জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

সলিমুল্লাহ খান
এই ধুলার ধরা হইতে শেষ যাত্রার সামান্য কিছুদিন আগে মহাত্মা আহমদ দফা একবার বর্তমান জগতের কেন্দ্রস্থল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করিয়াছিলেন। সে দেশে তাহার দেখা পাইয়া আমার মন ভাঙ্গিয়া পড়ে। বিগত দেখার প্রায় আট বছর পরের ঘটনা। তাহার স্বাস্থ্য নত হইয়াছে। তিনি যেমন আগ্রহ করিয়া বাঁশিতে ফুঁ দিতেন তেমন আগ্রহ করিয়া আপন হাতে অনূদিত জার্মান মহাকাব্য ‘ফাউস্ট’-এর কথা পাড়িলেন। এক দাঁড়ি পর জিজ্ঞাসা করিলাম_ ‘দ্বিতীয় খণ্ডের তর্জমা করিবেন কি?’ জবাবে তিনি যাহা বলিলেন তাহার সারমর্ম_ না, করিবেন না। কারণ? তিনি বলিলেন, ‘আমি গ্যেটের অনুবাদক পরিচয়ে বাঁচিতে চাহি না।’
আহমদ ছফা কম করিয়া হইলেও আটখানা উপন্যাস বা কাহিনী লিখিয়াছেন। তিনি চাইতেন সেই কাহিনী লইয়া লোকে কথা বলুক। বিধাতার ইচ্ছায় সংবাদপত্রে যাহাকে বলে ‘স্তম্ভ’ তাহাও তিনি কিছু লিখিতেন। সেইগুলি কিছু বেশি আলোচনার বিষয় হইয়াছে বলিয়া তাহার কাহিনী খানিক হেলায় ম্লান হইয়াছে। অন্তত এই রকম অভিমান তাহার ছিল। অন্য অনেকের মধ্যে আমিও খানিক অবহেলা করিয়াছি। ‘সূর্য তুমি সাথী’ লইয়া কোনদিন বিশেষ আলোচনায় বসি নাই।
তাহার পহেলা কাহিনীর বই ‘সূর্য তুমি সাথী’ ১৯৬৭ সালে ছাপা হইবার পর তেমন হৈ চৈ পড়িয়া যায় নাই। প্রকাশকের দেওয়া তথ্য মোতাবেক বইটি লেখা হইয়াছিল প্রকাশনার তিন বছর আগে_ মানে ১৯৬৪-৬৫ সালে। তরুণ বয়সের উচ্ছ্বাস বলিয়া ইহা তিনি ফেলিয়াও দেন নাই। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘আহমদ ছফার পাঁচটি উপন্যাস’ নামধারী সংকলনেও এই কাহিনী ঢুকিয়া পড়িয়াছে।
এই সংকলনেরই ভূমিকার ছলে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস লিখিয়াছিলেন গল্প বলার ক্ষমতাটি তিনি অল্প বয়সেই রপ্ত করিয়াছিলেন। তাই পাঠক তাহার ডাকে সাড়া দেয়। কিন্তু ইলিয়াস বলেন নাই সেই ডাক প্রকৃতির ডাকের মতন কি-না। তিনি শুদ্ধ যোগ করিয়াছিলেন ‘সূর্য তুমি সাথী’ বইটিতে আহমদ ছফা ‘একটু বুড়িয়ে’ চলিয়াছেন।
আখতারুজ্জামানের এই মত কিছু অংশে মাননীয়। তবে যাহা তাহার চোখ এড়াইয়া গিয়াছে এই আবেদনে আমি তাহার কথা বলিব। এই কাহিনী পড়িয়া আমার ভ্রম হইতেছে আহমদ ছফা বরং ‘একটু খুঁড়িয়ে’ চলিয়াছেন।

‘সূর্য তুমি সাথী’ কাহিনীর বিষয়বস্তু এক নহে, অনেক। এক হিসাব অনুযায়ী দেখা যায় ১৯৬০ সালের দশকে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল হইতে জায়গাজমি হারাইয়া মানুষ শহরে আসিতেছে, কাজ খুঁজিতেছে কারখানায়। চট্টগ্রাম শহরের পাটকলে কাজ করিতে আসিবার জন্য আহমদ ছফা কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পার হইতে যাহারা দল বাঁধিতেছে তাহাদের একজনকে নায়ক বানাইয়াছেন। দোহাজারি বা শঙ্খ নদীর পাড় পর্যন্ত যে রেলপথ বসিয়াছে আহমদ ছফা তাহার নায়ক হাসিমকে সেই রেলে চড়াইয়া কর্ণফুলী তীরের পাটকলে আনিয়া দিয়াছেন।
শেষ রাতে গ্রাস ছাড়িয়াছে দুইজন মানুষ। একজন হাসিম। আর জন জোহরা। সোমবার দিন সূর্য ওঠার অনেক আগেই পথ দিয়াছে দুইজন। চারিদিকে কুয়াশা পড়িয়াছে। আকাশে শুকতারাটি দপদপ করিতেছে। ঘরে ঘরে ঝুঁটি দুলাইয়া মোরগ বাঁক দিতেছে। হাসিম আর জোহরা যাইতেছে বাঁকা পথ বাহিয়া, গ্রামের সীমানা ছাড়াইয়া। যাইতেছে চিরদিনের জন্য। হাসিমের বুকের ভিতর কান্নার নদী। পায়ের তলায় মায়ের আদর ভেজা ধুলায় মিশিয়া রহিয়াছে। এক সময় ইস্টেশন আসিল। সিগনালের লাল আলোটা বাঘের চোখের মতো। গার্ড সবুজ পতাকা দোলাইয়া হুইসেল দিলে রেলগাড়ি চলিতে লাগিল। ট্রেন ছুটিয়াছে পশ্চিম দিকে। ঝিক ঝিক ঝিক। সূর্যটা লাফিয়ে পশ্চিমে চলেছে। সূর্যকে সাথী বলিবার রহস্য এই যুগে আসিয়াও ফুরাইল না।
কে এই হাসিম? আর কে এই জোহরাই বা? হাসিমের বাবার আদ্য নাম ছিল হরিমোহন। ধর্মান্তরিত নাম দাঁড়াইয়াছিল মুহম্মদ ইসমাইল খান। সেই ইতিহাস বঙ্গদেশীয় মুসলমানেরই সামাজিক ইতিহাস। প্রেমে পড়িয়া_ শুদ্ধ কি প্রেমে পড়িয়া_ হরিমোহন মুসলমান হইয়াছিল। কিন্তু তারপরও তাঁহার প্রণয়িনীর পাণি লইতে পারে নাই। কাজিবাড়ির বাঁদীর সহিত তাঁহার অশুভ বিবাহ হয়। সেই বিবাহেরই সন্তান হাসিম। ধর্মান্তরিত নিচু জাতের হিন্দু সন্তান হিসাবেই সকলে হাসিমকে জানিত। শেষ পর্যন্ত হাসিম কৃষক সমিতির কর্মী হওয়া নতুন জীবনের সন্ধান পায়। নাটক জমিয়া উঠিবার জন্য যাহা যাহা দরকার কাহিনী তাহাই। হাসিমের সহিত গ্রামের এক দরিদ্র সন্তানের বিবাহ হয়। সেই ঘরে তাহাকে দেখিবার জন্য লুকাইয়া লুকাইয়া আসেন তাহার বৃদ্ধা দাদি অথবা ঠাকুর মা। সমাজ তাহা কিছু গ্রহণ করে। কিছু করে না। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজেই এই সহজ ও কঠিন_ দুই জাতির মানুষ পাওয়া যায়।
হাসিমের সন্তান প্রসূতি স্ত্রী সুফিয়া প্রসবকালে প্রাণত্যাগ করিয়া শহীদের মর্যাদা পায়। তাহার মাতৃহারা শিশু সন্তান কে পালন করিবে? গ্রামের এক দুর্বৃত্ত সচ্ছল কৃষকের বিধবা ভাইজি জোহরা হাসিমের সাহায্যে আগাইয়া আসে। আসিলে কি হইবে? গ্রামের দুই দল ধনী কৃষকের বিবাদে একজন গরিব চাষী খুন হয়। সেই খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা দারোগা সাহেবের মনোরঞ্জনের শিকার হয় মাতবরের গরিব আত্মীয়া জোহরা। অবৈধ সন্তানের গর্ভধারিণী মা জোহরা ও সদ্য পত্নীহারা হাসিম গ্রাম ত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করিবে।
শুদ্ধ গ্রাম নহে। সদ্যোজাত মাতৃহারা শিশুকেও পুষিতে দেয় পরিবারে।
এয়ুরোপ মহাদেশ হইতে আগত ধনতন্ত্রের পাড়ভাঙ্গা ঢেউ বাঙ্গালার চট্টগ্রাম উপকূলেও আছড়াইয়া পড়িয়াছে। রাষ্ট্রের ভাঙ্গা ও গড়ার ইতিহাসে এই অগ্রগতি কয়েকটি প্রশ্ন আনিয়া হাজির করিল। তাহাদের একটি হিন্দু ও মুসলমানের বিরোধ অন্যটি মালিক ও শ্রমিকের দ্বন্দ্ব। এই সকল প্রশ্নে আহমদ ছফার কান খাড়া হইয়া আছে।
১৯৬০ সালের দশকে বাংলাদেশের ইতিহাস নতুন মোড়ে ফিরিবার আয়োজন করিতেছে। আহমদ ছফা এক ঢিলে দুই মোড় পাহারা দিবার ব্যবস্থা করিলেন। তিনি একই কাহিনীতে হিন্দু-মুসলমান ও ধনী-গরিব সমস্যার অনুসন্ধান শুরু করিলেন। তাহার ফলে দুই সুফল ফলিল। নিম্নবর্ণের হিন্দু মুসলমান হইলেও নিম্নবর্ণের মুসলমান থাকিয়া গেল। বর্ণভেদকে এসলাম ধর্মও ভেদ করিতে পারে নাই। এই অভিযোগ গুরুতর। অন্তত নাক সিটকাইয়া ফেলিয়া দিতে পারিবেন এহেন অভিযোগ মাত্র নয়। ইহা হইতে মুক্তির উপায় কোথায়? আপাতত শহরের পাটকলে বলিয়াই মনে হইতে পারে।
কিন্তু ইহাও সে আরেক এসলাম মাত্র সেই চেতনা কাহিনীর ভিতর নাই। না থাকিলেও টের পাওয়া যায় সূর্য নীল আকাশের ঘন বনরেখার ললাটদেশে উঁকি দিয়াছে, পূর্বদিক রাঙাইয়া যাইতেছে। শুদ্ধ ঠাহর করিতে হইবে সূর্যের এই বাঙালি নিছক হাসিমের চেতনার আকাশে আর ছোট্ট বরগুইনি নদীর জলের হৃদয়ে।
কেহ কেহ ভাবিতে পারেন বেশি বেশি নাম জানা নাম অজানা রুশী উপন্যাস পড়িবার ফসল এই উপন্যাস। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হয়তো ইহাকে খোঁড়াইয়া চলা বলিয়াছেন। আমাকে বরং টানিতেছে কর্ণফুলী পারের পাটকল নহে, জোহরার গর্ভে আগত নাম না জানা দারোগার অপত্যও নহে। টানিতেছে হিন্দু-মুসলমান সম্বন্ধের নতুন সংস্করণে। কলেমা পড়িয়া মুসলমান হইলেই মানুষ মুসলমান হয় না। মানুষ হইতে হইলে কৃষক সমিতি করিতে হয়। পাটকলে শ্রমিক হইতে হয়, নিজ ঔরস ছাড়িয়া অন্য ঔরসের সন্তান আপন করিতে হয়। সোজা কথায় এক আব্বাজানের স্থলে ‘কতিপয় আব্বাজান’ হইতে হয়। ‘কতিপয় আব্বাজান’ কি বস্তু তাহা হাসিমের মধ্যে আয়ুদানা বাঁধিয়াছে।
পরলোকগত ঔপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যদি বাঁচিয়া থাকিতেন তাহাকে আবেদন করিতাম সূর্য তুমি সাথী কাহিনীর মাত্র দশ বছর আগে প্রকাশিত আবুল ফজলের কাহিনী ‘রাঙা প্রভাত’ পড়িয়া দেখিতে। আবুল ফজলের এই বই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজে ও অনার্স ক্লাসে পাঠ্য হইয়াছিল। এই বই সম্পর্কে কাজী আবদুল ওদুদ খোদ লেখকের কাছে এক পত্রযোগে লিখিয়াছিলেন দেশ বিভাগের ফলে মানবতার যে লাঞ্ছনা ঘটে সেই লাঞ্ছনায় লেখকের হৃদয় ব্যথিত হইলেও পরাজিত হয় নাই। রাঙা প্রভাতের উৎকীর্ণ লিপিতে পাওয়া যায় জনৈক ইংরেজ লেখকের বাণী যাহাতে বলা হইয়াছে : শিল্পকর্মের মূল শুদ্ধ সুন্দরের ব্যবসায় নহে। ঠিক কাজটি করিলেই শিল্প মূল্য পায়।
এই ঠিক কাজটি কি? আবুল ফজলের নায়ক-নায়িকা মুসলমান জমিদারের নাতি ও হিন্দু মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। হিন্দু ও মুসলমানের বিরোধ আবুল ফজলের রাঙা প্রভাত উপন্যাসের বিষয়। সেই বিরোধের পরিণতিতে দেশভাগ। তবুও নায়ক ও নায়িকা এই কাহিনীর মধ্যে মিলিত হইতে পারিয়াছে। সেখানে মুসলমান কামালের হিন্দু স্ত্রী মায়া হঠাৎ সাগরের দিকে মুখ করিয়া নত হইয়া মাটিতে মাথা ঠেকায়। বিস্মিত কামাল জিজ্ঞাসা করিতেছে_ ও কি? তুমি নামাজ পড়া কখন শিখিলে? মাথা তুলিয়া মায়া জানাইতেছে আমার জন্মভূমিকে অভিবাদন করিতেছি মাত্র। মনে রাখিতে হইবে মায়ার পরিবার চট্টগ্রামের গ্রাম ছাড়িয়া কলিকাতায় চলিয়া গিয়াছে। আর মায়া দেশে-জন্মভূমিতে ফিরিয়া আসিয়াছে। প্রেম নিস্ফল হয় নাই। তাহাদের ধর্ম একই ধর্ম। ইহা দাদাই বলিয়া গিয়াছেন _আমাদের মন্ত্র হইবে মানবতন্ত্র। কোনো ধর্মের মহৎ শিক্ষাকেই আমরা নির্বাসনে পাঠাইব না।
অধ্যাপক আবুল ফজলের কাহিনী শেষ হইয়াছে মাত্র একটি চুম্বনে। এই চুম্বন আঁকিয়া দিয়াছিল কামাল। এক সময় তাহার নামকেই হিন্দু বন্ধুরা ‘কমল’ করিয়া তুলিয়াছিল। আঁকিয়া দিয়াছিল যাহার কপালে সেই কপাল শুভ্র সূর্যকরোজ্জ্বল। তাহার নাম মায়া। কাহিনীকার লিখিয়াছেন_ ‘নির্জন সমুদ্র তীরে সেই শুভ মুহূর্তে প্রভাতী সূর্যকিরণ যেন জীবন-পথের এই দুই নবীন যাত্রীকে আশীর্বাদ’ জানাইল। উদ্দেশ্য : আজিকার এই প্রভাত যেন দেশের ও তাহাদের নিজ নিজ জীবনে নতুন যুগের ও নতুন জীবনের রাঙা প্রভাতেরই সূচনা করিবে। সেই যুগ ও সেই জীবনের প্রার্থনা শান্তি, অফুরন্ত শান্তি।
আবুল ফজল যদিও জানেন না এই প্রার্থনাও আরেক এসলামই মাত্র তবু আমরা প্রশ্নটা শুনিতে পাই। তাহারা কি পারিবে না এই শান্তির দূত হইতে? উত্তরও শুনিতে পাই : কেন পারিব না? চলিতে চলিতে তাহারা ট্যাঙ্কির দিকে আগাইয়া গেল। ঘটনার স্থান চট্টগ্রাম, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। আহমদ ছফার ঘটনাও চট্টগ্রামে। সূর্যটা পূর্বে।
আহমদ ছফার ‘সূর্য তুমি সাথী’ ও আবুল ফজলের ‘রাঙা প্রভাত’ মিলাইয়া পড়িলে আরও মজার মজার জিনিস দেখা যাইবে। কিন্তু তাঁহাদের পার্থক্যটিও আমল করিবার মতন। আবুল ফজল ধর্মের বিরোধকে ধর্মের বিরোধ হিসাবেই দেখিয়াছেন। তাই প্রেম দিয়া তাহা জয় করিবার সাহস তাঁহার হইয়াছে। আহমদ ছফা ধর্মের সহিত রাষ্ট্র ও জাতির জন্মকে জড়াইয়া ধরিয়াছেন।
দুইজনের পার্থক্য তাই তিন ও দুইয়ের পার্থক্যের মতন। আহমদ ছফার জন্মদিন ৩০ জুন আর আবুল ফজলের জন্ম ১ জুলাই। তাই তাঁহাদের বয়সের ব্যবধান ১ দিন কম ৪০ বছর। কিন্তু তাঁহাদের এই দুই উপন্যাসের ব্যবধান তাহার চেয়েও সামান্য বেশি বলিয়াই মনে হইতেছে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: