লাঙল ট্র্যাজেডি
বাংলার চিরচেনা লাঙল হারিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক গ্রাম লাঙলশূন্য হয়ে পড়েছে। কৃষকের আঙিনায় এখন আর লাঙল দেখা যায় না। কৃষকের গোয়ালও এখন বলদশূন্য। বলদের অগ্নিমূল্য, গো-খাদ্যের সঙ্কট, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টরের আগ্রাসনের কারণে লাঙল হারিয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে লাঙলের স্থান হবে জাদুঘরে। জমি চাষ করার জন্য শত শত বছর ধরে বাংলার কৃষকরা লাঙল ব্যবহার করছেন। পোড়ামাটির প্লেটে সপ্তম শতাব্দীর প্রথম দিকে বাংলায় লাঙল ব্যবহারের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। লৌহযুগে লোহার ফলার আধুনিক লাঙলের ব্যবহার শুরু হয়। এর আগে কাঠের তৈরি লাঙল ব্যবহার হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লায় একেক ধরনের লাঙল ব্যবহৃত হয়। লাঙল ও হাল চাষ নিয়ে অনেক কবিতা-গান রয়েছে। আশির দশকে পাওয়ার টিলারের আগ্রাসন শুরু হলে লাঙলের সংখ্যা কমতে থাকে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোরের বেশকিছু গ্রামে এখন একটিও লাঙল নেই। সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া নারায়ণপুর গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এ গ্রামে কোনো লাঙল নেই। দাড়িপাড়া গ্রামে গ্রায় ২৫০ কৃষক পরিবারের বাস। কিন্তু গ্রামে লাঙল রয়েছে মাত্র দুটি। একটি কৃষক আবদুল লতিফের, অন্যটি গয়েজউদ্দিনের। এক সময় গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই লাঙল ছিল। এখন নেই।
No comments yet
উত্তর রেখে যান