জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

র ফি হ ক
গণেশ পাইনের ছবি যতবার দেখেছি, ততবারই মনে হয়েছে, চেনা ছবিকে নতুন রকম লাগছে। তার অর্থ বদলে যাচ্ছে। রূপ-রূপান্তর হতে-হতে অন্য মাত্রায়, অন্য কোনও ইংগিতে পৌঁছে দিচ্ছে। ছবির মূল বিষয়কে ছাপিয়ে দৃষ্টি দূরে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে
“আমার জীবনে ব্যাপ্তি নেই, বৈচিত্র্য নেই, ভ্রমণে আমার প্রবল অনীহা। আমার আছে জš§ার্জিত বোধ, যা প্রাচীন-জলে ভেসে আসা কোনও গুল্মের মতো। যার শিকড়সঞ্চার আমার মনের গভীর প্রদেশে অবিরত ঘটে চলেছে। জীবন ও শিল্প সংক্রান্ত আমার যাবতীয় স্মৃতি স্বপ্ন অভিজ্ঞতা সবই তার সংশ্লেষিত হয়েছে সেই বোধে। সেই সংশ্লেষের তাৎপর্য আমি সঠিক বুঝি না, শুধু তার ক্রিয়া অনুভব করি।”Ñনিজের জীবন ও শিল্প নিয়ে বলতে গিয়ে গণেশ পাইন নিজেকে এমন করেই বিশ্লেষণ করেছেন।
সাতানব্বই সাল। মাস্টার্স শেষ করেছি। রেজাল্ট বের হয়নি, হবে-হবে করছে। চট্টগ্রাম গিয়েছি বন্ধু রশীদ আমীনের কাছে। এক সন্ধ্যায় রশীদ আমীনের সঙ্গে গেলাম অগ্রজ ঢালী আল মামুনের ওখানে। মামুন তখন তরুণ প্রভাষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়Ñ চারুকলা অনুষদের। গান শুনছি, আড্ডাও চলছে; তারই ফাঁকে মামুন আমার হাতে তুলে দিলেন গণেশ পাইনের চিত্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা চিত্রক্রম : চিত্রকর বইটি। অঞ্জন সেনের লেখা চমৎকার একটি বই। পাতায়-পাতায় গণেশ পাইনের ড্রইংস, যা মূল চিত্রকর্মের খসড়া। খসড়া চিত্র হলেও প্রত্যেকটি পরিপূর্ণ চিত্রকর্ম। প্রত্যেকটি রেখাচিত্রের নিচে বিশদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন অঞ্জন সেন। বইটা হাতে পেয়ে মন যেন ঝড়ের ঝাউগাছ। সেই প্রথম গণেশ পাইনকে জানা। একেকটা বই যেন বন্ধু হয়ে যায় আজীবনেরÑ তেমনি চিত্রক্রম : চিত্রকর বইটি খুলে দিতে লাগল আমার মনের অচলায়তনের উত্তরের জানালা। স্কেচগুলি দেখি ও পড়ি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে। বন্ধু যেমন হঠাৎ একদিন হারিয়ে যায়Ñ অভিমানে চলে যায় বিনা নোটিশে। চিত্রক্রম : চিত্রকর বইটিও একদিন হারিয়ে গেল সেলফ থেকে। আহা, সেই কষ্ট অসামান্য।
২.
অনেক অনেক কারণে গণেশ পাইন অসামান্য। তার টেম্পপারা’র (ঞবসঢ়ধৎধ) কাজগুলোয় স্তরের ওপর স্তর তৈরি করে যে-রহস্য তিনি সৃষ্টি করেন, ধ্যানের ভেতর দিয়ে যে-অন্যলোকের যাত্রা করেন, তা কেবল জীবনানন্দের কবিতার সঙ্গে তলনীয়। তার ছবির রূপকল্প, রঙের বিন্যাস ও সূক্ষ্ম স্তরের অন্তর্মগ্নতা গভীর থেকে গভীরতর বোধে নিয়ে যায়। তার ছবিতে পশ্চিমের সকল সংকেত, মুদ্রা ও জ্যামিতির ব্যবহার বেঙ্গল স্কুলের ধ্যানাবিষ্টতাকে এতটুকু নড়চড় করতে পারেনি। আড়ালে থাকায় অভ্যস্ত, স্বভাবে কবি, নিঃসঙ্গ এই শিল্পী সমকালীন শিল্পকলায় বিনা প্রচারে, বিনা আড়ম্বরেÑ নিজস্বতা জানান দিয়ে বিশ্ব জয় করেছেন, সে-ও অসামান্য।
তার ছবি নিয়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন : “এই এক নিরন্তর অন্তর্লোকবাসীর নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার কাব্যকূট।”Ñ গণেশ পাইন নিজেও বলেছেন : “ছবির সেই কাব্যকূট এখনও আমাকে আঁকতে প্রবৃত্ত করে।”
অত্যন্ত সৎ, সংবেদনশীল এবং আন্তরিক বিশ্বাস নিয়ে শিল্পময় জগৎকে ছেলেবেলা থেকেই সঙ্গী করেছেন। সকল মোহ, মায়া ও জগৎ-সংসারের সকল তুচ্ছতাকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে-নিভিয়ে কেবল শিল্পকলাকেই নিখাদ ভালবেসেছেন। এই ভালবাসার প্রথম বীজটি বুনেছিলেন তার ঠাকুমা। পুরাণ, মহাভারত-রামায়ণের গল্প শুনেছেন তিনি ঠাকুমার কাছ থেকে। পরবর্তী সময়ে সাহিত্যের মধ্য দিয়ে ইতিহাসকে জানতে আগ্রহী হয়েছেন। ঠাকুমা ও ছেলেবেলার কথা, ছবি আঁকবার সূচনার কথা স্মরণ করেছেন এভাবেÑ
“আমার ঠাকুমা অসম্ভব ভালো গল্প বলতে পারতেন। সন্ধ্যের পর অন্ধকার বারান্দায় বসে অনর্গল গল্প শোনাতেন আমাদের। রামায়ণ মহাভারতের মতো মহাকাব্য থেকে আরম্ভ করে রূপকথা, লোককাহিনী, ছড়া, হেঁয়ালিÑ তার বলবার জৌলুসে যেন জীবন্ত হয়ে উঠত ক্ষণে ক্ষণে। আমি অবাক হয়ে শুনতাম। শুনতাম বললে ভুল হবে, যেন দেখতাম জলছবির মতো। আর সুযোগ পেলেই সেই জলছবি কাঁচা-কচি হাতে শ্লেটের চৌহদ্দির মধ্যে ধরবার আপ্রাণ চেষ্টা করতাম। এইভাবেই আমার ছবি আঁকার শুরুঃ”
৩.
তাছাড়া যে সমাজে, যে পরিবেশের মধ্যে তিনি বড় হয়েছেনÑ সেই সমাজের ঘাত-প্রতিঘাত, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের টানা-পোড়েন, সুখদুঃখ আলোছায়া ক্রমাগত তার শিল্পীজীবনকে প্রভাবিত করেছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানান শোকÑ তাকে অসহায় ও বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত করেছে। সারাজীবন ধরে নিঃসঙ্গতা-একাকিত্ব-শংকা-নিরাপত্তাহীনতা তাকে ঘিরে রেখেছে। তার কাছ থেকে জেনেছি সেই জীবন এফোঁড় ওফোঁড় করা শূন্যতার কথা :
“উনিশ শ ছে’চল্লিশ সালের বিপর্যয়ে আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়। শৈশবের সচ্ছল দিনগুলো কাঁচের মতো ভেঙ্গে পড়ে অকস্মাৎ। যাযাবরের মতো এ-বাড়ি ও-বাড়ি করেছি তখন। মনে পড়ে, বাড়ি ছেড়ে প্রথম আশ্রয় পেয়েছিলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে বিপন্ন মানুষেরা ভিড় করেছিল। কত কতদিন শুধু দুধ ও সামান্য বিস্কুট খেয়ে কাটিয়েছি। মনে আছে, একটি ভয়াবহ দৃশ্যের স্মৃতি : একদিন বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। দেখি, দু’জন শক্ত-সমর্থ লোক একটি ঠেলাগাড়ি হাসপাতালের লোহার গেট দিয়ে ঢুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেÑ গাড়ি বোঝাই মৃতমানুষের স্তূপ। সেই স্তূপের চূড়ায় এক অনিন্দ্যসুন্দর শরীর। তপ্তকাঞ্চনবর্ণা এক বৃদ্ধার। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র, এলিয়ে আছে তাঁর রেশম সাদা চুল, তাঁর গলার কাছে রক্তাভ একটি রেখা থেকে ঝরে পড়ছে বিন্দু বিন্দু রক্ত। গলায় পরা সোনার সরু হার বেয়ে রক্ত চুয়িয়ে পড়বার সেই দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারি না।ঃ আমি জানিÑ সেই নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতার ছায়া আমার সব ছবিতেই স্পর্শ করে থাকে। এড়াতে পারি না তারেঃ।”
অর্থাভাব ও অনিশ্চয়তার কথা বলতে গিয়ে ফিরে গিয়েছেন সেই প্রথম জীবনেÑ
“আর্ট কলেজ থেকে পাস করবার পর অপরিসীম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলাম। বহু বহুদিন, বহু বছর কোথাও-কিছু-না হওয়ার যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে আমায়। আর্ট কলেজে খুব ভালো রেজাল্ট করার পরও চাকরি খুঁজে হয়রান হয়েছি। জোটেনি একটিও। উপার্জনের চেষ্টায় কলেজ স্ট্রিটের বই পাড়ায় ঘুরে ইলাস্ট্রেশনের কাজ যোগাড় করতাম। চিৎপুরে বিচিত্র সব বিজ্ঞাপনের হেডিংও এঁকেছি সযতেœ। এই রকম একটা সময়ে এনিমেশনের কাজ পাই। অমানুষিক পরিশ্রম করতে হতো, অজস্র ড্রইং করেছি প্রতিদিন। তবু রসের আনন্দে সে শ্রম অনার্থক বলে মনে হতো না। সারাদিন এনিমেশনের কাজ, এরপর ফরমায়েশি কাজ সেরে রাত্রে শুধু নিজের জন্য ছবি আঁকতে বসতাম।”
৪.
একটি ছবি আঁকবার আগে গণেশ পাইন ডায়েরি লেখার মতো করে অসংখ্য খসড়া ড্রইং করেন। যতœ নিয়েÑ সচেতন ভাবে ছবিটির গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিজেকে মিলিয়ে দেন। তার ভাবনাগুলির মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে উৎকর্ষতা তা অর্জন করেছেন অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেছেনÑ
“যতদূর মনে পড়ে ষাট দশকের এক সন্ধ্যায় একাডেমি অব ফাইন আর্টসে পরিতোষ সেন মশায়ের একটি বক্তৃতা সহসা আমার চোখ খুলে দেয়। ছবি দেখিয়ে, ব্লাক বোর্ডে এঁকে সেদিন তিনি বুঝিয়েছিলেন ছবিতে আকার (ংযধঢ়ব/ঋড়ৎস) আর শূন্যস্থানের (ঊসঢ়ঃুহবংং) সঠিক সম্পর্ক কী। পায়ের তলায় যেন মাটি পেয়েছিলাম সেদিন। এর কিছুকাল পরে হাতে পেয়েছিলাম পল ক্লী (চধঁষ কষবব)’র ‘দা থিংকিং আই’ (ঞযব ঞযরহশরহম ঊুব) নামের আশ্চার্য্য বইটি। সে বই যেন অনন্য এক চিরদর্শন। বুঝেছিলামÑ শিল্পী শব্দ দিয়ে ভাবেন না, ভাবেন রেখা ও রঙ দিয়ে।”
৫.
গণেশ পাইনের ছবি যতবার দেখেছি, ততবারই মনে হয়েছে, চেনা ছবিকে নতুন রকম লাগছে। তার অর্থ বদলে যাচ্ছে। রূপ-রূপান্তর হতে-হতে অন্য মাত্রায়, অন্য কোনও ইংগিতে পৌঁছে দিচ্ছে। ছবির মূল বিষয়কে ছাপিয়ে দৃষ্টি দূরে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে। হঠাৎ দূরের আবছা গাছপালা, ধোঁয়া ওঠা বৃষ্টির আভাস লিচু ফলের মতো ঘোলাটে সাদা চোখ নিয়ে ছবির ফিগার (ঋরমঁৎব) তাকিয়ে থাকে আপনারই দিকেÑ বাইরে বার্র্ন্ট সিয়েনা আর প্র“সিয়ান ব্ল- মিশানো অন্ধকার, কিন্তু অজ্ঞাত কোনও উৎস থেকে আলো আসছেÑ মিহিন আলোর মধ্যে ঘোলাটে চোখের রহস্যময়তা রেমব্রান্টকেও ছাপিয়ে যায়। তখন সবটাই অচেনা বোধ হয়। কেমন নিঃসঙ্গ লাগে, এটাই কি সেই সংশ্লেষণ। যার ক্রিয়া গণেশ পাইন অনুভব করেন কিন্তু এর তাৎপর্য বোঝেন না। নিঃসঙ্গতা কি এমনই!
৬.
এটা তো আমরা সকলেই জানি, সকলের মনের মধ্যে একটা জায়গা আছে, যেখানে আমরা একান্তই নিঃসঙ্গ। কিন্তু গণেশ পাইনের ছবির অনুভবের নিঃসঙ্গতা বোঝা যায় না শেষ পর্যন্ত। কেননা সত্যের সঙ্গে প্রতিমুহূর্তের চলার একটা সংঘাত তৈরি হয় কেবলই। সেই সংঘাতের দায় এড়ানো কঠিন। সেখানে সঙ্গী নেই তার। আর তখন, একান্ত সঙ্গীহীনতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নিজেকেও তার মনে হতে পারে পরবাসী। সেই অর্থে একা গণেশ পাইনই নন, সকল শিল্পী ও কবিই নিজ বাসভূমে পরবাসী।
৭.
গণেশ পাইনকে আমি প্রথম দেখি শান্তিনিকেতনে। কলকাতার কলারসিক অন্যতম সংগ্রাহক শ্রীমতী শান্তা ঘোষের আমন্ত্রণে ‘আর্ট ওয়ার্কশপে’ শান্তিনিকেতন গিয়েছি। ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসের কথা। বাংলাদেশ থেকে আর গিয়েছিলেন, হাশেম খান, সমরজিৎ রায়, মোহাম্মদ ইউনুস, নাসরীন বেগম। দ্বিতীয়দিন গণেশ পাইন স্বস্ত্রীক এলেন ওয়ার্কশপে। তখনও পরিচয় হয়নি ওর সঙ্গে। আমি দূর থেকে দেখছি। আমার ক্যানভাসে সবে রং চাপিয়েছি। বাংলাদেশের অন্য শিল্পীরাও কাজ নিয়ে ব্যস্ত। মগ্ন। উনিও দূর থেকে আমাদেরকে দেখছেন। এক সময় কাছে এলেন, খুব কাছে নয়। গায়ে ফল্সা রঙের চাদর মুড়ি দেওয়া। আমাদের ওয়ার্কশপ কোর্ডিনেটর আমাকে প্রায় কানে-কানে বললেন, উনি ডেকেছেন আপনাকে।
Ñ আমাকে?
আমার বিস্ময়ের ঘোর না কাটতেই উনি নিজেই কাছে এলেন। বললেন : কেমন আছেন?
এর উত্তরে কী বলতে হয়, আমি জানি না। এবার উনি আমার ক্যানভাসের দিকে তাকিয়ে বললেন : আর কতটা কাজ করবেন?
এর উত্তরও আমি জানি না। আমি শুধু তাকেই দেখছি।
এর মধ্যে আমার চারপাশে বাংলাদেশের অন্য শিল্পীরা জড়ো হয়েছেন। সকলেই তার সঙ্গে কুশলবিনিময় করছেন। কেউ বই উপহার দিচ্ছেন তাকে, কেউ বা ক্যাটালগ। এবারও উনিই জিজ্ঞেস করলেন : আপনার কোনো ক্যাটালগ নেই?
তার হাতে আমার পুরানো প্রদর্শনীর ক্যাটালগটি দিলাম। তিনি খুব যতœ নিয়ে ক্যাটালগের কাজগুলি দেখলেন। বললেন :Ñ এই কাজগুলি কি সংগে করে এনেছেন?
বললাম : না, এগুলো ২০০৩ সালের করা।
ক্যাটালগটি ছিল আমার প্যারিসের প্রদর্শনীর। ২০০৩ সালে সেখানে আমার একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মূল প্রদর্শনী ছিল সেন্ট্রাল ফ্রান্সের ‘শামালিয়া কনটেমপরারি মিউজিয়ামে’। সেখানে তিন বছর অন্তর ‘ডড়ৎষফ পড়হঃবসঢ়ড়ৎধৎু ঢ়ৎরহঃসধশরহম বীযরনরঃরড়হ’ হয়ে থাকে। বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে কয়েক হাজার শিল্পী ঐ প্রদর্শনীতে অংশ নেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপচিত্র বা চৎরহঃসধশরহম-এর প্রদর্শনী এটি। ২০০০ সালে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে ‘শ্রেষ্ঠ পুরস্কার’ অর্জন করি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে প্রদর্শনী কমিটি সেখানে আমার একক প্রদর্শনীর আয়োজন করে এবং শহরের মেয়র বিশেষভাবে সম্মান জানান।
গণেশ পাইন আমার ঐ ক্যাটালগের কাজগুলি দেখবার পর কাছে টেনে নিলেন। বললেন : এই ক্যাটালগে আপনি কিছু লিখে দিন।
কী লিখব? লিখলাম : ‘শ্রদ্ধাসহ গণেশ পাইন কে’। পরে দেখেছি, যখনই একা হই, তখনই ঐদিনের কথা মনে পড়ে। তার ধীর শান্ত চেহারাটি মনে পড়ে। নিজের ওপর রাগ হয়Ñ আরও সুন্দর কিছু লিখতে পারতাম! কত জন কত কিছুই তো লেখে!
আমার চোখে ভাসে তার কালো চাঁদ (ঞযব ইষধপশ গড়ড়হ) ছবিটি। একটি হরিণের বাঁক ফেরানো মুখ, দীঘল চোখ। সোনার হরিণ যেন। পাঁজরাগুলো জ্যামিতিক ভঙ্গিমায় একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে। এ এক অপার্থিব হরিণী। ঠিক মাথার উপরেই অশুভ কালো চাঁদ। সব কিছু ছাপিয়ে শূন্যতা ও ব্যথা আর সেই নিঃসঙ্গতা। যে নিঃসঙ্গতার কাব্য তিনি এঁকে চলেছেন পঞ্চাশ বছর ধরে। মনে পড়ে জীবনানন্দকেÑ
‘এই প্রান্তরের বুকে আজঃ হেঁটে চলিঃ আজ কোনও কথা নেই আর আমাদের; মাঠের কিনারে ঢের ঝরা ঝাউফল পড়ে আছে : শান্ত হাত, চোখে তার বিকেলের মতন অতল কিছু আছেঃ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: