জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

143037_1ভেড়ামাড়ার এ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যৌতুক বিহীন বিয়ের নামে উপজেলায় গণ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ১০ জোড়া বালক-বালিকার বিয়ের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোগে গত শুক্রবার বিকাল ৬টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই গণ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে অনুষ্ঠানে যৌতুক বিহীন গণবিয়ের নাম করে ঐ সংস্থা ১০ থেকে ১৫ বছরের বালক-বালিকাদের বিয়ে দেয়।

বিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাসদ সভাপতি, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক শায়খুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাজাহান আলী, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোল্লা মাহমুদ হাসান, ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের খুলনা বিভাগীয় আমীর মওলানা ইমদাদুল্লাহ কাশেমী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউপি’র চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক-এর সভাপতিত্বে গণ বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বরবেশে আসে দৌলতপুর উপজেলার রুবেল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, হুসাইন, দীন মোহাম্মদ, আরিফুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলার রুবেল আহমেদ, রেন্টু, জুয়েল উদ্দিন ও স্বপন আলী। এদের প্রায় সকলের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। কনে বেশে আসে দৌলতখালী মাদ্রসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী চান্দেরা খাতুন, রিফাতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী শাহানারা খাতুন, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিতা খাতুন, শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী চামেলী খাতুন, ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী পলিয়ারা খাতুন, রায়টা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী কুলসুম খাতুন, দৌলতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর সাথিয়ারা খাতুন, ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী শাহেনা খাতুন, রায়টা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সামিয়ারা খাতুন এবং প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী কাঞ্চন আরা খাতুন। ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার ১২-১৫ বছরের ২০ জন বর-কনে দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা হতবাক হয়ে পড়েন। তারা বিয়ে বন্ধের জন্য দাবি তোলেন। এ সময় শুরু হয় তুমুল হট্টোগোল। এক পর্যায়ে অতিথিদের কাছে কাকুতি মিনতি করেন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা। ১০ জোড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বর-কনের মধ্য থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ২ জোড়া বর-কনে বেছে নিয়ে অতিথিদের সামনে বিয়ে দেয়া হয়। এই দুই জোড়া বর-কনের বিবাহ শেষে হাসানুল হক ইনুসহ অতিথিরা চলে যান। বাকি ৮ জোড়া বর-কনের বিয়ে সম্পন্ন করা হয় আল্লার দরগা মাদ্রাসায়। বাল্য বিয়ে শেষে প্রতি নব দম্পতিকে একটি করে গরুর বাছুর ও একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। হঠাৎ গজিয়ে উঠা ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যৌতুকবিহীন গণবিবাহের নাম করে ঐ সংস্থার সমন্বয়কারী জহীর ইবনে মুসলিম জেলা শহর ছাড়াও ভেড়ামারা, মিরপুর, দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্পপতিদের কাছ থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের চাপের মুখে ২টা বিয়ে দিয়ে আমরা উক্ত অনুষ্ঠান থেকে চলে আসি। আমরা আসার পরে বাকি ৮টার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানতে পেরেছি। বাল্য বিয়ের সাথে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা আমাকে কেউ জানায়নি। বাল্য বিয়ে যারাই ঘটাক তারা বড় ধরনের অন্যায় করেছে। এই ঘটনায় খোঁজ-খবর নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

http://www.ittefaq.com/content/2009/06/28/news0592.htm

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: