জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এবং নিরাপদ সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকও আর নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারছে না। সাইবার অপরাধীদের সুক্ষ্ম কারসাজিতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ এখন নাজেহাল অবস্থায় পড়ছেন। সে রকম একজন ভুক্তভোগী মাসাচুসেটসের ওরচেস্টার এর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজার লিসা সিভারিনস। দিন কয়েক আগেই এক বাজে ভাইরাস তার ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বসে। তারপর থেকেই লিসার সহকর্মীদের মেইলে তার ঠিকানা থেকে প্রচুর পর্নোছবি পাঠানো শুরু হয়। ব্যাপারটি এমন একটি পর্যায়ে চলে যায় যে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ দিয়েও সারানো যায়নি। ফলে চাকরিদাতা লিসাকে নতুন একটি কম্পিউটার দিতে বাধ্য হয়। লিসা বলেন,“এ ঘটনায় আমি লজ্জায় মরে গিয়েছিলাম।” এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বহু কোম্পানি এবং ব্যক্তিকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়। ফেসবুকের মাধ্যমে খুব দ্রুত এসব ভাইরাস ছড়াতে পারে। দু’ বছর আগে হ্যাকারদের কারসাজিতে মাইস্পেসের মতো জনপ্রিয় সাইট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই এখন হ্যাকারদের লক্ষ্য ফেসবুকেও ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া। বিশ্বের ১২০ মিলিয়ন মানুষ এই মুহূর্তে ফেসবুক ব্যবহার করে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে ফেসবুকের ইউজার হবে ২০০ মিলিয়ন। ওয়েব সিকিউরিটি কোম্পানি স্ক্যানসেফ এর সিনিয়র কর্মকর্তা ম্যারি ল্যান্ডসম্যান বলেন,“ফেসবুক হচ্ছে সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের স্বর্গ। আক্রমণকারীরা সব সময়ই সেখানেই যায় যেখানে লোকের যোগাযোগটা বেশি।” ইউজারের বন্ধু সেজে প্রথমে তার একাউন্টে ভুয়া মেইল পাঠায় হ্যাকাররা। এসব ওয়েবসাইটের কাজই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা এবং ভাইরাস ছড়ানো। হ্যাকাররা এভাবে সুকৌশলে পরিচয় চুরি হওয়া এসব আক্রান্ত পিসির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং একইভাবে আরও অনেককেই আক্রমণ করে। অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটো সদরদপ্তর থেকে ফেসবুকের নিরাপত্তা রক্ষায় নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্প্যাম এবং বিদ্বেষপূর্ণ মেসেজ মুছে দেওয়া হয়। যে কারণে অন্যান্য সাইটের তুলনায় ফেসবুক এখনও অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু সাইবার অপরাধীরা বসে নেই। তারাও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফেসবুকে ভাইরাস ছড়াতে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা সাফল্যও পেয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকের মুখপাত্র সাইমন এঙটেন জানিয়েছেন, দিন দিন আক্রমণের পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে। তবে গত পাঁচ বছরে সফল আক্রমণের হার ১ ভাগ। তুলনায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের আক্রান্ত ডাটার পরিমাণ ৩ ভাগ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: