জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া লাভ কি? পৃথিবীতে কে কাহার…

শাহজাহান আকন্দ শুভ ও হাসান জাকির: ওয়েবসাইটে কলগার্ল ব্যবসা৷ তাও গোপনে নয়, প্রকাশ্যেই৷ রাজধানীর বনানীতে ‘এসকর্ট এজেন্সি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এ ব্যাপারে তারা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে কলগার্লদের যৌন আবেদনময়ী ছবি এবং সেলফোন নাম্বার দেয়া হয়েছে৷ এছাড়াও আছে কলগার্লদের শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ণনা এবং তাদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার নিয়ম-কানুন৷ এছাড়াও দেহ ব্যবসা করে রাতারাতি লাখপতি হওয়ার লোভনীয় সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এসকর্টের ওয়েবসাইটে৷

জানা গেছে, আজাদ রহমান নামে এক ব্যবসায়ী এসকর্টের কলগার্ল ব্যবসা পরিচালনা করেন৷ গতকাল ফোনে তিনি জানান, ‘নিছক দুষ্টুমি করার জন্যই ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছে৷ মেয়েদের ছবি এবং সেলফোন নাম্বার দিয়ে কেন এই দুষ্টুমি করছেন_ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো অপরাধ নয়৷’

এসকর্টের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, কলগার্লদের নিয়ে তাদের রয়েছে বিশাল ডাটাবেজ৷ গ্রাহক হওয়ার পরই কেবল এসব ডাটাবেজে প্রবেশ করা যায়৷ ডাটাবেজে কলগার্লদের ছবিসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে৷ অভিযোগে প্রকাশ, ৪ ক্যাটাগরির কলগার্ল নিয়ে ব্যবসা করছে এসকর্ট৷ এলিট-এ, এলিট-বি, প্রিমিয়াম-এ এবং প্রিমিয়াম-বি৷ বয়স, ফিগার এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তারা ক্যাটাগরি নিধর্ারণ করেছে৷ এলিট ক্যাটাগরির কলগার্লদের স্বল্প সময়ের জন্য বুকিং দেয়া যায় না৷ প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির কলগার্লদের আধ ঘণ্টার জন্য বুকিং দিলে কমপৰে ৪০ ডলার গুণতে হয়৷ আর এলিট শ্রেণীর সর্বনিম্ন রেট হচ্ছে প্রতি ঘণ্টা ২০০ ডলার৷ পুরো রাতের জন্য এলিট কলগার্লদের রেট ৮০০ থেকে ১০০০০ ডলার৷ প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর কলগার্লদের ডাক্তারি পরীৰা করা হয় এবং কলগার্লদের সংস্পর্শে এলে ক্লায়েন্টদের কোনো যৌনবাহিত রোগ হবে না বলেও ওয়েবসাইটে প্রচারণা চালাচ্ছে এসকর্ট৷

রাজধানী ঢাকার নামিদামি হোটেল, ফ্ল্যাট এবং ম্যাসেজ পারলারে এসকর্ট ক্লায়েন্ট-কলগার্ল প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে৷ তবে টাকা হলে পছন্দের কলগার্লকে ঢাকার বাইরে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷

ওয়েবসাইটে পরিচিতি, ছবি এবং সেলফোন নাম্বার থাকা ঢাকার দু’জন কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা গোপন অভিসারের কথা অস্বীকার করেন৷ এদের একজন ওয়েবে থাকা স্টিল ফটোগ্রাফটি নিজের বলে স্বীকার করলেও তিনি যে কলগার্ল ধরনের কিছু নন, তা বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেন৷ এসকর্ট যে বৈধভাবে এই ব্যবসা করছে তার সপৰে তারা ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল লেবেলিং অ্যান্ড রেকর্ড কিপিং ল’ (১৮ ইউ.এস.সি. ২২৫৭)-এর একটি রেফারেন্স তুলে ধরেছে৷ কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের ব্যবসা কোনোক্রমেই বৈধ হতে পারে না৷ শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, সরকারের অনুমোদিত যৌনপলস্নী ছাড়া আর সব জায়গাতেই দেহ ব্যবসা অবৈধ৷

Advertisements

Comments on: "ওয়েবসাইটে প্রচার চালিয়ে ঢাকায় কলগার্ল বাণিজ্য" (3)

  1. লেখাটা সংগ্রহে রাখার মত

  2. ওয়েব সাইট ঠিকানা দিলে ভালো হতো আরও বিস্তারিত জানা যেত

  3. গেলো দেশটা রসাতলে…………..?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: