জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

মুসা সাদিক
২৫ মার্চের গণহত্যার রাতে বাংলার যে আইখম্যান জেনারেল টিক্কা খান ঢাকার বুকে ঘুমন্ত লাখ লাখ মানুষের ওপর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে হাজার হাজার পাক সেনাকে লেলিয়ে দিয়েছিল এবং শত শত কামান-বন্দুকের গোলা-বারুদের দলায় হাজার হাজার বাঙালির রক্ত-মাংস মিশিয়ে দিয়েছিল, ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে পাঞ্জাবের গভর্নর হাউসে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী সেই কুখ্যাত গণহত্যার নায়ক টিক্কা খানের সেই মহাহত্যাযজ্ঞের ওপর এদেশে কেউ ‘বিষাদ সিন্দু’ বা ‘মেঘনাদ বধ’ বা ‘ইলিয়ড’-এর ন্যায় মহাকাব্য রচনা করেননি। ‘বাঙালির খুনে লাল হলো যেথা ক্লাইভের খঞ্জর’ বলে বিদ্রোহী কবি নজরুলের মতো কেউ জ্বালাময়ী কবিতাও লেখেননি। অথচ বিশ্বের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ক্ষুদ্র দেশের রাজধানী ঢাকা নগরীর ওপর আজ থেকে ৩৮ বছর আগে ২৫ মার্চের আঁধার রাতে নিস্পাপ অসহায় লক্ষ লক্ষ ঘুমন্ত নর-নারী, শিশু-যুবক ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ওপর হাজার হাজার রক্ত পিপাসু পাকিস্তানি হায়েনা যে হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং তাঁদের রক্ত-মাংস-হৃদপিণ্ড-স্তন ছিঁড়ে খুড়ে খেয়েছিল, তা হিটলারের হায়েনা নাৎসী গেস্টাপোদের ৬০ লাখ ইণ্ডদি হত্যার নৃশংসতাকেও হার মানায়।
’৭১ এর ২৫ মার্চের কাল রাতে যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঢাকা নগরীর বুকে বিশ্বের সর্বকালের সর্বোচ্চ ট্রাজেডি ঘটেছিল, সে কথা লেখা আছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ‘বাংলাদেশে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ লাখ গণহত্যা কাণ্ড সংঘটিত হয়’ বলে। কিন্তু আমাদের সময়ে হায় (!) নেই কোনো হোমার-মধূসূদন-মশাররফ হোসেন, যিনি বিশ্বের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গণহত্যা ট্রাজেডিকে প্রজন্ম-প্রজন্মান্তরের জন্য জীবন্ত করে তুলে দিয়ে যাবেন তাঁর মহাকাব্যে। তাহলে, বিশ্ববাসী ও ভবিষ্যত মানবজাতি পড়ে শিহরে উঠতেন যে, বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশ নামক দেশে মানবজাতির কি মহা ট্রাজেডি, মহাকারবালার ন্যায় মর্মন্তদ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। যে মহাকারবালার নায়ক ছিল ইতিহাস ধিকৃত হালাকু খানের প্রেতাত্মা বিশ্ব কুখ্যাত টিক্কা খান।
তবে এই ইতিহাসের মহা ট্রাজেডির বিশ্ব কুখ্যাত নায়ক টিক্কা খানকে আমি ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর জীবন্ত দেখেছিলাম। আমি দেখিনি ইতিহাস কুখ্যাত নরপিশাচ হালাকু খানকে, আমি দেখিনি ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যাকাণ্ডের বিশ্ব নিন্দিত নায়ক আইখম্যানকে। কিন্তু আমি দেখেছিলাম পাঞ্জাবের সরকারি ‘গভর্নর হাউস’-এ বাংলার লক্ষ লক্ষ নিষ্পাপ নর-নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশু-কিশোর হত্যাকারী জীবন্ত টিক্কা খানকে। প্রথম দেখায় আমি শিহরে উঠেছিলাম। আমার সারা শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠেছিল। আমার চোখ নিথর হয়ে গিয়েছিল। চোখের ওপর ভেসে উঠেছিল হাজার হাজার বাঙালি মা-বোনের লাশ, ঢাকার শত শত নর্দমায় স্রোতের মতো ভেসে যাওয়া বাঙালির খুন, অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিলে ভাসমান শত-সহস্র যুবক-যুবতী-বৃদ্ধ-বৃদ্ধার লাশ আর লাশ। আর ৬৮ হাজার গ্রাম জুড়ে পাক সেনাদের জ্বালাও-পোড়াও ব্রাশফায়ার-ধর্ষণের নারকীয় দৃশ্য। ৩০ লক্ষ বাঙালির খুনে রঞ্জিত সেই জীবন্ত জল্লাদের মুখের দিকে তাকিয়ে লাহোর থেকে ২০০ কিলোমিটার দুরের জালিয়ানওয়ালাবাগের আরেক গণহত্যাকারী জেনারেল ডায়ারের মুখ মনে পড়ে গেল। বোম্বে থেকে জাহাজে চড়ে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে ভারত থেকে পাঁচ হাজার মাইল দূরে লন্ডনে গিয়ে জালিয়ানওয়াবাগের কুখ্যাত গণহত্যাকারী জেনারেল ডায়ারের বুকে গুলি চালিয়ে তকে বধ করে এসেছিল ভারতীয় বীর উধাম সিং।
কিন্তু ৩০ লক্ষ বাঙালি গণহত্যার নায়ক জেনারেল টিক্কা খানকে কোনো বাঙালি বধ করতে পারেনি। তাদের কারো বিচারও করতে পারেনি। তবে টিক্কা খানকে ’৭১-এর মে মাসে দিনাজপুরে এ্যাম্বুশে ফেলেছিল বাংলার বীর কমান্ডো মুক্তিযোদ্ধারা এবং সামান্যের জন্য বাংলাদেশ থেকে সে প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পেরেছিল। তার সামনে বসে সে কথা স্মরণ করে আমার ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি উঁকি দিচ্ছিল আর দিনাজপুরের সেই বীর বাঙালি কমান্ডো যোদ্ধাদের জন্য হৃদয় থেকে পুষ্পিত শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ঝরে ঝরে পড়ছিল।
’৭১ সালে আমি তখন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অধীনে স্বাধীন বাংলা বেতারের ওয়ার করেসপন্ডেন্ট। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে এক ফ্রন্ট থেকে অন্য ফ্রন্টে উল্কার বেগে চলাচল আমার। দিল্লীর বি বি সি ব্যুরো চিফ মার্ক টালীকে প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধের একটি সফল অপারেশন, একটি পাক সেনাদের টহল জিপ বা ট্রাক ধ্বংসের অথবা খান সেনাদের একটি লঞ্চের ওপর মুক্তিদের একটি রকেট লাঞ্চারের শেল নিক্ষেপের সংবাদ না দিতে পারলে সে রাতে আমার ঘুম হারাম হয়ে যেতো। স্বাধীন বাংলা বেতারে বার্তা বিভাগে শ্রদ্ধেয় লোহানী ভাই এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব আনোয়ারুল হক খান অপেক্ষা করে থাকতেন ফ্রন্ট থেকে আমার পাঠানো একটি সফল অপারেশনের খবরের জন্য। তাই যেখানে যুদ্ধ, যেখানে বারুদের গন্ধ, কামানের কান ফাটা শব্দ, সেখানে আমি উল্কার বেগে মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডো অপারেশনের সংবাদের জন্য ছুটে যেতাম। পাক সেনাদের ওপর একটি কমান্ডো হামলার সংবাদ এবং একটি পাক সেনাদের ডিফেন্সে বা ঝঙ্কারে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপের বা একটি কালভার্ট বা ব্রিজ উড়িয়ে দেবার সাফল্যের সংবাদ আমার চাই-ই চাই। মনে হতো সমগ্র বাঙালি জাতি, সমগ্র বিশ্ব, আমার সংবাদের জন্য কান পেতে অপেক্ষা করে আছে। তদুপরি প্রতি সপ্তাহে স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে স্বকন্ঠে আমার প্রচারিত ‘মুক্তাঞ্চল ঘুরে এলাম’ ও ‘রণাঙ্গণ ঘুরে এলাম’ কথিকা দুটি প্রচারের জন্যেও ওয়ার ফ্রন্টের সংবাদ সংগ্রহ করা আমার জীবনের একমাত্র ব্রত হয়ে উঠেছিল। সেজন্য জীবন তুচ্ছ করে ওয়ার ফ্রন্টে বেপরোয়া ছিলাম আমি। বহুবার মুক্তাঞ্চল ভেদ করে পাক সেনাদের অবরুদ্ধ অঞ্চলে ঢুকে গেছি শুধু একটি সংবাদের জন্য ছাড়াও শত্র“ এলাকার গোপন সামরিক তথ্য সংগ্রহের যে গুরুদায়িত্ব ছিল আমার ওপর সেজন্যেও। তখন সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় আমার চোখের সামনে সব কিছু ছিল অন্ধকার। সব কিছুই ছিল অনিশ্চিত। শুধু নিশ্চিত ছিল স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার স্বপ্ন চোখে-মুখে এঁকে বহু তরুণ বীর কিশোর আমার চোখের সামনে রণাঙ্গণে রণাঙ্গনে চির নিদ্রায় ঢলে পড়েছে। সেই স্বাধীনতার বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে ’৭১-এর তরুণ-কিশোর-যুবকরা তাদের যৌবনের সবটুকু নিঃশেষ করে শত শত রণাঙ্গনে ফুলের মতো যখন ঝরে ঝরে পড়ছিল, তখন জীবন-মৃত্যু দু’পায়ে দলে বণ্ডবার, বহু রণক্ষেত্রে নিংশব্দে পাক ব্যুহ ভেদ করে চলে যেতাম আমি পাকিস্তানি ঘাঁটি, ডিফেন্সের সামরিক তথ্য সংগ্রহে। দুঃসাহসিক এ রকম বহু সাফল্যের পর অকস্মাৎ আমার জীবনে দুর্ভাগ্য নেমে আসে ৮ নম্বর সেক্টরের চাঁচড়ায়। যখন আমার জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান ছিল ১ সুতার ব্যবধান মাত্র। মুক্তিযুদ্ধের জন্য জীবন বিলিয়ে দেবার সেই পূণ্যময় দিনগুলোর ঘটনার বিষয়ে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজুদ্দিন আহমদ তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন ‘পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তাঁকে স্বাধীন বাংলা বেতারের সমর সংবাদদাতা নিয়োগ করা হয়। সংবাদদাতার কাজের পাশাপাশি ফ্রন্টে পাক পজিশন ও ডিফেন্সের তথ্য সংগ্রহের সামরিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে দেয়া হয়। এই চ্যালেঞ্জিং কাজে যখন কাউকে পাওয়া যায়নি, দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ জনাব মুসা হাসিমুখে এ দায়িত্ব পালনের শপথ নেন। পাক হানাদারদের চোখ এড়িয়ে বহুবার জীবন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও তিনি এ কাজে শংকিত বা ভীত হয়ে পড়েননি। হাজার হাজার যুবকের ন্যায় স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গীকৃত এই নির্ভিক তরুণ মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ৮নং সেক্টরে ভারতীয় সাংবাদিক মি. জ্যোতি সিংসহ পাক সেনাদের হাতে ধরা পড়েন এবং পাক সেনারা তাঁর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাবার পর তিনি মারা গেছেন বলে যশোরের চাঁচড়া স্কুলের ঘরে ফেলে রেখে যায়। ৮নং সেক্টরের বীর যোদ্ধা ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা পরের দিন আমার কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁর ফোর্স নিয়ে জনাব মুসাকে অজ্ঞান ও মুমূর্ষু অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মুক্তিযুদ্ধে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে জনাব মুসার অপরিসীম অবদান এবং বীর যোদ্ধা ক্যাপ্টেন হুদা যে ভাবে পাক সেনাদের গোলার মধ্যেও নিজের জীবনের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে মুসার জীবন বাঁচিয়েছেন, সে জন্য তাঁদের উভয় জনের নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করার জন্য এবং তাঁদের কাছে জাতির ঋণ স্বীকার করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সরকারের পক্ষে আমি এখানে স্বাক্ষর করলাম’। এ সেই সময়ের কথা, যখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। যখন বাংলার হাজার হাজার তরুণ-কিশোর থ্রি নট থ্রি হাতে সকালে ফ্রন্টে গেছে, সায়াহ্নে পাক সেনাদের কামানের গোলায় মাংস-পিণ্ডের দলা হয়ে ফিরে এসেছে। কাপড়ে বাঁধা সেই তরুণ-কিশোরদের মাংস-পিণ্ডের দলা ছুঁয়ে তার সহযোদ্ধরা ‘জয় বাংলা’ মরণ জয়ী রণধ্বনি কন্ঠে তুলে নিয়ে সেই সায়াহ্নে বীর বিক্রমে পা বাড়িয়েছে ফ্রন্টের গোলা বারুদের মধ্যে। ফিরে আসেনি তারা কেউ প্রভাতে!
এ সেই হিরন্ময় সময়ের কথা। এ সেই পুণ্যময় ‘৭১ এর কথা।
সেই ’৭১-এর মে মাসের প্রথম সপ্তাহের একদিন দিনাজপুরের পাক সেনাদের রামসাগর ডিফেন্স পরিদর্শনে ঢাকা থেকে গোপনে একজন ভি আই পি আসছেন এবং সেজন্যে দিনাজপুর সার্কিট হাউস রং চং করা হচ্ছে বলে দিনাজপুর শহরের এক রং ব্যবসায়ী সূত্রে ৭নং সেক্টরের শিববাড়ি ক্যা¤প ইনচার্জ কমান্ডো জর্জ গোপনে এ তথ্য পেয়ে যায়। তখন থেকে তার শুরু হয়ে যায় ভি আই পিকে এ্যাম্বুশে ফেলার প্রস্তুতি।
কিন্তু কে সেই ভি আই পি? কোন তারিখে সে ভি আই পি আসবে? কোন কোন রোড দিয়ে, কোথায়, কোথায়, যাবে সে ভি আই পি? এ সবের কিছুই জানতে না পেরে, শিববাড়ি ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা খুব হতাশ হয়ে পড়ে। ক্যাম্প ইনচার্জ কমান্ডো যোদ্ধা জর্জ ভি আই পি অপারেশনের জন্য তার ক্যাম্পের সকলকে যে কোন মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে রাখেন। দিনাজপুর শহরের উক্ত রং ব্যবসায়ীর সঙ্গে আঠার মতো একজনকে লাগিয়ে রাখেন তিনি। যদি কোনো সোর্সে, কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তৎক্ষণাৎ যেন তা শিববাড়ি ক্যাম্পে পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত মে মাসের অর্ধেক চলে যায়, ভি আই পি’র নাম-নিশানা না পেয়ে শিববাড়ির মুক্তিযোদ্ধারা ভুলেই গেল ভি আই পি’র কথা!
অকস্মাৎ মে মাসের শেষ সপ্তাহের এক বুধবারে দিনাজপুর সার্কিট হাউসের বাবুর্চির কাছ থেকে দিনাজপুরের উক্ত রং ব্যবসায়ী খবর পায় যে, পরদিন ঢাকা থেকে আসবে জল্লাদ টিক্কা খান, যাবে রামসাগর পাক ডিফেন্স পরিদর্শনে। এ খবরে থর থর করে কেঁপে ওঠে শিববাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ কমাণ্ডো যোদ্ধা জর্জ। এ খবরে দুলে ওঠে শিববাড়ি ক্যা¤প। সাজ সাজ রব পড়ে যায় শিববাড়ি কমান্ডোদের মধ্যে!
কে নেবে জল্লাদ টিক্কার জীবন? কে দেবে জল্লাদ টিক্কার জন্য নিজের জীবন? ‘জয় বাংলা’ রণহুঙ্কারে দাঁড়িয়ে পড়ে সকলে। জল্লাদ টিক্কার ওপর আঘাত হানতে যাবার আনন্দে কেঁদে ফেলে কেউ কেউ। দু’হাত তুলে কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর কাছে এই বলে দোয়া করে কেউ কেউ ‘হে আল্লাহ আমাদের লাখ লাখ মা-বোনের ইজ্জত হরণকারী ও আমাদের লাখ লাখ ভাই-বোনের হত্যাকারী জল্লাদ টিক্কা খানের ওপর প্রতিশোধ নেবার এই সুযোগ আমাদের কামিয়াব করো, সফল করোঃ.’। শিববাড়ি ক্যাম্প ইনচার্জ জর্জ তাদের মধ্যে থেকে সাহসী ও ক্ষিপ্রগতি স¤পন্ন কয়েকজন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধাকে বাছাই করেন এ্যাম্বুশের জন্য।
জল্লাদ জেনারেল টিক্কা খানকে দিনাজপুরে এ্যাম্বুশে ফেলে হত্যার উদ্দেশে শিববাড়ি ক্যাম্পে ৬ জনের একটা গ্র“প তৈরি হলো ডিমোলিশন টিম এর মধ্য থেকে। জগলুল পাশা, আনিস কাজী, আমিনউদ্দৌলা এবং ময়মনসিংহ-এর শামসুল আলমসহ আরও দুজনকে নিয়ে। এদের মধ্যে শামসু সব চেয়ে বেশি সাহসের পরিচয় দিয়েছিল। শামসুকে সবাই শামসু ডাকু বলে ডাকতো। শিববাড়ি ক্যাম্প থেকে ৫ মাইল ভেতরে এদের যেতে হবে এ. টি. এম. মাইন বসানোর জন্য। মাইন বসাতে হবে এ. বি. এম. কলেজ ও জোড়া চিমনি রাইস মিল পুলহাট এলাকার রামসাগর রোডে। কোতোয়ালী থানা (দিনাজপুর) এলাকার মধ্যে এই কাজের ঝুঁকি যেমন মারাত্মক, পরিণতিও তেমনি ভয়াবহ হতে পারে। কারণ, চারিদিকে পুলিশ ও পাক সেনার টহল। তার সঙ্গে মোড়ে মোড়ে আছে স্থায়ী রাজাকার ক্যা¤প। তদুপরি ঐদিন আসছেন ঐ রোডে পাক বাহিনীর সর্বেসর্বা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল টিক্কা। চারদিকে সাড়া পড়ে গেছে, চারিদিক সাজ সাজ রব। রোড দিয়ে হন হন করে ছুটে বেড়াচ্ছে পাক হানাদার জীপ। টহল দিচ্ছে হানাদার ফৌজ। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে, হানাদারদের চোখ এড়িযে মাইন বসানোর কাজে এগিয়ে যাওয়া, জেনারেল টিক্কার ওপর হামলা করা-আজকের ঢাকায় ক্ষমতা, স¤পদ, অর্থ, গাড়ি, বাড়ি নিয়ে যারা কাড়াকাড়ি করছেন তা তাদের কল্পনার, বাসনার ও সাধ্যের বাইরে ছিল। কিন্তু শিববাড়ি ক্যাম্পের সেই ডাকু শামসু, আনিস কাজী, জগলুল, আমিনরা যখন জর্জ সাহেবকে সেল্্ুযট দিয়ে ক্যা¤প ছেড়ে ৫ মাইল হানাদার এলাকার দিকে, বীরের মত পা বাড়াল, তাঁদের চলার সেই পথ ঘিরে গড়ে ওঠতে লাগলো মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের মর্মর সৌধ তাজমহল।
গ্রামের পথ ধরে কৃষকের বেশে মাইলের পর মাইল এগিয়ে চলল তাঁরা। মাতৃভূমির মুক্তির উদ্দেশ্যে জীবন পণ করা ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধা। লক্ষ্য তাদের টিক্কা। যত বাধাই আসুক ৬ জন শহীদ হয়েও অন্তত একজন যেন ঠিক জায়গায় বসাতে পারে মাইন, উড়িয়ে দিতে পারে বাংলার দুশমন টিক্কার গাড়ি। মে মাসের শেষ সপ্তাহের শেষ বৃহ¯পতিবার দুপুর বারোটার মধ্যে পৌঁছে যায় তারা কে. বি. এম. কলেজের কাছে। কিন্তু সেখানে ওয়াচ রেখে মাইন বসানো সুবিধাজনক নয় বলে তাঁরা তাদের পরবর্তী ¯পট দিনাজপুরের জোড়া চিমনী রাইস মিল সংলগ্ল রোডে চলে আসে। জগলুল পাশা রোডের পাশে উঁচু কাঁঠাল গাছে উঠে পড়ে। সেখান থেকে সে চোখ রাখে দিনাজপুর, যেদিক থেকে আসার কথা সেই বাঙালির দুশমনের জিপ। মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। কত গাড়ি যাচ্ছে আসছে, আসছে না সেই দুশমন টিক্কার জিপ। অথচ, পাকা খবর যে, টিক্কা আসবে দিনাজপুর সার্কিট হাউস থেকে সড়ক পথে রামসাগর পাক ফৌজদের ডিফেন্স পরিদর্শনে। গাছের তলায় নিচু জায়গা থেকে বার বার জিজ্ঞাসা করে শামসু, আমীন। জগলুল জবাব দেয়- ‘না, এখন না’। রাস্তার তিন জায়গায় শামসু ডাকু ও আনিস কাজী এ. টি. এম. বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় গর্ত খুঁড়ে তার উপর আলগা মাটি ও ঘাস চাপা দিয়ে রেখেছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আমীন, শামসুরা। গাছের উপর জগলুল। আগ্রহের চোটে শেষ পর্যন্ত আরেকজন গাছে উঠে পড়লোÑ দেখা যায় নাকি সেই দুশমনের গাড়ি?
প্রতি মিনিট ঘণ্টার মত দীর্ঘ লয়ে পার হয়ে যায়, ধৈর্যের সঙ্গে দম বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকে বঙ্গজননীর সেই মহান বীরেরা। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে তারা জীবন নিতে। জীবন দিতে!! বেলা তখন পৌনে তিন। গাছের ওপর থেকে নিচু স্বরে চিৎকার করে জগলুল বলে উঠলোÑ ‘ডাকু ভাই আসছে আর্মি জিপের বহর। লাগাও মাইন’। কাঠবিড়ালীর মত সড় সড় করে নেমে আসছে জগলুল ও আরও একজন। রাস্তার নিচু জায়গার আড়াল থেকে দৌড়ে রাস্তার উপর তিন জায়গায় খোঁড়া মাটি সরাচ্ছে সবাই। গর্তের মধ্যে ঢুকাচ্ছে মাইন, তার উপর আলগা মাটি, তার উপর ঘাস এবং উপরে পাশে গরুর গোবর নরমভাবে বিছিয়ে রাখছে সবাই। প্রায় চারশ‘ গজ দুর থেকে একটি গাড়ির বহর আসতে দেখেছে জগলুল। এবং পনের/ষোল মিনিটের মধ্যে মাইন বসানোর কাজ শেষ। ডাকু শামসুরা উড়ন্ত সসারের মতো ছুটলো গ্রামের পথ ধরে। তারা যখন এক গ্রাম পার হয়ে গেছে তখন পিছনে শুনলো বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ। একে অপরের বুকে জড়িয়ে ধরে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করে ঝড়ের বেগে ছুটে চললো শিববাড়ি ক্যাম্পের দিকে। ণ্ডতোশে ও আতঙ্কে শিববাড়ি ক্যাম্পের দিক ভুলে গিয়ে কয়েক মাইল অন্য দিকে ছুটে আবার দিক ঠিক পেয়ে ছুটে চললো শিববাড়ি ক্যাম্পের দিকে ক্লান্ত-ঘর্মাক্ত পড়ন্ত সেই ঐতিহাসিক মে মাসের শেষ বৃহ¯পতিবারে।
শিববাড়ি ক্যাম্পের সকলে ওদের ছয়জনকে ঘাড়ে তুলে নাচতে আরম্ভ করলো। রটে গেল চারদিকে গণহত্যাকারী হিটলারের উপর হামলার এই খবর। এইচ. কিউ থেকে মেজর কিউ. এন. জামান অভিনন্দন পাঠালেন সফলভাবে এই হামলা পরিচালনার জন্যে। দুদিন পরে রেজাল্ট জানা গেল। জেনারেল টিক্কার গাড়ির বহর এ.টি.এম. মাইনের উড়ে গেছে। রক্তপিপাসু টিক্কা আহত হলেন না বটে; কিন্তু তার বহরের সামনের দুটো জিপ এ. টি. এম. মাইনের বিস্ফোরণে খণ্ড বিখণ্ড হয়ে গেছে। হতাহত হয়েছে হানাদারদের দশ-পনেরজন পাক পশু। জোড়া চিমনীর রাইস মিলের সামনে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা ও এলাকাবাসী দেখতে পেলো টিক্কার বাহিনীর রক্তাক্ত, ক্ষত-বিক্ষত, ছিন্ন ভিন্ন দেহ। রামসাগর ডিফেন্স আর টিক্কার দেখা হলো না। আহতদের নিয়ে তিনি ফিরে চললেন দিনাজপুরে। দিনাজপুর শহরের লোকেরা এই খবরে ভয়ে আতঙ্কে যার সেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। খান সেনারা রাগে ক্ষোভে গর্জাতে গর্জাতে দিনাজপুরের কয়েকটি আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীর বাড়িতে মাইন বসিয়ে উড়িয়ে দেয়। দিনাজপুর শহরের মধ্যে সারা বিকেল ও রাতে কারফিউ জারি করে পাক সেনারা অজানা শত্র“র উদ্দেশে সারারাত গুলি ছোড়ে আর ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ সে­াগানে দিনাজপুর সরগরম করে তোলে। এ গৌরবময় সাফল্যের সংবাদে দিনাজপুরের মুক্তিযোদ্ধা দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করে সেদিন।
গণহত্যাকারী টিক্কার পিলে চমকে দিয়েছিল বাংলার যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরা তাদের অনেকেই অনাদরে, অবহেলায় অভুক্ত অবস্থায় মারা গেছে। সেই বীর রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের অন্যতম আনিস কাজীকে বাড়ি ভাড়া না দিতে পারায় দিনাজপুরের বাড়িওয়ালা ১৯৯২ সালে বাড়ি থেকে বের দিয়ে দিয়েছে। তারপর দিনাজপুরের পাওয়ার হাউসের পিছনে এক পোড়ো ঘরের বারান্দায় তিনি উপোস করছিলেন বলে জানতে পেরেছিলাম। তখন তার বুকের হাড়গুলো গোনা যাচ্ছিলো আর তার কথা বলার ক্ষমতাও নিঃশেষ হয়ে আসছিল। তিনি আজ এতো বছর পরে বেঁচে আছেন কিনা, থাকলেও কিভাবে আছেন, জানি না। আর গণহত্যাকারী টিক্কার ওপর আঘাত হানার মূল পরিকল্পনাকারী কমান্ডো যোদ্ধা জর্জ দিনাজপুর সার্কিট হাউসের কাছে দীনহীন বেশে এক মাটির ঘরে দিন কাটাচেছ বলে জানি। বাঙালি জাতির শৌর্য-বীর্যের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের গর্জন আজ আমাদের কর্ণকুহরে না পৌঁছালেও হাজার মাইল দূরে গণহত্যাকারী টিক্কা খানের কর্ণকুহরে সে গর্জনের আতঙ্ক আজো তাকে প্রতি মুহূর্তে চমকে দিচ্ছে।
পাকিস্তানি জল্লাদ জেনারেলরা ঢাকায় ২৬ মার্চ রাতে গণহত্যার কি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন এবং সেই রাতে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় কোন পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন তা জানার এক অপূর্ব সুযোগ আমার জীবনে আসে ১৯৮৮ সালে। আমি তখন রাষ্ট্রপতির ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে একটি প্রেস টিম নিয়ে ঢাকা থেকে করাচি লাহোর হয়ে ইসলামাবাদে গিয়েছিলাম। বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘দি ইনডিপেনডেন্ট’ পত্রিকার স¤পাদক জনাব মাহবুব উল আলম এবং তদানীন্তন ঢাকা টিভির জনপ্রিয় ‘আইন-আদালত’ অনুষ্ঠানের পরিচালক জনাব রেজাউর রহমান উক্ত প্রেস টিমের সদস্য ছিলেন। উক্ত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানব ইতিহাসের বর্বরতম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের জল্লাদ টিক্কা খানকে বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিদের আসনে উপবিষ্ট দেখতে পাই। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় কিভাবে তিনি সেই নিষ্ঠুর গণহত্যা শুরু করেছিলেন সেই অজানা তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে আমি তার সাক্ষাতকার নিতে এগিয়ে যাই।
বাংলাদেশের গণহত্যার নায়ক জেনারেল টিক্কা খানকে চোখের সামনে দেখে অজান্তে চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো।
২৬ মার্চ ঘুমন্ত ঢাকাবাসীর ওপর ঐ আইখম্যান কিভাবে গণহত্যা শুরু করেছিল জানবার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলাম। সাংবাদিক দলের অন্য সদস্য সাপ্তাহিক ‘এখনই সময়’ পত্রিকার সাংবাদিক এবং এডভোকেট রেজাউর রহমানকে শুধালাম সে যদি সাক্ষী হয় তাহলে টিক্কা খানের কাছে একটা ইন্টারভিউ নেবার জন্য যৌথ অনুরোধ করতে পারি।
জনাব রেজাউর রহমান ও আমার প্রস্তাব শুনে দুবার ‘না, না’ করে নাছোড় বান্দা আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু ভেবে শেষ পর্যন্ত জল্লাদ টিক্কা খান রাজি হয়ে গেলেন।
জেনারেল টিক্কার সম্মতি মোতাবেক ইসলামাবাদের হোটেল ‘হলিডে ইন’ থেকে দুপুরের পর পরই আমরা দুজনে রওয়ানা হই। ৩১ ডিসেম্বর আমরা দুজনে সন্ধ্যায় তার পাঞ্জাবের সরকারি ‘গভর্নরের হাউজের’ দোতলায় তার সাক্ষাতকার গ্রহণের জন্যে উপস্থিত হই।
তার একান্ত সচিব গাড়ি বারান্দায় আমাদের রিসিভ করে নিয়ে গেলে দোতলায়। অবশ্য সিঁড়ির মুখে জেনারেল টিক্কা আমাদের দু’জনকে রিসিভ করলেন।
গভর্নরের ড্রইং রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুজনকে নিয়ে তার বাবুর্চি, খানসামারা পেল্লায় মেহমানদারী শুরু করলেন। থরে বিথরে সাজানো লোভনীয় সুস্বাদু সব খাবার এবং হরেক রকমের ফ্রুট্স এনে তারা আমাদের সামনে রাখল। যেন গলাধঃকরণ করে আমরা তাদেরকে ধন্য করি ও নিজেরা ধন্য হই।
কিন্তু সেসব ফেলে আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগুতে লাগলাম। আমাদের মূল টার্গেট বাংলাদেশের ২৬ মার্চ গণহত্যা শুরুর কারণ জানা।
দীর্ঘ দু’ঘন্টা ধরে আমাদের নেয়া তার ইন্টারভিউ থেকে এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের অংশ বিশেষ তুলে ধরেছি মাত্র। আমি ইংরেজিতে প্রশ্ন করছিলাম এবং তিনি উর্দুতে উত্তর দিচ্ছিলেন।
ইতিপূর্বে আমাদের সাংবাদিক দলের করাচি সফরকালে পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট-এর সেক্রেটারি জেনারেল করাচি সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা জনাব হাবিব খান গোরী এবং পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক জনাব নিসার ওসমানীর সঙ্গে আমার পূর্ব আলোচনার জের ধরে জেনারেল টিক্কা খানকে প্রশ্ন করলাম, “গৎ. এযড়ৎর, ঝবপৎবঃধৎু এবহবৎধষ ড়ভ চধশরংঃধহ ঋবফবৎধষ টহরড়হ ড়ভ ঔড়ঁৎহধষরংঃং ধহফ ঢ়ৎড়সরহবহঃ ঔড়ঁৎহধষরংঃ খধযড়ৎব গৎ. ঘরংধৎ ঙংসধহ ঃড়ষফ সব ঃযধঃ পড়সসড়হ ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ ডবংঃ চধশরংঃধহ ফরফ হড়ঃ ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ ঃযব সরষরঃধৎু ধপঃরড়হ রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ রহ ‘৭১. অভঃবৎ সড়ৎব ঃযধহ ঃড়ি ফবপধফবং ফড় ুড়ঁ ংঃরষষ ঃযরহশ ঃযধঃ ঃযব ধপঃরড়হ ঃধশবহ ধিং লঁংঃরবং”?
জেনারেল টিক্কা খানের উত্তর (তিনি উর্দুতে উত্তর দিচিছলেন)Ñ ‘সেভেনটি ওয়ান ক্রাইসিসকে বারে মে জ্যায়েসে পাকিস্তানছে মোখতালিব ক্যেয়ালাত হে্যঁয়, কুচছ লোক আর্মিকো জিম্মাদার ঠাহরেতে আউর কুচছ লোক পলিটিশিয়ানসকো জিম্মাদার ঠাহরেতে হে্যঁয় আউর এ্যাইসি তারা বাংলাদেশছে বণ্ডত সারে লিডার হামারে সাথ মে থ্যে। বাংলাদেশকো আওয়াম অ্যাভি বি মায়সুস করতে হে্যঁ কে হামলোক স্যাহি থে। গোলাম আজম সাব আওয়ার অ্যাম আদমাওঁনে কভি নেহি কাঁহা কে হাম লোগানে কুইয়ি গলতি কি।’ (একাত্তরের সংকটের জন্য কিছু লোক সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে, আবার কেউ কেউ দায়ী করেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করে যে আমরা সঠিক ছিলাম। গোলাম আজম সাহেবসহ সাধারণ মানুষ এখনো মনে করেন না আমরা ভুল করেছি।)
প্রশ্ন : ডযবহ ফরফ ুড়ঁ বীধপঃষু ংঃধৎঃ ঃযব মবহড়পরফব রহ উযধশধ ?
জেনারেল টিক্কা : ‘মায়নে কুইয়ি জেনোসাইড নেহি করোআয়া। জগন্নাথ হল মে কুচছ সরপছন্দ আনাসির পেট্রোল ফোর্স কি উপার গোলাবারুদ ছে হামলা করনে কি তৈয়ার কর রাহে থ্যে। উসকে বাদ ম্যায়ানে কুচছ ফোর্স জগন্নাথ হল মে ভেজা। ইয়ে সহি হে্যঁয় কে উসমে কুচ হিন্দু লোগ ম্যারে গ্যায়ে। উসকে বাদ বরাবর ঝড়প হোতা রাহি। উসমে হামারি লোক ভি মারে গ্যায়ে আওর মুক্তিবাহিনীকে লোক ভি মারে গ্যায়ে। যাঁহা দো গ্র“প মে আমনে সামনে ঝড়প ইয়া লড়াই হোত্যি হ্যায় উও জেনোসাইড নেহি হ্যায়।’ (আমি কোন গণহত্যা করাইনি। আমাদের টহলদার বাহিনীর ওপর গোলাবারুদ নিয়ে হামলা করার জন্য জগন্নাথ হলে কিছু অবাঞ্ছিত লোক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর আমি জগন্নাথ হলে কিছু সৈন্য পাঠাই। এটা সত্য যে তাতে কিছু হিন্দু লোক মারা যায়। এরপর কিছু কিছু সংঘর্ষ হয়। তাতে আমাদেরও কিছু লোক মারা গেছে এবং মুক্তিবাহিনীর লোকও মরেছে। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তাতো গণহত্যা নয়।)
গণহত্যাকারী টিক্কার উত্তরে আমি ও রেজাউর রহমান যুগপৎ বিস্ময়ে পর¯পরের দিকে তাকাই। এ রকম জ্বলজ্যান্ত মিথ্যা তার পি এস (úিম, সুঠামদেহী সিভিল ড্রেস পরিহিত আমাদের পার্শ্বে দাঁড়ানো) পর্যন্ত বিশ্বাস করছে কি-না বোঝার জন্য আমি তার দিকে তাকাই। মনে হলো সেও আমাদের ন্যায় কিছুটা বিস্মিত এবং এতােকাল পরেও টিক্কার মিথ্যা ভাষণে বিব্রত। কেননা, পাকিস্তানি আর্মি বাংলাদেশে লাখ লাখ লোক হত্যা করেছে যার শুরু জেনারেল টিক্কা করে গেছেন, তা কে না জানে? এ নিয়ে পাকিস্তানে কমিশন গঠিত হয়েছে এবং ’৭১ এ এখানে জেনোসাইড ও রেপ করার সুনির্দিষ্ট কারণে উক্ত কমিশন পাকিস্তান আর্মির অনেককে কোর্ট মার্শাল করার জন্য সুপারিশ করে। যদিও তা কার্যকর হয়নি।
তাহলে তার বক্তব্য অনুযায়ী ২৬ মার্চ রাতে তিনি গণহত্যা করেননি, তাহলে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে কেন গ্রেপ্তার করলেন সে বিষয়টি মনে উদয় হওয়ায় আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, ঞযবহ ঝরৎ, যিু ফরফ ুড়ঁ ধৎৎবংঃ ঝযবরশয গঁলরন ড়হ ২৬ঃয গধৎপয ভৎড়স যরং উযধহসড়হফর জবংরফবহপব ?
জেনারেল টিক্কা : ‘মেরে কডনে দেঁড়াতে ণ্ডয়ে এক থ্রি ব্যাণ্ড রেডিও লা কর দিয়া আওর কাঁহা স্যার, সুনিয়ে, শেখ সাব আজাদী কা এলান কর রাহে হেঁয়। আওর মাইনে খোদ শেখ সাব কো রেডিও পর এক ফ্রিকোয়েন্সিছে ওহফবঢ়বহফবহপব কা এলান করতে ণ্ডয়া সুনা। জিসকো বাগাওয়াত্ কাঁহা যা সেকতা হেঁয়। চুঁকে ম্যাঁয়ে শেখ সাব কি আওয়াজ আচিছ তেরা পেহছান তা থা। অহফ ও যধফ হড় ড়ঢ়ঃরড়হ নঁঃ ঃড় ধৎৎবংঃ যরস” (আমার কো-অর্ডিনেশন অফিসার একটি থ্রি ব্যাণ্ড রেডিও এনে বললো স্যার শুনুন, শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা করছেন। আমি নিজে রেডিওতে শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে শুনলাম, কারণ, শেখ সাহেবের কণ্ঠস্বর আমি ভালো করেই চিনতাম। যে ঘোষণা তখন দেশদ্রোহিতার শামিল ছিল। সেক্ষেত্রে শেখ সাহেবকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া আমার কোনো বিকল্প ছিল না।)
প্রশ্ন : ওভ ঝযবরশয গঁলরন যধফ মড়হব ঃড় ওহফরধ ধষড়হমরিঃয গৎ. ঞধলঁফফরহ রহ ঃযধঃ পধংব যিধঃ ুড়ঁ ড়িঁষফ ফড়হব?
জেনারেল টিক্কা ঃ ‘ম্যায় আচিছ তেরা জানতা থ্যে মুজিব য্যায়সা লিডার আপনি আওয়াম কো ছোড়কে নেহি যায়েঙ্গি। ম্যায় শেখ মুজিব কো গ্রেফতার করণে কে লিয়ে ঢাকাসে হার জাগা তালাসি লেতা। আওর কোয়ি কোনা, কোয়ি ঘর নেহি ছোড়তা। তাজউদ্দিন আওর ইন য্যায়ছে দোসরে লিডারকে গ্রেফতার করণে কে মেরা কুই ইরাদা নেহি থ্যে। ইস লিয়ে ও লোগ আহসানিসে ঢাকাসে চলি গ্যায়ে।’ (আমি ভালো করেই জানতাম শেখ মুজিবের মতো নেতা তার নিজের লোকদের ছেড়ে যাবে না কোথাও। আমি শেখ মুুজিবকে গ্রেপ্তার করার জন্য ঢাকার সমস্ত জায়গায় প্রতিটি বাড়িঘরে এমনকি প্রতিটি কোণায় কোণায় তল্লাসি চালাতাম। তাজউদ্দিনের মতো অন্য কোনো নেতাদের আমার গ্রেপ্তার করার ইচ্ছা ছিল না। এজন্য তারা সবাই খুব সহজেই ঢাকার বাইরে চলে যেতে পেরেছিল।)
হ্যাঁ, চেঙ্গিস খান, হালাকু খানের বংশধর টিক্কা খান দৃঢ় ¯পষ্ট স্বরে ’৭১ এর ২৬ মার্চ রাতের কথা বললেন যে, শেখ মুজিবকে সে রাতে না পাওয়া গেলে তিনি ও তার ফৌজ ঢাকার এবং বাংলাদেশের ঘরে ঘরে কারবালার শোক বইয়ে দিতেন। শেখ মুজিবকে না পাওয়া গেলে হায়েনারা ২৬ মার্চের রাতে ঢাকার কোন ঘর, এমনকি ক্ষুদ্র কোনো কোণ তারা ছাড়তো না। বাংলাদেশের দীর্ঘ নয় মাসে তারা ত্রিশ লাখ লোককে হত্যা করে, কিন্তু শেখ মুজিবকে ২৬ মার্চ তাদের হাতের মুঠোয় না পেলে চেঙ্গিস খান-হালাকু খানের বংশধরেরা নয় মাসে নয়, শেখ মুজিবের জন্যে হন্যে হয়ে তা নয় দিনে কোটি লোক হালাক করে দিতো। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার বুকে পানির ঢেউ থাকতো না, রক্তের ঢেউ জেগে উঠতো।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, বিশ্ববাসী সাক্ষী, সকল ঝড়-তুফান থেকে তিনি বাঙালি জাতিকে রক্ষা করেছেন। ২৬ মার্চ তিনি গণহত্যাকারী টিক্কা খানের আক্রোশ ও ছোবল থেকে লাখ লাখ ঢাকাবাসী তথা দেশবাসীকে বাঁচানোর জন্য হিমালয়সম সাহস নিয়েÑ ৩২ নম্বর বাড়িতে অপেক্ষা করেছেন আত্মদানের জন্যে। কেউ জানতো না সে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, না হত্যা করা হবে?
প্রশ্ন ঃ ডযবহ ঃযব ঢ়ড়ষরঃরপধষ ফরংপঁংংরড়হ ধিং মড়রহম ড়হ নবঃবিবহ ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযসধহ ধহফ চৎবংরফবহঃ ণধযুধ কযধহ যিু ুড়ঁ, ঝরৎ, ঃযড়ঁমযঃ রঃ বংংবহঃরধষ ঃড় নৎরহম ঃযড়ঁংধহফং ড়ভ ংড়ষফবৎং ভৎড়স ডবংঃ চধশরংঃধহ ঃড় ঊধংঃ চধশরংঃধহ ?
টিক্কা খান : ‘হামারে আর্ম ফোর্সেস রুটিন কে মোতাবেক কাম কর রাহে থে। ইস্ট পাকিস্তান আওর ওয়ে’ পাকিস্তান কে দারমিয়ান ফৌঁজ কা মুভমেন্ট মামুল কে মোতবেক হো রাহা থা’।
প্রশ্ন ঃ উড়হ’ঃ ুড়ঁ ঃযরহশ ুড়ঁৎংবষভ ৎবংঢ়ড়হংরনষব ভড়ৎ ঃযব নৎবধশ-ঁঢ় ড়ভ চধশরংঃধহ পধঁংবফ ফঁব ঃড় ঃযব ধৎসু ধপঃরড়হ ড়হ ২৫ গধৎপয রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ ?
টিক্কা খান ঃ ‘প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ানে শেখ মুজিবুর রহমান কো মুলক কে উজিরে আজম কা এলাহান পহেলে কর চুকে থে। মুঝে একিন থা কে শেখ মুজিবুর রহমান, আওর পুরি বেঙ্গলী কওম ইস এলাহান পার যো কে প্রেসিডেন্টনে কিয়া থা, উস পার বণ্ডত খোস থে। কিঁউকে পহেলে দফা এক বেঙ্গলী লিডার, পাকিস্তানকা উজিরে আজম হোনে যা রাহা থা। লেকিন কুছ এক্সট্রিমি’ ইয়ং তার্ক নে শেখ সাব কো পুরে মুলকা উজিরে আজম কে বেজায় এক সুবাকে হেড বানানে কে লিয়া শেখ মুজিব পার দাবাও ডালা। স্টুডেন্ট ফ্রন্ট নে ইণ্ডিয়া কে ইশারা পর পুরে সুবে মে এক লাকানুনিয়েত কি সুরেতে হাল পয়দা কর দিয়া। যব কে পাকিস্তানকা পুরে পাঁচ সুবাকে লোক শেখ মুজিবকে উজিরে আজম বননেকা এনতেজার কর রাহে থে, এ্যায়সে ওয়াক্ত ও কিঁউ এক সুবেকে হেড, ইয়া উজিরে আজম হোঙ্গেঁ? ম্যায় সমোস্তো ণ্ডঁ কে শেখ মুজিব পুরে মুলক কা ইয়া পাকিস্তানকা উজিরে আজম না বনে এসকে লিয়ে ই’ পাকিস্তানকে কুছ বীঃৎবসরংঃ স্টুডেন্ট লিডার আওর সাথভি ওয়েস্ট পাকিস্তানকে কুছ লিডার জিম্মাদার হ্যায়’।
প্রশ্ন ঃ ঞযবহ যিড়স ুড়ঁ পড়হংরফবৎ ৎবংঢ়ড়হংরনষব ভড়ৎ ংঁপয ধ নষড়ড়ফ-ংযবফ ধহফ ঃৎধমবফু ?
টক্কা খান ঃ ‘ইস্ট পাকিস্তানে মে স্টুডেন্ট লিডারস অওর তাজুদ্দীন ইন হালাত, ইয়া নে মূলক তোড়নে কে জিম্মাদার হ্যায়। অওর ওয়েস্ট পাকিস্তান কে কুছ লিডার ভি মুলক কো তোড়নে কে জিম্মাদার হ্যায়’।
প্রশ্ন ঃ ডরষষ ুড়ঁ ঢ়ষবধংব হধসব ঃযবস ?
টিক্কা খান ঃ ‘ম্যায় আভি উনকা নাম নেহি বাতা সেকতা’।
প্রশ্ন ঃ ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযসধহ ধিং ঃযব বষবপঃবফ ঃযব ষবধফবৎ ড়ভ ঃযব সধলড়ৎরঃু ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ চধশরংঃধহ ধহফ পড়সসবহফবফ সধলড়ৎরঃু রহ ঃযব চধশরংঃধহ চধৎষরধসবহঃ ডযু ফরফ ুড়ঁ ঢ়ঁঃ যরস রহ পঁংঃড়ফু রহ ডবংঃ চধশরংঃধহ ধহফ যড়ি ফড় ুড়ঁ বীঢ়ষধরহ ুড়ঁৎ ঢ়ড়ংরঃরড়হ?
টিক্কা খান ঃ ‘ইস্ট পাকিস্তান কে গভর্নর হোতে ণ্ডয়ে ম্যায়নে যিতনি টেলিফোন কল ওয়েস্ট পাকিস্তান কিয়া, উসমে ৮০% কল শেখ মুজিব কি খায়রিয়ত অওর সিয়াসি হালত কি গুপ্তে গু কি। ম্যাঁয়নে ইস্ট পাকিস্তান কে সাবেক গভর্নর আজম খান অওর দোসরে গভর্নরসে সাথ বাত চিত কি। অওর মুঝে একিন থা কে শেখ মুজিবকে বাগায়েত কুয়ি সেয়াসি সমঝোতা নেহি হো সেকতা। মুঝে একিন থা কে শেখ সাব অওর টপ ব্রাস অব দি আর্ম ফোর্সেস ইসকা আচিছ তারা জানতা থে’।
প্রশ্ন ঃ ঞযবহ যিু ুড়ঁ ফঁম মৎধাবুধৎফ নবংরফবং যরং ঢ়ৎরংড়হ পবষষ ধহফ যিু ুড়ঁ নৎড়ঁমযঃ পযধৎমব ড়ভ ঃৎবধংড়হ ধমধরহংঃ যরস?
টিক্কা খান ঃ ‘ইয়ে বিলকুল ঝ্যুট হ্যায়। লেকিন ইয়ে সহি হ্যায় কি শেখ মুজিব পর বাগাওয়াত কা ইলজাম কেয়া গিয়া থা। লেকিন, ম্যায় আওর দোসরে জেনারেল ইস ইলজাম কে খেলাফ থে। অওর হাম লোগ মাসলে কা সিয়াসি হাল চাহতে থে। ইয়ে ইলজাম ভি আগরতলা ইলজাম কি তারা এক সিয়াসি মামলা থা’।
প্রশ্ন ঃ ণড়ঁ যধাব ংড় সঁপয ৎবংঢ়বপঃ ভড়ৎ যরস, ঝরৎ, ঃযবহ যিু ফরফ ুড়ঁ যঁসরষরধঃব যরস নু নৎরহমরহম ড়ঁৎ হধঃরড়হধষ যবৎড় ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযসধহ ঃড় ডবংঃ চধশরংঃধহ ধং ধ ঢ়ৎরংড়হ যিরপয বাবহঃ যধং ধ ংরসরষধৎ বীধসঢ়ষব যিবহ ঃযব ঋৎবহপয হধঃরড়হধষ যবৎড় ঘবঢ়ড়ষবড়হ ইড়হধঢ়ধৎঃব ঃযব মৎবধঃ ধিং ঃৎধহংঢ়ড়ৎঃবফ ঃড় ঝঃ ঐবষবহধ ধং ঢ়ৎরংড়হ ?
টিক্কা খান ঃ ‘ম্যায় নে শেখ মুজিবুর রহমান কো কুছ হিউমিলিয়েট নেহি কিয়া। ম্যায়নে উনকো ঢাকাসে সেল্যুট করকে রুখসাত কিয়া। শেখ সাবকো রুখসাত কি, ওয়াক্ত ম্যায় ইয়ে সমঝ রাহা থা, কে শেখ সাবকে ওয়েস্ট পাকিস্তান পৌঁছনে কে বাদ, সিয়াসি সমঝোতা হো যায়েগা। অওর শেখ মুজিবুর রহমান মুলকে উজিরে আজম বন যায়েঙ্গে। ম্যায়নে শেখ সাব কো নেহি মারা। লেকিন আপ লোগোনে উন কো মারা। ম্যায় আপ সে পুঁছতা ণ্ডঁ কে আপ লোগোনে উনকো কিঁউ মারা? কাভি নেহি বোলনা কে টিক্কা খান উনকো মারা। মেরা ’িকলে কর এশিয়ান হাই ওয়ে পর লাহোরসে ঢাকা যাতে ণ্ডয়ে সব লোগোকো ইয়ে বলতে ণ্ডয়ে যাইয়ে কে টিক্কা খান নে শেখ মুজিবকো নেহি মারা। উনকি বেঙ্গলী কওমনে উনকো মার ডালা’।
প্রশ্ন ঃ ণড়ঁৎ সরষরঃধৎু ধপঃরড়হ ধহফ মবহড়পরফব ড়হ ২৫ঃয গধৎপয ড়হধিৎফং ফরংসবসনবৎসবহঃ চধশরংঃধহ ধহফ ুড়ঁ ধৎব ৎবংঢ়ড়হংরনষব ভড়ৎ ঃযধঃ ঐড়ি ফড় ুড়ঁ বাধষঁধঃব ুড়ঁৎ ৎড়ষব যিরপয নৎড়ঁমযঃ ভধষষ ড়ভ ুড়ঁৎ ধৎসু রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ ?
টিক্কা খান ঃ ‘মেরে মরনে তক ইসকা ইলজাম মুঝ পার রাহেগা। লেকিন মুলক্ তোড়নে কা জিম্মাদার ম্যাঁয় নেহি ণ্ডঁ। ম্যাঁয়নে আমানত মে কুয়ি খিয়ানত নেহি কি। মায়নে শেখ সাবকে সাথ কোয়ি বুরা সুলুক নেহি কিয়া অওর যব হামনে উনসে মুলাকাত কি তো হামনে উনকো তাহজিবসে স্যেলুট দিয়া। শেখ সাব জানতে থে কে মায়নে যো ডিউটি আনজাম দি, উয়ো বিলকুল কানুন কি মোতাবেক থি। অওর মেরে এলাওয়া কোয়ি ভি গভর্নর হোতা, উয়ি ভি এহি করতা। ‘৭১ মে যো বাংলাদেশ মে ণ্ডয়া, ‘৭২ মে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানকে উজিরে আজম হোনে কে বাদ আগর ওহি হালাত সিন্ধমে হোতা তো। শেখ মুজিবকা সিন্ধ কা গভর্নর ভি ওহি করতা, যো ম্যাঁয়নে ‘৭১ মে ইস্ট পাকিস্তান সে কিয়া। গভর্নর কে পাস ইসকে এলাওয়া অওর কুয়ি ড়ঢ়ঃরড়হ নেহি হোতা। উসকে জিম্মাদারী, কনসটিটিউশন, টেরিটোরিয়াল ইনট্রিগিটি কো ইনট্যাক্ট রাখনা। আগর কোয়ি গভর্নর এ্যায়সা নেহি করতা তো উসকা ইমপেচমেন্ট হোতা। অওর ফাঁসী ভি হো সেকতি থি’।
প্রশ্ন ঃ অৎব ুড়ঁ ধধিৎব ঃযধঃ ২ ষধপং ড়ভ ড়ঁৎ সড়ঃযবৎং ধহফ ংরংঃবৎং বিৎব ৎধঢ়বফ নু চধশরংঃধহর ধৎসু রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ ?
টিক্কা খান ঃ ‘দো তিন লাখ রেপ বিলকুল ধনংঁৎফ. ইয়ে না মুনকিন হ্যায়। হামারে টোটাল ফৌজ ভি দো লাখ নেহি থি। ম্যায় আল্লাহ পে তাওয়াক্কাল কারকে ক্যায় সেকতা ণ্ডঁ কে কুছ রেপ কে কেসেস ণ্ডঁয়ে থে। অওর জিন লোগোনে ইয়ে গলত কাম কিয়া উনকে খিলাফ সকত কারওয়াই কি গ্যেয়ি। অওর উনকো জিন্দেগী বরবাদ কর দি গেয়ি। অওর উনকা কেরিয়ার ভি খতম হো গিয়া’।
প্রশ্ন ঃ গরষষরড়হং ড়ভ রহহড়পবহঃ ঁহধৎসবফ পরারষরধহ ঢ়বড়ঢ়ষব বিৎব সধংংধপৎবফ রহফরংপৎরসরহধঃবষু নু চধশরংঃধহ ধৎসু ধষষ ড়াবৎ ঊধংঃ চধশরংঃধহ. ঐড়ি ফড় ুড়ঁ লঁংঃরভু ঃযধঃ
টিক্কা খান ঃ ‘হাম লোগে নে কুয়ি জেনোসাইড নেহি কিয়া। জং মে যো এ্যাকশন অওর কাউন্টার এ্যাকশন মে দোনো তরফ কে লোগ মরতে হ্যায়। কুছ এরিয়া মে রহহড়পবহঃ লোগ এ্যাকশন মে মারে গ্যায়ে। অওর জিন লোগো নে ইয়ে অপারেশন কিয়া উনকে খেলাফ হাম লোগোনে এ্যাকশন লিয়া। লেকিন যিন অপারেশন মে রহহড়পবহঃ লোগ মারে গ্যায়ে, ইনকয়রি করনে পর পাতা চালা, কে ইসকে জিম্মাদার লোকাল লিডার অওর পিস কমিটি থি। উনো নে আপনে সেলফ ইনটারেস্ট অওর য্যাতি মোফায়াত কে লিয়ে হামে ফৌজসে রহহড়পবহঃ লোগো পর, অওর জিনসে উনকি জাতি দুসমনি থি, উন পর অপারেশন করায়া। আপ লোগ হাম পর ইলজাম লাগানে কে বাজায়ে আপ আপনে উস ওয়াক্তকে যো লোকাল লীডার হ্যায় উনসে ইস বারে মে পুঁছে। কিঁউকে উও ইস গলদ এ্যাকশনকে জিম্মাদার হ্যায়।’
প্রশ্ন ঃ চবড়ঢ়ষব ড়ভ ইধহমষধফবংয ংঃরষষ ফবসধহফরহম ঃৎরধষ ড়ভ ১৯৫ চধশরংঃধহর ধিৎ পৎরসরহধষং ভড়ৎ পড়সসরঃরহম মবহড়পরফব, ৎধঢ়ব ধহফ সধহু ড়ঃযবৎ পৎরসবং ধহফ ুড়ঁৎ হধসব রং ধষংড় ঃযবৎব, ওভ ঃযব রহঃবৎহধঃরড়হধষ ঃৎরধষ রং যবষফ নু রহঃবৎহধঃরড়হধষ পড়ঁৎঃ ড়ভ লঁংঃরপব ঃযবহ যড়ি ুড়ঁ ধহফ ুড়ঁৎ ভবষষড়ি ধিৎ পৎরসরহধষং ড়িঁষফ ভধপব ঃযব ঃৎরধষ?
টিক্কা খান ঃ ‘লিস্ট মে মেরা নাম নেহি হ্যাঁয়। ম্যাঁয় ই’ পাকিস্তান সে তিন/চার মাহিনে গভর্নর থা। অওর ম্যাঁয়নে কোয়ি ওয়ার ক্রাইম নাহি কিয়া। তামাম পাকিস্তানি শেখ মুজিবুর রহমানকে এহসান মান্দ অওর মশকুর হ্যায় কে উনুনে ইসলামী উম্মাহ কি তরফ দেখতে ণ্ডয়ে ট্রায়াল ড্রপ কার দিয়া। ইস তারা উনোনে রসুলুল্লাহ সাল্লাাল্লাণ্ড আলাইহে সালামকে উম্মাত হোনে কে হেসিয়াত সে বণ্ডত বড়া কাম কিয়া। ইণ্ডদি, ক্রিশ্চিয়ান অওর ন-মুসলিম ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহ কে হিউমিলিয়েট অওর জলিল করনে কে কোসিস কর রাহে থে। লেকিন, শেখ সাব যায়েসে আজিম লিডার নে ট্রায়াল ড্রপ করকে ইসলাম দুশমন তাকাতোঁকি সাজেসকো নাকাম বানা দিয়া। অওর ইসতারা ইসলামকি বণ্ডত বড়ি খেদমত কি’।
প্রশ্ন ঃ ইঁঃ বি যবধৎফ ঃযধঃ চধশরংঃধহর ষবধফবৎং ধহফ মবহবৎধষং যিবৎব াবৎু ঢ়ষবধংবফ যিবহ ঃযবু যবধৎফ ঃযব হবংি ড়ভ শরষষরহম ড়ভ ধহমষধফবংয ষবধফবৎ ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযসধহ রহ ১৯৭৫.
টিক্কা খান ঃ ‘ইয়ে বিলকুল গলদ হ্যায়। শেখ মুজিবকে কতল পর হর পাকিস্তানি বণ্ডত আফসোস অওর ংযড়পশ ণ্ডয়া। শেখ মুজিব পাকিস্তান আওয়ামে বণ্ডত মখবুল থে। চুঁকে উনোনে চ.ঙ.ড.’ং কো ইণ্ডিয়া ছে রাহা করাওয়া থা। অওর হর পাকিস্তানি দোয়া করতে হ্যায় আল্লাহ তায়ালা উনকো জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করে। উয়ো ১৯৭৪ ঙওঈ কনফারেন্স মে সিরকেত কে লিয়ে লাহোর আয়ে থে তো ইসলামী দুনিয়া কে এক বড়া লিডারকে হেসিয়াত সে উনকো বণ্ডত উজ্জত দিই গেয়ি। ম্যায়নে লাহোর সে উনকো সেল্যুট কিয়া অওর বণ্ডত ইজ্জত সে হাত মিলায়া। জিন লোগোনে উনকো মারা, উসনে ইসলামী উম্মাহ কা বণ্ডত লোকসান পৌঁছায়া। উনকে ইন্তেকাল সে দোনো মুসলিম মুলকো কো কাফি লোকসান ণ্ডয়া। লেকিন চান মুলকোকো ইসসে ফায়দা ণ্ডয়া’।
প্রশ্ন ঃ ঐড়ি ফড় ুড়ঁ বাধষঁধঃব ুড়ঁৎ ঢ়বৎংড়হধষ ৎড়ষব, ঝরৎ, রহ ৭১ ধিৎ ধহফ ংঁৎৎবহফবৎ ড়ভ ড়হব ষধপ যরমযষু ঃৎধরহবফ চধশরংঃধহর ধৎসু ঃড় ড়ঁৎ গঁশঃরনধযরহর ?
টিক্কা খান ঃ ‘মুলক টুটনে কা মুঝে বণ্ডত আফসোস হ্যায়। অওর ম্যায় ইসকো দিলসে মেয়সুস করতা ণ্ডঁ। হাম সব লোগ ইসকে জিম্মাদার হ্যায়। জিস তারা মুলকে রহঃধপঃ রাখনে কি জিম্মাদারী হাম সব লোগো কি থি, ওসি তারা টুটনে কি জিম্মাদারী ভি হাম সব পর আয়েদ হোতি হ্যায়। মুলক কা এক হিস্যা আলাক হো যানে সে হামারা ভি কাফি লোকসান হুয়া হ্যায়, অওর হো রাহা হ্যায়’।
প্রশ্ন ঃ অৎব ুড়ঁ ধধিৎব ড়ভ ঃযব লঁংঃরপব ঐধসরফঁৎ জধযসধহ পড়সসরংংরড়হ ৎবঢ়ড়ৎঃ, ঝরৎ, রহ যিরপয যব যবষফ ঃযব মবহবৎধষং ধহফ ড়ঃযবৎ পড়সসধহফরহম ধৎসু ড়ভভরপবৎং রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ ৎবংঢ়ড়হংরনষব ভড়ৎ ধিৎ পৎরসব ধহফ ৎবপড়সসবহফবফ ঃযবরৎ ঃৎরধষ ধহফ ঢ়ঁহরংযসবহঃ ?
টিক্কা খান ঃ ‘পাকিস্তানি আওয়াম নে জাস্টিস হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টকো মানা হ্যায়, তো ম্যাঁয় ভি মান তা ণ্ডঁ ধহফ ষধি ংযড়ঁষফ ঃধশব রঃং ড়হি পড়ঁৎংব. হাম লোগো নে ইস্ট পাকিস্তানসে আনে ওয়ালে ফৌজিওঁ কো দো বারে ফৌজমে নেহি রাখা। উনো নে ইস্ট পাকিস্তান কি জং মে ওয়ার ক্রাইম কিয়া, ইয়া নেহি কিয়া, কিসিকো ভি ফৌজ মে নেহি রাখা’।
প্রশ্ন ঃ ঝড়সব ড়ভ ঃযব ঃড়ঢ় চধশরংঃধহর ঊফরঃড়ৎং ধহফ ঔড়ঁৎহধষরংঃ পড়সসঁহরঃু ষবধফবৎং রহপষঁফরহম গৎ. ঘবংধৎ টংসধহর ্ গৎ. ঐধনরন কযধহ এযড়ৎর ঃড়ষফ সব ঃযধঃ পড়সসড়হ ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ চধশরংঃধহ বিৎব রহ ভধাড়ঁৎ ড়ভ ঃযরং ৎবঢ়ড়ৎঃ উড় ুড়ঁ ধমৎবব ঃড় ঃযবস?
টিক্কা খান ঃ ‘ম্যাঁয় আপকো রুখসাত করনে সে পহেলে ইয়ে বাতাঁনা চাঁহতা ণ্ডঁ, কে ম্যাঁয়নে এক গুলি ভি নেহি চালায়া যব পাঁচিশ মার্চ কি রাত কো রেডিও পর শেখ মুজিবনে আজাদী কা এলান কিয়া, তো মায়নে ঢাকা মে আপনি আইনী জিম্মাদারী পুরি কি। আপ এক গর্ভমেন্ট অফিসার হ্যায়। আপ পাঁচিশ মার্চ কো আগর ঢাকাকে গভর্নর হোতে, তো আপভি ওহি করতে যো ম্যাঁয়নে কিয়া। আপ শেখ মুজিব কো নাম জানতে হেঁয়। শেরে কাশ্মীর শেখ আব্দুল্লাহ কা নাম আপ শুনা হ্যায়? কাশ্মীর কি আজাদী কা এলান করনে পর নেহেরুনে উনকো দশ সাল জেল মে রাখা। হামনে ন মাহনে মে শেখ মুজিবকো ইজ্জত সে বাংলাদেশ রওয়ানা কর দিয়া। অওর বাংলাদেশ কো তসলিম ভি কর লিয়া। অওর হাম লোগ চাহতে হ্যঁয় কে বাংলাদেশ তারাক্কি করে অওর আগে বাড়হে’।
প্রশ্ন ঃ ডযবহ ুড়ঁ ধৎব ৎবভবৎৎরহম ঃড় ঃযরং ধমধরহ, সধু ও ঢ়ড়ষরঃবষু ধংশ ুড়ঁ ঝরৎ, যিু ুড়ঁৎ ধৎসু রহ ঃযব হধসব ড়ভ ওংষধস ৎধঢ়বফ ২ ষধপং ড়ভ ড়ঁৎ সড়ঃযবৎং ধহফ ংরংঃবৎং ধহফ ঢ়ৎড়ফঁপবফ ঃযড়ঁংধহফং ড়ভ নধনরবং নঁঃ ৎবভঁংবফ ঃড় ধফড়ঢ়ঃ ঃযবস যিবহ ঃযবহ ঊঁৎড়ঢ়বধহ ধহফ অসবৎরপধহ ঈযৎরংঃরধহ পড়সসঁহরঃরবং াড়ষঁহঃববৎবফ ঃড় ধফড়ঢ়ঃ ঃযবস?
মুক্তিযোদ্ধার তেজ নিয়ে উচচারিত আমার সেই নির্মম কঠোর সত্য প্রশ্নবাণের মুখে মানব জাতির ঘৃণ্যতম রক্ত পিপাসু, ৩০ লক্ষ বাঙালির গণহত্যাকারী টিক্কা খানের হম্বি-তম্বি অকস্মাৎ স্তব্দ হয়ে গেলো এবং তিনি বিধ্বস্ত অবস্থায় তার মাথা হেট করে ফেললেন। মনে হলো, তার পাপেরও অপরাধের ভারে বাঙালি জাতির সামনে তিনি তার মাথা নত করলেন। নরহত্যার পাপ থেকে নর হত্যাকারীরও যে মুক্তি নেই, ৩১ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের গভর্নর হাউসে ৩০ লাখ নর হত্যাকারী নবাধম টিক্কা খানের চেহারায় তা ফুটে উঠলো। কঠিন নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে অকস্মাৎ সে হাল ছেড়ে দিলো এবং ৩০ লাখ বাঙালি মুসলমান ভাই বোন হত্যা ও ২ লাখ মা-বোন ধর্ষণের পাপবোধ তাকে গ্রাস করলো। জল্লাদ টিক্কা অপরাধীর মতো নিরুত্তর মুখে তার ডানে-বামে ফালুক-ফুলুক করে তাকাতে লাগলো। তার এসি ড্রইং রুমে অকস্মাৎ সে ঘামতে লাগলো এবং নিস্তেজ হয়ে পড়লো। এ অবস্থা লক্ষ করে জেনারেল টিক্কার চেহারা গড়নের ছিপছিপে একান্ত সচিব সাক্ষাতকার শেষ হয়েছে বলে দিলেন। আমরা উঠে পড়লাম। সেই অবস্থায়ও জেনারেল সোফা থেকে উঠে ড্রইং রুমের দরজা পর্যন্ত আমাদের বিদায় জানালেন। তার একান্ত সচিব অবশ্য দোতলা থেকে নিচে এসে আমাদের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন এবং আতিথেয়তার কোনো ত্র“টি হয়ে থাকলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দিতে বললেন। সাক্ষাতকার নিতে আসার জন্য ধন্যবাদ দিলেন এবং সাক্ষাতকার ছাপা হলে তার বস জেনারেল টিক্কা খানকে তার কপি পাঠাতে বললেন। আমি ও রেজাউর রহমান তাঁদের অঢেল সুস্বাদু খানা পিনার ও আদর আপ্যায়নের জন্য ধন্যবাদ জানালাম এবং জেনারেলকে আমাদের ধন্যবাদ পৌঁছে দিতে বলে তার সঙ্গে শেকহ্যান্ড করে বিদায় নিলাম।
বাংলাদেশে ৩০ লাখ বাঙালি নর-নারী হত্যা ও দুলাখ মা-বোনের ইজ্জতহরণের বিশ্ব ধিকৃত জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল নিয়াজী, জেনারেল রাও ফরমান আলীসহ হানাদার এক লাখ পাকসেনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, গুম নিপীড়ন, অগ্নিসংযোগ ও স¤পদ লুণ্ঠনের অভিযোগে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা জাতীয় স্বার্থে ও বিশ্ব মানবজাতির স্বার্থে অত্যাবশ্যক ও জরুরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ন্যুরেমবার্গে হিটলার, গোয়েবলস, প্রমুখ যুদ্ধাপরাধীদের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রায়ালের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। আমাদের নিকট প্রতিবেশী জাপানের রাজধানী টোকিওতেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির কুখ্যাত আইখম্যানের নেতৃত্বে ষাট লাখ ইহুদি নারী-পুরুষ, শিশু-যুবক-বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে গণহত্যার আন্তর্জাতিক অপরাধে ও যুদ্ধাপরাধে জার্মানির সরকার প্রধান হিটলার ও তার দুর্ধর্ষ গণহত্যাকারী আইখম্যানসহ জার্মান সরকারের জীবিত সকল নেতা ও জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর সকল জেনারেলসহ অধিকাংশ সামরিক অফিসারকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনা হয় ও ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। বস্তুত বিশ্ববিখ্যাত ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের রায়ের কার্যকারিতা অব্যাহতভাবে বিদ্যমান বিধায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্ধশতাব্দী পরেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আত্মগোপনকারী ৮০/৯০ বছর বৃদ্ধ যুদ্ধাপরাধীদেরকেও বিশ্বব্যাপী খুঁজে খুঁজে এখনও বের করে ধরা হচ্ছে ও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হচেছ। গত নভেম্বর মাসে ফ্রান্সের একজন ৯২ বছর বয়সী যুদ্ধাপরাধীকে সুইজ্যারল্যাণ্ডের গোপন স্থান থেকে খুঁজে বন্দী করে ফ্রান্সে আনা হয়েছে এবং তাকে তার কৃত যুদ্ধাপরাধের জন্য আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়েছে, যেখানে তার মৃত্যুদণ্ড সুনিশ্চিত ও সমাসন্ন।
জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, আমেরিকা, বৃটেনসহ ইউরোপের জাতিসমূহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্ধ শতাব্দী পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। কারণ, মানবজাতির অগ্রগতি ও বিকাশ তারা নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বদ্ধ পরিকর। যুদ্ধাপরাধীদের বিষাক্ত থাবা থেকে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমাকে তারা রক্ষা করতে চায় এবং স্বর্গ থেকে মর্তে আসা মানবজাতির অমৃত সুধা ‘ভালোবাসা’র পূণ্যালোকে বিশ্ব মানবজাতিকে আলোকিত করে তুলতে চায়। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে বিশ্ব মানবজাতি সেই পূণ্যময় আলোকরশ্মিতে ঝলমল করে উঠবে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: