জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় প্রতিটি সরকারই শিক্ষা কমিশন গঠন করে। কিন্তু কমিশনের সুপারিশসমৃদ্ধ প্রতিবেদন অনুযায়ী কিছুই করা হয় না। একসময় প্রতিবেদনটি চলে যায় হিমাগারে। আবার প্রতিটি সরকারই শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ রাখার দাবি করে। অথচ পরিসংখ্যান অনুযায়ী শিক্ষায় মাথাপিছু বিনিয়োগ কোরিয়ায় ১৭৫ ডলার, মালয়েশিয়ায় ১৫৫ ডলার, ভারতে ১৪ ডলার, পাকিস্তানে ১০ ডলার এবং স্বাধীন বাংলাদেশে তা মাত্র পাঁচ ডলার। সংগত কারণেই আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু যে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো, গ্রন্থাগার আর পরীক্ষাগারের অভাব রয়েছে তাই নয়, ছাত্রসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকেরও অভাব রয়েছে।
ছোট, ক্ষুদ্র, মাঝারি উপরিপ্রাপ্তির সম্ভাবনাময় চাকরি না পেয়ে অনেকে অবশেষে শিক্ষকতার মহান পেশায় নাম লেখাতে বাধ্য হন। উপরন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করার জন্য যে ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে তাও অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত লোকজন নিয়েই গঠিত হয়ে থাকে। শিক্ষা সম্পর্কে নিজেদেরই ধারণা নেই, অঙ্গীকার নেই, তাঁরা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের উপদেশ দেবে কীভাবে?
কয়েক বছর ধরে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সম্মেলনে লব্ধপ্রতিষ্ঠ শিক্ষাবিদেরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে উন্নয়নকামী দেশগুলো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের উচ্চশিক্ষার অবস্থা যে নাজুক তা বোঝার জন্য একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই বিশ্বের এক, দুই কিংবা তিন হাজার শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কোনোমতে চার হাজারের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি লজ্জাজনক। শ্রেয়তর র‌্যাংকিংয়ের সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য/প্রেসিডেন্টদের গুণাবলি, বিশেষ করে দুরদর্শিতাকে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কর্মকান্ড দেখে মনে হয় না যে, শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যোগ্য নেতা নির্বাচনে আমরা তেমন গুরুত্ব আরোপ করি। এটা শুধু সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই প্রযোজ্য নয়, আমাদের স্কুল-কলেজগুলোও এ অভিশাপ থেকে মুক্ত নয়।
এ ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে তরুণ কিশোরদের অফুরন্ত প্রাণশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎকর্ষ অর্জনের জন্য নানা ধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলেও অভাবনীয় ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। সুস্থ জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা উৎকর্ষ অর্জনে কীভাবে কার্যকর ভুমিকা পালন করতে পারে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো এসিএম প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। আমাদের দেশে এ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি ক্রমশ বেগবান হচ্ছে। এর ফলে এবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ৩৫টি দেশ থেকে যে ১০০টি দল অংশ নিয়েছিল, তার তিনটি বাংলাদেশ থেকে আর মাত্র দুটি ভারত থেকে। উপমহাদেশের এই পাঁচটি দলে মধ্যে যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংক পেয়েছে তা বাংলাদেশের। জ্ঞানবিজ্ঞানের কোনো শাখায়ই সম্ভবত আমরা ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে পারব না, কিন্তু এমন আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় বিগত ১২-১৩ বছর আমাদের ছাত্রদের শ্রেয়তর অবস্থান প্রমাণ করে, সুস্থ জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা তরুণ-কিশোরদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অপরিসীম অবদান রাখতে পারে।
ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে যে পদক্ষেপগুলো বলিষ্ঠ অবদান রাখতে পারে তা হলো:
১. প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ছাড়াই যেসব অযোগ্য, দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি স্কুল-কলেজের প্রধানের পদ দখল করে আছে তাদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২. স্কুল-কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা উচিত। এই কমিটির সদস্যরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে শিক্ষকদের যাতে কার্যকর পরামর্শ দিতে পারে, তার জন্য প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়গুলোয় গুণগতমানসহ স্মাতক এবং কলেজগুলোর জন্য গুণগতমানসহ স্মাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা বাঞ্ছনীয়। সাংসদ এবং অন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ভুমিকা ও মাত্রা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকতে হবে।
৩. প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুযোগবঞ্চিত ছেলেমেয়েরা যাতে উন্নতমানের পাঠ পেতে পারে, এ জন্য প্রতি শ্রেণীর প্রতি বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে কম্পিউটার এইডেড লার্নিং প্যাকেজ তৈরি করতে হবে। কম্পিউটারে রক্ষণাবেক্ষণ এখনো ব্যয়বহুল বলে শিক্ষার জন্য একটি টিভি চ্যানেলকে সারা দিনের জন্য ব্যবহার করা যায়, যা সময়সুচি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তৈরি প্যাকেজ ব্যবহার করে অনুষ্ঠান প্রচার করবে। প্রতিটি স্কুল-কলেজে এসব অনুষ্ঠান বিভিন্ন শ্রেণীর ছাত্রদের জন্য পালাক্রমে দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৪. শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে তরুণ-কিশোরদের অফুরন্ত প্রাণশক্তিকে জ্ঞানান্বেষণে ব্যবহারের জন্য সব বিষয়ে সব শ্রেণীর জন্য অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। বর্তমানে আমাদের সমাজে পাবলিক পরীক্ষা ও মূল্যায়নপদ্ধতির ওপর আস্থা কম। সুতরাং পাবলিক পরীক্ষার সমান্তরালে ছাত্রদের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা চেক অ্যান্ড ব্যালান্স হিসেবেও কাজ করতে পারে।
৫. বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতির গুটিকয়েক ধাপ কোনোমতেই শিক্ষার্থীদের গুণগত মান যথাযথ মাত্রায় মূল্যায়ন করতে পারে না−যার ফলে সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েও ছাত্ররা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ৬০-৭০ হাজার ছাত্র সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়ে প্রমাণ করছে, বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতি ছাত্রদের অর্জিত জ্ঞানের মাত্রাকে পার্থক্য করতে পারছে না। সারা পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতামূলক যেসব পরীক্ষা রয়েছে তার কোনোটিই আমাদের জিপিএ সিস্টেমের মতো স্বল্প ধাপের নয়। ভারতের আইআইটিগুলোর জন্য ব্যবহূত জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যাট পরীক্ষার স্কোরগুলো এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
৬. বিভিন্ন পাবলিক ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবং নানা ব্যাপ্তি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে র‌্যাংক করে জ্ঞানান্বেষণের একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু করতে হবে। অর্জনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দিতে হবে। আমাদের দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর কম্পিউটারায়ন হয়েছে অনেক বছর আগে। কম্পিউটারায়নের শক্তি শুধু দ্রুতগতিতে পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে লব্ধ ফলাফলকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের জন্য নানা পরিসংখ্যান, ট্রেন্ড বিশ্লেষণ কিংবা নানা তথ্যের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, তা বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত বেকারের দেশে মানুষের শ্রমকেই কেবল কম্পিউটার দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, উন্নততর নীতিনির্ধারণের জন্য উপাত্তকে বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
৭. পাবলিক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার আবশ্যক। যে প্রশ্নে লাখ লাখ ছাত্রের মেধা ও জ্ঞানকে মূল্যায়ন করা হবে, তা প্রণয়নে আয়োজন এবং সম্পদের বিনিয়োগ হতে হবে অনেক গুণে বেশি। শিক্ষার মানের অবনতিতে কোচিং সেন্টারগুলোকে ‘কেষ্টা বেটাই চোর’ বলা অর্থহীন। কারণ কোচিং সেন্টারগুলো না প্রশ্নপত্র তৈরি করে, না মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছাত্ররা ভর্তি হয় তার হয়তো শতকরা ৯৯ ভাগই কোচিং সেন্টারে পড়েছে। শুধু তাই-ই নয় অনেকেই বিশ্বাস করে দুই বছরে কলেজে যা শিখেছে কয়েক মাসে কোচিং সেন্টার থেকে শিখেছে তার চেয়ে অনেক বেশি। কোচিং সেন্টারগুলো যে অকার্যকর তা প্রমাণ করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নের ওপর প্রতিনিয়ত গবেষণা করা উচিত এবং এর জন্য আয়োজন ও বিনিয়োগের পরিসরও বৃদ্ধি করা উচিত।
৮. এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব নানা সময় এসেছে। বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির জন্য বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান যেমন প্রয়োজন ঠিক তেমনি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলই যদি শেষ কথা হয় তাহলে ভর্তির আগের তিন-চার মাসের অল্প সময়টিকে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তার কথাও ভাবতে হবে। অন্তত অলস মস্তিষ্কক শয়তানের লীলাভুমিকে এড়িয়ে চলতে হলেও ভর্তির জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে সমগ্র ভারতে ভর্তির জন্য যে ধরনের বিষয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে তা অনুসরণ করা যেতে পারে। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রিকালচার, ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং নানা প্রয়োজনীয় গ্রুপে ভাগ করে সব বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের জন্য ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে প্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও মাত্রাতিরিক্ত বিড়ম্বনা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া যায়।
৯. অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশের স্কুলে ভর্তি হতে হলে একটি ভৌগোলিক সীমানার বাসিন্দা হতে হয়। আমাদের দেশেও এ ধরনের নিয়ম চালু করা উচিত। এর ফলে দুরদুরান্ত থেকে একটি নামকরা স্কুলে যাতায়াতের জন্য যেমন যানজটের সৃষ্টি হবে না ঠিক তেমনি বিভিন্ন এলাকার স্কুল-কলেজগুলোর মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
১০. শিক্ষা খাতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হবে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভাবমূর্তি সংকটে ভুগছে। যথাযথ মানের শিক্ষাও দিতে পারছে না। এমতাবস্থায় ওয়েবসাইটে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোমপেজ তৈরি করতে হবে এবং তা প্রয়োজনীয় উপাত্ত দিয়ে সমৃদ্ধ করতে হবে, যাতে করে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা তাদের শিক্ষকদের কর্মকান্ড, অর্জন, সাফল্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারে।
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড এই বাক্যটিকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে শিক্ষার উন্নতির জন্য অঙ্গীকার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যে কোরীয়দের খাবার পাত্রে একসময় ভাত ছাড়া কিছুই জুটত না, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আজ তারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্বে, অঙ্গীকারে আর দুরদর্শিতায় আমরাও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নতির পথে ধাবিত হব−এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফেলো বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: