সাড়ে ৬ লাখ টাকার বনসাই! জাতীয় বৃক্ষমেলা
গৃহ শোভার জন্য বৃক্ষকে বামন করে রাখার নামই হচ্ছে বনসাই। জাতীয় বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে বনসাইয়ের দিকে। বনসাই মূলত সমাজের এলিটদের শখের হলেও বর্তমানে সব শ্রেণীর মানুষের শখের বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এবারের মেলায় বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও রঙ-বেরঙের বনসাই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
বনসাই করার জন্য এক অথবা দুই বছর বয়সের চারার প্রধান মূল কেটে দিতে হয়। তারপর চারাটির শাখা মূল গজানোর জন্য মাটির থালা বা প্লেটের ওপর মাটিসহ ছায়ায় রাখতে হয়। সপ্তাহখানেক পর লোহার তার পেঁচিয়ে ইচ্ছামতো আকার-আকৃতি দিতে হয়। সেই সঙ্গে গজিয়ে ওঠা শাখা-প্রশাখা কেটে দিতে হবে, যেন গাছটির উচ্চতা বাড়তে না পারে। গাছটির গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সুষম সার দিতে হবে বেড়ে ওঠার জন্য। চীন ও জাপানে সর্বপ্রথম এলিটরা গৃহের শ্রীবৃদ্ধির জন্য বনসাইর চর্চা করতো।
বনসাইয়ের প্রতি মেলায় দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহের কারণে বরিশাল, আনন্দ, কাশবন, পুষ্পক, যশসহ প্রায় সব স্টলে বনসাই স্থান পেয়েছে। পুষ্পক নার্সারির স্টলে গিয়ে দেখা মিললো বৃক্ষমেলার সবচেয়ে দামি বনসাইটির। ৩৮ বছরের পাকুর গাছটিকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে দুই ফুট উচ্চতার মধ্যে। দাম হিসেবে ধরা হয়েছে চার লাখ টাকা। এ স্টলে কামরাঙ্গার বনসাই ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কামরাঙ্গা, কমলা, মিষ্টি করমচা, আ্যান্ডেনিয়াম, বটসহ বিভিন্ন গাছের নানা বয়সী ও আকৃতির বনসাই বিক্রি হচ্ছে। পুষ্পক নার্সারির স্টলে আল্লাহু লেখা অর্জুন গাছের বনসাইটি সবার দৃষ্টি কাড়ছে। ওই নার্সারির ম্যানেজার জুনাইদ হোসেন জানান, তার নার্সারিতে ৫০০ থেকে শুরু করে চার লাখ টাকার বনসাই রয়েছে। তিনি আরো জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। ধানম-ি থেকে বনসাই কিনতে মেলায় আসা মো. জহিরুল ইসলাম রাজু জানান, আমার সংগ্রহে পাকুর ও বটের বনসাই রয়েছে। আজ মেলা থেকে তেঁতুলের বনসাই কিনলাম ৬০ হাজার টাকা দিয়ে।
অন্যদিকে যশ নার্সারির স্টলে পাওয়া গেছে ২৫ বছর বয়সী দুই লাখ টাকার বনসাই। ওই স্টলে আরো রয়েছেÑ চায়নিজ বট, ভুট্টা, জেসিনা, জরা নারিফা ও বটের বনসাই। যশ নার্সারিতে মেলার সবচেয়ে দামি গাছটিই প্রদর্শিত হচ্ছে। গাছটির নাম ললীনা। বনসাই করা গাছটির উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। ৫৫ বছর বয়সী বনসাইটির দাম রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যশ নার্সারিতে ঘরের বাইরে রোদে সবুজ এবং ঘরের মধ্যে সাদা রঙ ধারণকারী থাইল্যান্ড থেকে আনা জরা নারিফা বনসাইর দাম ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা।
বনসাই পরিচর্যা সম্পর্কে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এ ফয়েজ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বনসাই করা গাছটিতে গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে এবং নতুন শাখা-প্রশাখা গজালে তা কেটে ফেলতে হবে।
মেলায় প্রতিবন্ধীদের চালিত সন্ধীপন প্রতিবন্ধী নার্সারি এসেছে নরসিংদী থেকে। এই নার্সারি থেকে গাছ কিনে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে নরসিংদীর খোদেজা রাবেয়া স্টলে বিক্রির জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে গাছ দিয়ে তৈরি বিমান, পাখি ও মোরগ।
মেলায় গাছের চারা লাগানোর জন্য বিভিন্ন আকৃতির ওয়াল, টেবিল ও ছাদ টব পাওয়া যাচ্ছে মৃৎশিল্প ও নার্সারির স্টলে। টবের মাটি সরবরাহের জন্য তৈরি হয়েছে একটি পেশা মাটি বিক্রয় কেন্দ্র। মেলার মূল ফটকের ডান পাশে কয়েকটি শিশু বিক্রি করছে আদর্শ মাটি। তেমনি ১২-১৪ বছরের দুই কিশোর রেজাউল ও পারভেজ। রেজাউল ও পারভেজ জানালো তারা প্রতি টবের জন্য এক ব্যাগ মাটি বিক্রি করছে ১০ টাকায়।
তাছাড়া গাছের পরিচর্যার জন্য পানির স্প্রে পট, সার, হরমোন ও কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে গাছের পরিচর্যার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মেলায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হলে মেলার মাঝখানে সুবিশাল টাওয়ারের নিচে বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলার অনুসন্ধান ও তথ্যকেন্দ্রে গিয়ে জানা গেল, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্রীত গাছের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮টি।
আমি অশথ্ব , ছাতিম , বট , তেতুল , হিজল এবং জাম গাছের বনসাই করছি । এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে গাছের গোড়া বেশি মোটা হযে গেলে এবং ডাল বেশি ছাটলে কোন সমস্যা হবে কিনা । গাছের বযস যথাক্রমে ৩ , ২ , ১ , ৬ মাস