডাহা ডাহা প-িতেরা বলিয়াছেন, ভাষা পদার্থখানি প্রকৃতি সারিত। মানে বস্তুবিশেষের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ। প্রশ্ন জাগিতেছে, ভাব মালটা আসে কোথা হইতে? খোদ বস্তু নাকি পরমের কোঠা হইতে? বলা দরকার, বস্তু মাত্রই ভাব। ভাব মাত্রই বস্তু নহে! বস্তুর অধিক কিছু? অধিক কিছুই পরম নয় কি? যাহাতে বস্তুও পরম ভাবের ওম পায়। জনে জনে জিজ্ঞাসিতে পারেন, ছফার কবিতায় ভাবের ওমটা কোথায়? উত্তর উপরে নহে, গভীরে।


জন মিল্টনের পাটাতনে বসিয়া খালি খালি কতক ইংরাজ কবি নহে, কত কত বাঙালি কবি শহীদ হইয়াছেন, তাহার খবর রাখিতেছে কে? প্রভু যুদ্ধের ময়দান কতদূর? নদ আর নদীতে কতই বা রক্ত বহিতেছে আর! নিছক ইন্দ্রিয়ানুভূতির রসে ছফা কবিতায় সিক্ত হইতে চাহেন নাই। তাহার রস সদানন্দে। মানে সত্যেরই আনন্দে। তাই ছফার মন সংশয়ী। কবিতায় তাহার জিজ্ঞাসা, আমার কখনো ঘর ছিল কি? সকলেই জানেন, বাংলা জমিনে ঘরবাড়ির তালুকদারি করেন নাই তিনি। ধুরন্ধর বুদ্ধিকে পুঁজি করিয়া বেহাত করেন নাই রাষ্ট্রের অর্থকড়ি। এরই নাম কি সদানন্দ? যাহার কড়িতে অর্থ ফলিতেছে সদাই যাহার আনন্দ!
বাংলা অর্থবিদ্যায় ‘ঘর’ শব্দখানি সংসার কিংবা বাসস্থান অর্থে চালু। তো ছফা ঘরকে রাষ্ট্র বানাইয়া ছাড়িয়াছেন। তাহার রাষ্ট্রে ঘর আর পরের ফারাক ঘুচিয়া গিয়াছে। তাহা কীভাবে? ভাবের লড়াইয়ে। তফাৎ বা বৈষম্য বা শোষণ নাই হইলে তো প্রভু আর বান্দা সাম্যের কুঠুরিতে ঢুকিয়া পড়ে। আমরা বলিতেছি ইহাই তামাম বা আমজনতার রাষ্ট্র। ছফার কবিতায় বর্ণিত ‘আমার’ পদখানি আর শুধু আত্মরতির ‘আমি’ বা নিছক ‘বান্দা’ বলিয়া হাজির থাকিতেছে না। ‘আমার’ হইতেছে তফাৎহীন ঘর আর পরের যৌথ উৎপাদন। মানে বান্দার সহিত সম্পর্কিত পর-মার সামাজিক উৎপাদন। ইহাই কি ছফার ইউটোপিয়া?
প্রশ্ন খাড়ায়, মায়ার ভগ হইতে ভাগ হইয়া বান্দা বা সন্তান ‘আমার’ বলিতেছে কেন? আমার ভগে বা গর্ভে দুইপদ! একপদে আম বা আমি, অন্যপদে আর বা তামাম। কেননা ছফার ‘আমার’ আম ও তামামের মহামিলন। ইহাতে আমরা দেখিলাম ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের নতুন কবর। এহেন মহামিলনের সন্ধান যাহারা পাইয়াছেন তাহারাই তো জগতে ‘মানুষ’ সাব্যস্ত হইয়াছেন। আর যাহারা পান নাই তাহারাই তো বুর্জোয়া রাষ্ট্রের অর্থ-মাংসখেকো সুশীল সমাজ বা অভ্যস্তর দাসে পরিণত হইয়াছেন। দেখা যাইতেছে ‘তবু লোক’ নামের কাহারা ছফাকে পুছ করিতেছে ঘরের খবর। সুশীল সমাজ নয় কি? ছফাও তাহাদের ঢুকাইয়াছেন ‘তবু’ অব্যয় নাম পদের কুঠুরিতে!
ছফার কাছে ইহাদের জিজ্ঞাসা অসার! কেননা ‘সুশীল সমাজ’ নামক উপজাতখানি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সরল ক্রীড়নক। রাষ্ট্র তাহাদের লইয়া খেলে এবং খেলায়। সুশীল সমাজই তো কথিত শোষক রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও ব্যক্তি স্বার্থের প্রদায়ক। ফরাসি দার্শনিক জাঁ জাক রুশোর (১৭২২-১৭৭৮) ‘অসাম্যের আদি কথা’ বহিতেও মিলিতেছে এহেন সুশীল মথ। ছফার রাষ্ট্র তাহা হইতে চিনদূরে।
তো আহমদ ছফার কবিতা কী পদার্থ? ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের নামে যাহারা সুশীলের মর্ষকাম করিতেছে, হয়তো তাহাদের কাছে ছফার কবিতা ‘কবিতা’ পদবাচ্য নহে। কবিতাখানি কবিতার অধিক গান। প্রাণ যাহাতে যৌথ জীবনের সামাজিক মর্ম ভেদ করিয়া ওঠে। কারণ কবিতাই তো যৌথ চেতনার সামাজিক ভাষ্যে ঘর আর পরকে এক করিয়া ছাড়ে। ছফার কবিতা তাহা নয় কি?


মহাত্মা ফ্রিদারিখ এঙ্গেলস ১৮৯০ ইসায়ি সনে জে ব্লশের সকাশে একখানা চিরকুট লিখিয়াছিলেন। তাহার ভাষ্য, ‘ইতিহাস নির্ধারিত উপাদান শেষ নাগাদ বাস্তব জীবনের উৎপাদন ও তাহারই পুরুৎপাদন।’ আর উৎপাদনের ভেতরে মিলিতেছে সত্যের সন্ধান। তো কতখানি অঙ্গার হইলে ইতিহাস খাঁটি হয়? তাই তো ছফার কবিতার সাকিন আহিতাগ্নি। ইতিহাসের যজ্ঞেই যাহা সম্পাদিত। যাহার আপাদমস্তক হিত।
ফরাসি বাড়ির কবিরাজ সিগমুন্ড ফ্রয়েড (১৮৫৬-১৯৩৯) প্রণীত ‘স্বপ্নের বয়ান’ বহির এক স্বপ্নাদর্শীর কথা এখন আমরা শুনিব। ফ্রয়েডের জবানে, এক ব্যক্তির সন্তান গত হইয়াছে। চলরীতি মোতাবেক মরা সন্তানের চারিপাশে চেরাগ জ্বালানো হইল। পাহারা বসাইতে ভাড়া করা হইল লোক। তো সন্তানের বাজান পাশের ঘরে নিন্দ্রামগ্ন। দুই ঘরের দরজাও খোলা। পিতা স্বপ্ন দেখিলেন, সন্তান সামনে দাঁড়াইয়া বলিতেছে, আব্বাজান দেখিতেছেন না আমি পুড়িতেছি। পিতার ঘুম ভাঙিয়া গেল। পাশের ঘরে দেখিলেন, পাহারাদার ঘুমে অচেতন। একখানা চেরাগ পড়িয়া সন্তানের গায়ে আগুন লাগিয়াছে। তাহাতে সন্তানের একহাত পুড়িয়া গিয়াছে।
সত্যি সত্যি দেখিলাম আমরা, পিতার স্বপ্ন সত্য। আর পরখ করিলাম পিতার কাছে পুত্র গত নহে। ইহাতে পুত্রের দেহের অবসান হইলেও পিতার বাসনার অবসান হয় নাই। হইবে কোথা হইতে খোদ ঘর আর পর সত্যের মুখোমুখি হইতেছে বাসনার রাজ্যে। সত্যের এহেন মিলনের নাম কি বাসনা দেওয়া যায়? যাহা জাগে আর জাগায় বারবার। বাসনার সত্যে। নিখিল জগতে ইহা হয় তো ইউটোপিয়া। তাহা নয় কি?

২৫ জুন ২০০৯

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: