জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

আবু মহি মুসা
বর্তমান সময়ে ক্রসফায়ার এবং রিমান্ডে স্বীকারোক্তি আদায়ের প্রসঙ্গটি প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে একটি বহুল আলোচিত বিষয়। প্রায় সব আলোচকই ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যা এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের পদ্ধতিকে সভ্যতার পরিপন্থী বলে মত প্রকাশ করেছেন।
আমি বলব, বিএনপির শাসনামলে তাদের সব কাজকেই যদি নিন্দনীয় ধরা হয়, তারপরও বলতে হবে তারা একটি ভালো কাজ করেছেন আর সে কাজটি হচ্ছে র‌্যাব সৃষ্টি করা এবং এই র‌্যাব সৃষ্টির পর ক্রসফায়ারে অনেক লোক মারা গেছে তাদের হাতে। যদি এ বিষয়ে সমালোচনা করা হয়, তাহলে প্রথমই আলোচনায় আসতে হবে যে, র‌্যাবের হাতে অথবা ক্রসফায়ারে যারা নিহত হয়েছে তারা কারা? এমন কোনো নিরীহ মানুষ, এমন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা নেই, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই? এর একটি উদাহরণও দেয়া যাবে না। যারা র‌্যাবের হাতে মারা গেছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে এবং মামলা রয়েছে তিনের অধিক। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বলছে, এটা হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। যারা মানবাধিকারের কথা বলেন, তারা কি জানেন মানবাধিকার কাকে বলে? জানার কথা নয়। কারণ কোনো মনীষী বা দার্শনিক মানবাধিকারের সংজ্ঞা দেননি। মানবাধিকারের বিষয়টি এত সূক্ষ্ম যে এর সংজ্ঞা জানা না থাকলে কোনটা মানবাধিকার লঙ্ঘন আর কোনটা মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটা বলা সম্ভব হবে না। আমরা এর সঠিক সংজ্ঞা জানি না বলে যখন-তখন যেখানে-সেখানে মানবাধিকার শব্দটি প্রয়োগ করে থাকি, যেটাকে বলা হয় অপপ্রয়োগ। মানবাধিকার দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু তাই নয়, মন, প্রেম, আকাশ ইত্যাদির মতোই একটি কঠিন বিষয়।
মানুষ জন্মগতভাবে অপরাধপ্রবণ। পৃথিবীতে কোনো পশু-পাখির মধ্যে এই অপরাধপ্রবণতা বা অপরাধবোধ নেই। মানুষ সুযোগ পেলেই অপরাধ করে। এমন কি মহামানবদের মধ্যেও রয়েছে অপরাধপ্রবণতা। কিন্তু তাদের এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রিত হয় বিবেক দ্বারা। সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বা অকল্যাণের প্রতি আকর্ষণ বেশি বলেই এই মানবাধিকারের প্রশ্নটি আজ উত্থাপিত হয়েছে জোরালোভাবে। প্রশ্ন হচ্ছে মানবাধিকার কি? মানুষের যে অধিকার, এটাই কি মানবাধিকার? যদিও বলা হয় মৌলিক অধিকার পাঁচটি। কিন্তু দার্শনিক দৃষ্টিতে মানুষের মৌলিক অধিকার হচ্ছে দুটো। একটি খাদ্য, অন্যটি জৈবিক। শিক্ষা, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, যদিও এ সবকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। কিন্তু দার্শনিক ক্ষেত্রে এর কোনো স্থান নেই। খাদ্য এবং জৈবিক এই প্রধান দুটো মৌলিক অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত হলে মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যেতে বাধ্য। মূলত যে অর্থে মানবাধিকার শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা একটু ভিন্ন। জানতে হবে মানবাধিকারের সঙ্গে কোন কোন বিষয় জড়িত। অর্থাৎ কোন কোন বিষয় মানবাধিকারকে অর্থবহ করে তুলছে। মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, মানুষের কল্যাণ, মানুষের স্বাধীনতা, মানবিক মূল্যবোধ, প্রেম ইত্যাদি। আমরা মনে করি, মানুষের বৈধভাবে বাঁচার যে অধিকার, সেটাই হচ্ছে মানবাধিকার। সেই বৈধ অধিকারের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপই হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। কারো স্বাধীনতাকে হরণ করা, কারো অকল্যাণ করা, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অন্যকে নিপীড়ন করা, হত্যা করা ইত্যাদি হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানবাধিকারের ক্ষেত্রটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। একটি রাষ্ট্রীয়, অন্যটি সামাজিক। তাই মানবাধিকারের মধ্যে যদি মানুষের কল্যাণের বিষয় থেকে থাকে তাহলে বলা যায়, যে কাজ বৃহত্তর স্বার্থে বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে করা হয় তা কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে না। একজন ডাক্তার তার সার্জিক্যাল চাকু দ্বারা এক লোকের পেট কেটে দুভাগ করে ফেলেছে, ফলে সে তাতে মারা গেছে, এটা একটি খুনের অপরাধ। বিষয়টি যদি এমন হয় যে, ডাক্তার লোকটির পেট থেকে টিউমার সরাতে গিয়ে তার পেট কেটে এবং তাতে সে মারা গেছে। এটা অপরাধ নয়। অপরাধ নয়, একজন বাস ড্রাইভার বাসের ১০০ যাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে একজন পথচারীর ওপর দিয়ে যদি গাড়ি চালিয়ে যায় এবং তাতে যদি পথচারী মারা যায়। এ উদাহরণগুলো এ জন্য দেয়া হয়েছে যে, আমরা মানবাধিকার কাকে বলে এটা বুঝি না। ক্রসফায়ারে যারা নিহত হয়েছে, তারা খুনী এবং খুনের আসামি। অনেকেই পেশাদার খুনী। সে বেঁচে থাকলে তার হাতে আরো মানুষ খুন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বৈধভাবে বেঁচে থাকার অধিকার কোনো পেশাদার খুনীর থাকতে পারে। প্রশ্ন হতে পারে, দেশে আইন আছে। আইনের মাধ্যমে তাদের ফাঁসি হয়ে যাক। এমন কথাই তারা হয়ত বলবেন। বর্বর যুগের অবসান হয় ধর্মের প্রবর্তনের পর। সে যুগে ধর্মীয় বিধিবিধানে পরকালের শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে। এটা ছিল পরোক্ষ। সে শাস্তির ভয় মানুষকে সঠিক পথে আনতে যখন ব্যর্থ তখনই আইন এবং প্রত্যক্ষ শাস্তির বিধান করা হয়। আইন যখন ব্যর্থ হয়, তখন কি করা উচিত?
হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ডোজের একটি পাওয়ার আছে। প্রথম ডোজে যদি রোগীর রোগ না সারে তখন পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়া হয়। ঠিক তেমনি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়, তখন অপরাধ দমনের আইনের ধারার বা শাস্তির বিধানের পরিবর্তন হওয়া উচিত। ২ কোটি জনগণের জন্য ১০০ বছর আগে যে আইন প্রণয়ন করে গেছে ব্রিটিশ সরকার সেই একই আইন দিয়ে শাসন করা হচ্ছে ১৫ কোটি মানুষকে। ফলে প্রতি দিনই আমরা পত্রিকার পাতায় দেখতে পাচ্ছি সন্ত্রাসীদের হাতে খুন। চাঁদার জন্য যে মানুষটিকে খুন করা হলো, তখন মানবাধিকার সংস্থার মানবাধিকার কোথায় গেল? মানবাধিকার কি কেবল খুনীদের জন্য। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, যে তোমাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছে, পারলে তুমি তাকে ক্ষমা, নতুবা তাকে একটি থাপ্পড়ই দাও। কিন্তু যে খুনী তিনটি খুন করেছে তাকে কি করা উচিত? তাকে উচিত তিনবার খুন করা। এ ক্ষেত্রে দর্শন কি বলেছে, একরকম ক্ষেত্রে কোনো সমাধান খুঁজে না পেলে নিদর্শনের দিকে তাকাতে হবে। যেখানে আইনের মহাগ্রন্থ হচ্ছে বিশ্বপ্রকৃতি। ধান ক্ষেতে যখন ধানের চারা বড় হতে থাকে, ধানের চারার সঙ্গে কিছু আগাছা জন্মে। ভালো ফলনের জন্য সে সব আগাছা নিড়িয়ে দিতে হয়। ঠিক তেমনি সমাজে আগাছার মতো মানুষরূপী কিছু আগাছার জন্ম হয়ে থাকে, সে সব আগাছা নিড়িয়ে দিতে হয় সমাজকে সুস্থ রাখার জন্য। কোন পদ্ধতিতে নিড়ানো হবে এটা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। দেশে দশ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা জেলখানায় পড়ে আছে বছরের পর বছর। এসব কারণে দেশে অপরাধের সংখ্যা আরো বেড়ে যাচ্ছে। কাজেই আমি বলব, এসব বিষয়ে ভালো ধারণা ছাড়া বিতর্কে না যাওয়াই উত্তম। সমাজকে সুস্থ রাখার জন্য কোনো ব্যক্তিকে যদি খুন করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায় তখন তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে ঠিক আগাছার মতো, এ বক্তব্য যতই রূঢ় হোক না কেন। তবে যারা এমন কাজটি করে থাকেন, তারা ফেরেশতা নন। ভুল হতে পারে। যদি কোনো নির্দোষ মানুষকে কোনো কারণে ক্রসফায়ারে দেয়া হয় এবং যদি প্রমাণ করা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ-বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কাজেই আমি মনে করি, ক্রসফায়ার নিয়ে আর কোনো কথা বলা উচিত নয় কোনোভাবে। যারা বলেন, তাদের কাছে ধানের চারার চেয়ে কি আগাছার মূল্য বেশি? মূলত তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন না বলেই এমন কথা বলে থাকেন। দুঃখ হয় তখনই যখন স্বনামধন্য কোনো বুদ্ধিজীবীর মুখ থেকে এমন কথা বের হয় যে ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানবাধিকার লঙ্ঘন তখনই বলা যাবে যখন রাজনৈতিক কারণে যদি কোনো প্রতিপক্ষকে হত্যা করা হয়। এরপর যে বিষয়টি অধিক আলোচিত তা হচ্ছে পুলিশ রিমান্ড। অনেকে বলেছেন, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করা এটা সভ্যতার পরিপন্থী। একটি ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক একটি মিডিয়াতে বলেই ফেলেছেন যে রিমান্ডে নেয়া বন্ধ করা উচিত। এ বিষয়ে কি তাদের বাস্তব কোনো অভিজ্ঞতা আছে? একজন আসামিকে গ্রেফতারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করাতে হবে। ২৪ ঘণ্টার অধিক থানায় আটকে রাখা হলে থানার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, এটা আইন। অনেক ক্ষেত্রেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয় না বিভিন্ন কারণে। এ জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। নির্যাতনের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে এমন কোনো নজির আছে আসামিকে বাবা খালু বলে তার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে? মামলার সুরাহা করা সম্ভব? কোনো খুনী, কোনো সন্ত্রাসী স্বেচ্ছায় তার অপরাধ স্বীকার করে না। ব্যক্তি জীবনের যেমন প্রাইভেসি বা সিক্রেসি আছে, সিক্রেসি আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে, সিক্রেসি আছে ধর্মের ক্ষেত্রে। এটাও একটি সিক্রেট বিষয়। নির্যাতন ছাড়া স্বীকারোক্তি আদায় করা যাবে না। স্বীকারোক্তি ছাড়া মামলার ক্লু বের করা সম্ভব নয়। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে যদি অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়, তার কাছ থেকে যদি অন্যায় স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন একুশে আগস্টের মামলায় যারা তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, মামলার গতি অন্যদিকে ডাইভার্ট করার জন্য। এরকম ক্ষেত্রে সোচ্চার হতে হবে। নির্দোষ ব্যক্তি যাতে একরম অবস্থার শিকার না হয়। যদি হয়, সেটাই হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারপরও কথা আছে। বলা হয়ে থাকে, ৯ জন অপরাধী আইনের শাস্তি থেকে বেঁচে যাক, কিন্তু একজন নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পায়। ধান ক্ষেতে আগাছা বাছতে গেলে দু’একটি ধানের চারা উঠেই যেতে পারে। আজ দেশ যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এ আদর্শ বা নীতির পরিবর্তন আনতে হবে। বৃহত্তর স্বার্থে অর্থাৎ ৯ আসামির শাস্তির জন্য যদি একজন নির্দোষ ব্যক্তি ভিকটিম হয়ে যায়, যাক। কোনো অবস্থায় ১ জন অপরাধীকেও শাস্তি থেকে রেহাই দেয়া যাবে না। তবে এটা অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে কোনো নির্দোষ নিরপরাধ ব্যক্তির যেন শাস্তি না হয়। জেলখানায় অনেক লোক আছে যারা নিরপরাধ। তদন্ত করলে দেখা যাবে, তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ সব মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ কাজ অনেক সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা জেনেশুনেই করেন। এ জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দাও দিয়ে মাছ কুটতে গিয়ে যদি হাত কেটে যায়, এ জন্য দাওটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে? কাজেই বলব, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ক্রসফায়ার এবং রিমান্ড নিয়ে কথা না বলাই উচিত। বরং উচিত হবে, নারী ও শিশু অপহরণ, ছিনতাই, এসব ক্ষেত্রে ক্রসফায়ারের বিষয়টি আরো জোরালোভাবে বলবৎ রাখা। খুনের সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদ-। এটা জানার পরও তো খুনীরা খুন করছে। কই আইন তো পারছে না এ সব অপরাধ থেকে তাদের বিরত রাখতে। এ ক্ষেত্রে ধান ক্ষেতে আগাছা যেমন নিড়াতে হয় ঠিক তেমনি দেশ এবং জাতির স্বার্থে সমাজের আগাছা নিড়াতেই হবে, সমাজদেহকে যদি সুস্থ রাখতে হয়। মানুষের তৈরি আইনে যদি না থাকে ক্রসফায়ারে পেশাদার খুনীর হত্যার কথা, সৃষ্টিকর্তার আইনের মহাগ্রন্থ এই বিশ্বপ্রকৃতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সেখানে এই হত্যার কথা বলা আছে। ধানের সঙ্গে আগাছার জন্ম হয় এবং আগাছা আবার নিড়িয়ে দিতে হয়। এটাই হচ্ছে জ্ঞানীদের জন্য জ্ঞানের নিদর্শন। ধর্মে যেমন মারেফত অর্থাৎ বাতিনি বলে একটি দিক আছে, এটা প্রকাশ পেলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও মারেফতের (সিক্রেসি) ব্যাপার আছে, এটা প্রকাশ পেলেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে ক্রসফায়ার এবং রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় সম্পর্কে। যিনি রিমান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, সন্ত্রাসীরা যদি তার সন্তানকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য যদি ওই সন্ত্রাসীদের নির্যাতন করা হয়, তিনি আর কখনো বলবেন না রিমান্ডে নেয়া বন্ধ করা হোক। তখনই বুঝবেন রিমান্ডে নেয়া কতটা প্রয়োজন।
লেখক : দার্শনিক

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: